যুবলীগের আত্বঘাতি খুনের প্রতিক্রিয়া

যুবলীগ নেতা শাহবাগি রিয়াজ মিলকী খুন হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।
এতোক্ষণে তার হিসাব নিকাশের খবর হওয়ার কথা।
পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালর কাছে প্রার্থনা করছি তাকে বুঙ্গা বুঙ্গা দেয়ার জন্য।
৫মে দিবাগত রাতে তিনি অস্ত্র হাতে পুলিশ-বিডিআর এর সহযোগী লীগার গুন্ডা বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
মাদ্রাসার নিরস্ত্র ও নিরীহ নিহত ছাত্র-শিক্ষকদের সাথেও তার দেনাপাওনার বিষয়টা আল্লাহ তায়ালা কঠিন ভাবে দেখবেন, এইটাও দোয়া।
পরকালীন বিষয় রেখে একটু দুনিয়াবী বিষয়ের দিকে তাকাই।
গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে তাকে খুন করে আরেক যুবলীগ কৃতি মুজিবসন্তান তারেক।

দুইটা সমস্যা হয়েছে।
প্রথমত, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে গেসে।
দ্বিতীয়ত, উত্তেজনার চোটে বেশি গুলি করতে গিয়ে নিজেও খাইসে। এরপর লুকায়া ক্লিনিকে ভর্তি হইসিলো, পুলিশ ধরে ফেলছে।

দুইটা বিষয় শিক্ষণীয়।
প্রথমত, তারেক পায়জামা পাঞ্জাবী পরে খুন করতে গিয়েছিলো। মাথার উপর টুপিও লাগাইসিলো কুত্তে কা এই আওলাদটি।
প্রত্যক্ষদর্শী সবাই বলতো হুজুরে মারসে।
পুরা দেশ নাচানাচি শুরু করতো জঙ্গিরা আবার কাম করসে। শিবির/হেফাজত দোষী।
ফেসবুকে বন্যা, পত্রিকায় কান্না আর টকশোতে হুল্লোড় পড়ে যেতো।
এইটা থেকে কেউ যদি এন্টি-পার্টির কিলার কেউ থাকেন শিক্ষা নেন।
কাজে যাওয়ার সময় কাজের পোষাক পড়ে যাবেন। এইটা ওয়ার্ক এথিক্স।
যুবলীগের কুত্তেটা ওয়ার্ক এথিক্স মেনেছে, কিন্তু দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করেনাই।
দ্বিতীয়ত, উত্তেজিত হইলে সব বরবাদ।
ক্লিন এন্ড প্রিসাইজ অপারেশন করতে হবে।
ব্যাকআপ দরকার, ঘটনার সময় আতংক ছড়ানোর জন্য ভয়াবহ আওয়াজ দরকার। রেকি করা দরকার, সিসিটিভি আছে কিনা তখনই দেখা যাবে। ঘটনার পরে যাওয়ার পর রিজভীকে পিষে যাওয়ার জন্য ওখানে একটা ট্রাক যাওয়ার দরকার।
কুইক, মেসি এবং কনফার্মড।
শাহবাগি আর পুলিশরা মিলে যে গণহত্যা চালাইসে তা প্রতিশোধ ছাড়া ছেড়ে দিতে রাজি নাই।

ইউসুফ কারাদাভি কি মিশরে জিহাদের ডাক দিয়েছেন?

এক বন্ধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইউসুফ ক্বারাদাভী সারা পৃথিবী থেকে মুসলিমদেরকে মিশরে গিয়ে জিহাদ করার আহবান জানিয়েছেন এ বিষয়টা কি সত্যি? ক্বারাদাভীকে যতদূর জানি, এখনই এ কথা বলে হঠকারিতা করার মানুষ তিনি নন।। তবু পৃথিবীতে কিছু অসম্ভব না। সোর্স কি? পেলাম নিউজইভেন্ট২৪ডটকমের লিংক।

আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন বড় কোন ঘটনা ঘটলে ধুমধাম বিকেলের মধ্যে একটা ব্রডশিট পত্রিকা বের হয়ে যেতো। দুই পাতার দাম এক টাকা। বিশাল লাল হেডলাইনঃ ডায়ানার মৃত্যু। তারপর পুরা পত্রিকা ভর্তি শুধু হেডলাইন আর হেডলাইনঃ ডোডি ফায়েদ ও ডায়ানার রঙ্গলীলা, যুবরাজ চার্লসের সাথে এক ভবনে থেকে একবছরে একবারও শারীরিক মিলন হয়নি (সাথে একটা বিকিনি পরা ছবি), স্বপ্নকন্যা ডায়ানার রুপচর্চার গোপন রহস্য, ডায়ানার প্রেমিকদের গোপন তালিকা গোয়েন্দাদের হাতে ইত্যাদি ইত্যাদি। অথবা কখনো হতো এইরকম, বিশাল মাষ্টহেডঃ প্রেসিডেন্ট এরশাদের পতন। আর পুরা পত্রিকা ভর্তি হেডলাইনঃ কে এই রহস্যময়ী রমণী জিনাত (সাথে একটা বিশাল সানগ্লাসওয়ালা ছবি), দুর্দান্ত যৌবনা মরিয়ম যেভাবে মেরী হলেন, এরশাদের রক্ষিতাদের ছলাকলা, অফিসে বসে যৌনজ্বালা মেটানোর সময় ফার্ষ্টলেডির হঠাৎ আবির্ভাব ইত্যাদি ইত্যাদি।

এগুলো নিঃসন্দেহে কোন না কোন পত্রিকা অফিস থেকে বের হতো। কিন্তু রেজিষ্টার্ড কোন পত্রিকার নাম থাকতো না। তখন মোবাইল ফোন ছিলোনা। মানুষের তাৎক্ষণিক কৌতুহলকে পুঁজি করে কামিয়ে নেবার একটা ভালো ধান্দা ছিলো। বিক্রি হতো হটকেকের মতো। আজকাল ইন্টারনেট আছে, মানুষের কৌতুহলও বেড়ে গেছে। নিউজইভেন্ট২৪, ডিনিউজ, বাংলানিউজ২৪, এক্সওয়াইজেডনিউজ, নিউজবিডি৪৯ এরকম শত শত আবর্জনা আছে। এগুলো সব বিশ্ব ইসলামী তথ্য সাংবাদিকতার সিপাহসালার আযাদ সাইমুমের পার্টি। একমুঠো বাস্তব ঘটনার সাথে তিন চিমটে মিথ্যা কিন্তু আকর্ষণীয় বয়ান একসাথে করে একগ্লাস পানিতে দিয়ে দাও ঘুটা ঘুউটা ঘউউউটা। এগুলাকে পাত্তা দেয়ার কিছু নাই।

যাইহোক, পাত্তা না দিলেও দুনিয়ার আবর্জনা থেকে বেঁচে থাকা সহজ না। যেই ছোটভাইটা এখন জিহাদী জযবায়েতে উজ্জীবিত হয়ে ফেসবুক ব্লগে আর নিজের লুঙ্গিতে আগুন লাগাচ্ছে তার অবস্থা দেখে একটু খারাপ লাগে। বেচারা ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা জিহাদ করার জন্য সদা উন্মুখ, কিন্তু একটা দেশীয় এলজি বানানোর মতো বুদ্ধি আর জ্ঞান নাই, এসএমজি তো পরবর্তী চৌদ্দ প্রজন্মের কথা। তখন নিজেকে বুঝাই কি-ই-বা করার আছে! যাইহোক, অন্য প্রসঙ্গ থাক। দুপুরে ঐ লিংকে শিরোনাম ছিলো “বিশ্ব মুসলিম মিশরে এসে যুদ্ধ করুন: কারযাভি”। ছয় সাত ঘন্টা পর এই মুহুর্তে ঐ আবর্জনার শিরোনাম হলো “বিশ্ব মুসলিম মিশরে মুরসিকে সমর্থন করুন: কারযাভি”। আবর্জনার বোধোদয় হইসে।

একটু সার্চ দিলাম অনলাইনে। বিশাল ব্যাপার। সারা দুনিয়ায় খবর হয়ে গেছে। ইজরায়েলী পত্রিকা, খ্রিষ্টান অধিকার আন্দোলন, বজরংবলীর দল স্বয়ং সেবক স্বংঘ, মিশরের সেকুলার টিভি ও পত্রিকাগুলো এমনকি আল-আহরাম পর্যন্ত (আল-আহরাম হলো বাংলাদেশের প্রথম আলো) খেপে একাকার। ক্বারাদাভী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদেরকে মিশরে গিয়ে জিহাদ করতে ও শহীদ হতে বলেছেন/ সংঘাত উস্কে দিয়েছেন/ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি কিছুটা ভড়কে গেলাম। বাউরে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হচ্ছে আর একজন সচেতন নাগরিক হয়ে কিছুই জানিনা। জিহাদ করতে না পারি একটু সমর্থনও তো দিতে হবে। এইসব মিডিয়ার নাটের গুরু সবচেয়ে কট্টর ইসলামোফোবিক ও ভন্ড নাস্তিকদের আস্তানা জিহাদওয়াচ সাইটেও দেখি মারাত্বক ও ভয়াবহ বর্ণনা। সাথে ভিডিওর লিংক। অস্বীকার করার উপায় আছে? হুহ!

জিহাদওয়াচে দেখার পর প্রথম অনুভব করলাম কোথাও কোন গড়বড় আছে। শাহবাগিরা যখন বলে মদীনা সনদ ভালো তখন তার গভীর ও অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা থাকে। ব্যাপারটা ঠিক একইরকম সারা দুনিয়াতে। আর ক্বারাদাভী যদি মিশরে গিয়ে জিহাদ করার আন্তর্জাতিক আহবান জানান, তাহলে বিবিসি সিএনএন ফক্স নিউজ এতো সুবোধ বালকের মতো চুপচাপ বসে ডুডু খাওয়ার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু তাদের একটা ন্যুনতম মান আছে, তাই মনে যতই ইচ্ছা থাকুক জিহাদওয়াচের পর্যায়ে নামতে পারতেছে না। আর সেই জিহাদওয়াচের বাজানো পিয়ানোর তালে তালে আমার জিহাদী ভাইরা উদ্বাহু গিটার বাজিয়ে যাচ্ছেন। বাজান। কার কি করার আছে?

ক্বারাদাভীর মূল বক্তব্যটা ৩১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড। ইউটিউবে আপলাড করেছে ইসলামফাইলসটিভিওয়ান ২৭ তারিখে। এ ৫ দিনে দেখা হয়েছে ২৮,২২১ বার। কিন্তু বাংলা ইংরেজি আরবী কোন সার্চ দিয়েই এটাকে সহজে পাবেন না। যেটা সবচেয়ে সহজে পাবেন তা হলো আদদীনু লিল্লাহ নামের কোন জিহাদী হারামজাদার আপলোড করা ১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ক্লিপ। আগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা বাক্য বাদ দিয়ে আউট অভ কনটেক্সট আপলোড করে মিথ্যা শিরোনাম দিয়েছে “কারাদাভী ফতোয়া দিয়েছেন যে মিশরের সৈন্যদেরকে হত্যা করা বৈধ এবং সারা পৃথিবীর মুজাহিদদেরকে আহবান করেছেন দক্ষ সৈন্যবাহিনীকে হত্যা করার জন্য” এইটা আপলোড হয়েছে ২ দিন আগে এবং দেখা হয়েছে এ পর্যন্ত ১৭২,৯৪৫ বার। মূল ভিডিওটার বহুগুণ বেশি।

এই জিহাদীকে হারামজাদা ডাকার কারণে রাগ করছেন?  খাড়ান। জাষ্টিফিকেশন আছে। আউট অভ কনটেক্সট বাটপারি অনেকেই করে, কিন্তু এই ছাগলটা পিউর হারামজাদা। সে এই ক্লিপ নিয়েছে অন্য একটা ক্লিপ থেকে, লাইট-ডার্ক ডটনেট নামে একটা কট্টরপন্থী খ্রিষ্টান গ্রুপের ওয়েবসাইট ক্বারাদাভীর ৩১:১৪ মিনিটের পুরো বক্তব্য থেকে ৭ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটা কাটপিস বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছে এভং তাতে নিজেদের লোগো বসিয়ে দিয়েছে। মূল ভিডিওটা এডিট করে তারা ফ্রেম ছোট করে এনেছে যেন সামনে রাখা আল জাযিরার লোগোওয়ালা মাইকটা দেখা না যায়। লাইট-ডার্কের ঐ ভিডিওটাও দেখা হয়েছে এ পর্যন্ত ৫২,১২৬ বার। এই জিহাদী হারামজাদা মূল ভিডিওটাও দেখেনাই। লাইট ডার্কের ভিডিও থেকে তার দুই মিনিটের ক্লিপ কেটে নিয়েছে। মূল ভিডিওটা খুজে পেতে আমার সময় লেগেছে আধাঘন্টারও বেশি। কারণ তার বর্ণনা ও কীওয়ার্ড সম্পূর্ণ আলাদা, আলজাযিরার নিজস্ব চ্যানেলেও আপলোড করা নেই। কিন্তু জিদ চেপে গিয়েছিলো। যে কেউ সার্চ দেবে আর লাইট ডার্কের ভিডিওটা দেখবে। কারাদাভী কোন কথা বলা শুরু করলে প্রথমে অবশ্যই আল্লাহ ও রাসুল সা. এর হামদ সানা পড়েন। ঐটা কোথায়? ঐ ভিডিওর শিরোনাম হলো “সাতাশ তারিখে রাবেয়া আদাবিয়্যা চত্বরের গণহত্যা প্রসঙ্গে ইউসুফ কারাদাভীর মন্তব্য”। এইটা কেউ খুঁজে পাবেনা। কিন্তু জিহাদওয়াচের দেয়া জিহাদের কাটপিস আহবান দেখে জিহাদ করার জন্য রওনা হয়ে যাবে। আমার ব্যাক্তিগত অভিমত, এদের পিছনে শক্তিশালী রকেট ভরে আগুন লাগিয়ে দেয়া দরকার। দ্রুত উড়ে চলে যাবে জিহাদ করার জন্য। বেকুবদেরকে রেখে পৃথিবীর ওজন বাড়িয়ে লাভ নেই। এমনিতেও, পৃথিবী বেকুবদের জন্য না।

যে জায়গাটাতে বিশ্ব মুসলিমের কথা আছে তার অনুবাদ নিচে দিচ্ছি। যদি মূল সোর্স না পেতাম তাহলে অনুবাদ শেয়ার করতাম না। কারণ লাইটডার্ক অথবা জিহাদওয়াচের পক্ষে এডিটেড ভিডিও বানানো অসম্ভব কিছু না।

১৯:৩৮ মিনিট থেকে শুরু “দু:খের বিষয়, মিশরের বাইরে সাংবাদিকেরা, কিছু সাংবাদিক ছাড়া আর যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেছেন আর তারা সংখ্যায় খুবই কম, আর কোথাও মিশরের সাংবাদিকরা, তারা সবাই মিথ্যা বলছে। ওরা মিথ্যা বলছে আল্লাহর কাছে মানুষের কাছে আর এই জাতির কাছে। কল্পনা করেন মিলিয়ন মানুষকে। ওদেরকে আমরা দেখেছি রাবেয়া আদাবিয়্যা স্কয়ারে। মিশরের বিভিন্ন স্কয়ারে। মোট ৩৫ টা স্কয়ারে আমরা তাদের দেখেছি। কিন্তু মিশরের মিডিয়া, টিভি চ্যানেল, রেডিও, পত্রিকাগুলো কাউকে এর কোন কিছুই দেখায়নি। আমি আরব লীগকে বর্তমানে মিশরে যা হচ্ছে তাতে ভূমিকা রাখার জন্য আহবান জানাই। ওআইসিকে আহবান জানাই। জাতিসংঘকে আহবান জানাই। আরব লীগের কাছে আহবান করছি। নিরাপত্তা পরিষদকে আহবান করছি। সারা পৃথিবীর সমস্ত সভ্য মানুষের কাছে আহবান করছি। আমি তাদের সবাইকে আহবান জানাই যেন তারা মিশরে আসে এবং দেখে কি হচ্ছে এখানে। হায় মিশরের মানুষ। আমি সারা পৃথিবীর মুসলিমদেরকে আহবান করছি। সব জায়গা থেকে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, সব দেশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, সোমালিয়া, ইরাক, ইরান, লিবিয়া, তিউনিসিয়া সিরিয়া লেবানন ফিলিস্তিন জর্ডান। পৃথিবীর সব দেশে। আমি তাদেরকে আহবান জানাই তারা যেন এর স্বাক্ষী হয়। আল্লাহ তাদেরকে শীঘ্রই কেয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করবেন, এই যে মানুষের উপর গণহত্যা চালানো হয়েছে তোমরা কি তা দেখেছিলে? এই পাশবিক গণহত্যা? আল্লাহর কসম, যখন আমি একে বর্বরতা নাম দিলে সত্যিকার পশুদের প্রতি অবিচার করা হবে। মানুষ যা করছে তা দেখে পশুরাও সংকোচ করবে। কাউকে খেতে চাইলে ওরা হত্যা করে এবং খায়। এভাবে হাজার হাজার হত্যা করেনা। এরা পশুর চেয়েও খারাপ …………….। আমি সারা দুনিয়ার সব মানুষকে আহবান করছি। একজন পুরুষের উচিত অবস্থান নেয়ার জন্য তাদের আহবান করছি। সভ্য ও স্বাধীন মানুষর যেমন হওয়া উচিত। সারা পৃথিবীর সভ্য ও স্বাধীন মানুষদের কাছে আহবান জানাই, তারা যেন এখানে আসে এবং এই মানুষের উপর চালানো গণহত্যা দেখে। গতাকল মিশরের এক ছোট গ্রামে ………. ”

“আমি তাদেরকে আহবান জানাই তারা যেন এর স্বাক্ষী হয়”। এখানে স্বাক্ষী শব্দটার আরবী হলো শহীদ। কারাদাভী বলেছেন ‘ইয়াকুনু শোহাদা’ অর্থ ‘তারা স্বাক্ষী হয়’। আগের ক্রিয়াপদ ‘কা-না’ দিয়ে এটা পরিস্কার। এ নিয়ে জিহাদওয়াচও ত্যানা পেচায়নাই। তারা বলেছে, কারাদাভী জিহাদের ডাক দিয়েছেন। কেউ বলেনাই যে শহীদ হওয়ার ডাক দিয়েছেন। এইটা নিয়ে গিরিংগি করার চিকন বুদ্ধি বাংলাদেশী কারও থাকলে থাকতে পারে।

কারাদভীর বয়স হয়েছে, অবসরে যাওয়া দরকার ন্যাচারালি। কিন্তু এখনো অন্তত এতোবড় পাগল হননাই যে একটা দেশীয় আভ্যন্তরীন সমস্যাকে আন্তর্জাতিক জিহাদ বানিয়ে দেবেন। ফিলিস্তিনী আর সিরিয়ানদেরকে তাদের দেশ বাদ দিয়ে মিশরে এসে জিহাদ করতে ডাকবেন। যদি মিশরের অবস্থা সিরিয়ার মতো হয় তাহলে তিনি এমনিতেই আহবান করবেন। তার আগ পর্যন্ত আপনার বেশি ইচ্ছা হইলে কারাদাভীর মুখে কথা না তুলে দিয়ে নিজেরটা নিজে বলেন। বি আ ম্যান! আর খুব বেশি ইচ্ছা হইলে, এখনি মিশরে গিয়া জিহাদ করার জন্য আর তর না সইলে উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে রকেটে উঠে যান। আল্লাহ আপনার রকেটযাত্রা সফল করুন।

http://www.youtube.com/watch?v=nx9–rUUvkA#at=982

ইসলাম ও নারী অধিকারের সংঘর্ষ লাগিয়ে শাহবাগি ফায়দা

কিছুদিন থেকে একটা নতুন ট্রেন্ড দেখছি। আগ্রহের সাথেই খেয়াল করছি। একজন প্রগতিশীল তার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জীবনে দেখতে থাকা একটা ঘটনা বলা শুরু করলো, কিভাবে একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে সমস্ত সমস্যার প্রতিকূলে গিয়ে পড়ালেখা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। খুবই ভালো লাগে জানতে। পড়তে পড়তে শেষে গিয়ে ষ্ট্যাটাসদাতা আচমকা হুংকার ছাড়েন, কোথায় সে আল্লামা শফী? তাকে এই জীবনসংগ্রামটা দেখাতে ইচ্ছা করছে।

আরেকজন বলা শুরু করেন তিনি শপিংমলে গিয়েছেন তারপর বোরকা পড়া কয়েকটা মধ্যযুগীয় উটনী এসে তার দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে ছিলো। তারা তাকে কাফের মনে করছিলো, কারণ তিনি বোরকা পরেননাই। শেষে গিয়ে সেই অপেক্ষমান চিল্‌চিক্কুর, এই বাংলাদেশে আল্লামা শফীদের ঠাই হবে না। হবে না হবে না।

আরেকজন আটপৌড়ে ভাষায় মমতা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেন বস্ত্রবালিকার জীবন সংগ্রামের কথা। পড়তে পড়তে মনে হয় আহা, আমি নিজেই একজন প্রাকৃতজন হয়ে হেটে যাচ্ছি গার্মেন্টসকর্মীদের দলের সাথে। তাদের হাসি আনন্দ দুখে আমি মানুষ হিসেবে আলোড়িত হচ্ছি। তাদের জীবনসংগ্রামের বোধ অনুভব করে শ্রেণীসংগ্রাম, পুঁজির বিকাশে প্রলেতারিয়ার ত্যাগ…… হঠাৎ কড়া ব্রেক! এবং হুংকার। এই কর্মী নারীদের বিরুদ্ধে বলতে চায় আল্লামা শফী। কত বড় স্পর্ধা।

এইমাত্র একজন দেখলাম ঢাকার এক শপিংমলে ফুডকোর্টে খেতে গিয়ে সংগ্রামী এক মেয়ের জীবনসংগ্রাম দেখে আপ্লুত হয়েছেন। সেই সংগ্রাম, তিলতিল করে গড়ে উঠা স্বপ্ন, ভবিষ্যতের আশা এইসব বলতে বলতে অনিবার্য সেই হুংকারে ফেটে পড়েছেন। কোথায় আল্লামা শফী? আয় আইজকা!! তোর একদিন কি আমার একদিন।

আল্লামা শফি তেতুলদেরকে তেতুল বলে বিরাট অপরাধ করসেন। এখন পুরা বাংলাদেশের শাহবাগি জানোয়ারের দল এক কোরাস গলায় নিয়া লুঙ্গি পেটিকোট লেগিংস পেন্টি জাইঙ্গা সব খুইলা নামসে।

যাউকগা। আমার ব্যাক্তিগত মতামত হইলো, আমি খুশী শাহবাগিদের এই উল্লম্ফন দেখে। এতোদিন তাদের অজুহাত ছিলো একটাই। ইসলামপন্থীরা স্বাধীনতার শত্রু। কত্ত মধুর সেই স্বাধীনতা! হাহাহাহা। স্বাধীনতার জুস খেয়ে আর ভুয়া ট্রাইবুনালের নাটক দেখে পাবলিকের কাছে সেই অজুহাতের মার্কেট শেষ। এখন মানুষ স্বাধীনতার চেতনার মাথার উপর মুতে।

তাই শাহবাগিরা নতুন রশি আকড়ে ধরসে। ইসলাম মেয়েদের বিরুদ্ধে। এইটা দেখে আমি খুশি কারণ এই স্পেসিফিক রশিটা আকড়ায়া ধরা ইতিহাসের অনিবার্য ধারাবাহিকতা। ঠিক এভাবে পৃথিবীর সবগুলা মুসলিম দেশে সেকুলার শাহবাগি জানোয়ারগুলা এই কার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করসে। বাংলাদেশে জোরেশোরে নতুন কইরা শুরু হইলো, এই যা পার্থক্য। একদিন এইদেশে এলকোহল খাওয়া নিয়েও শাহবাগিরা ইসলামকে আক্রমণ করবে, চ্যালেঞ্জ দিয়া বললাম।

আর নারী অধিকারের কার্ড খেলায় সেকুলার জানোয়ারদেরকে ইসলামপন্থীরা উল্টা লাথি দিতে পারবে সেইদিন, যেইদিন তারা বুদ্ধিমান হবে। নারী পুরুষে অলংঘনীয় একটা পার্থক্য আছে। আমি একটা পোলা হয়া সমঅধিকার ও নারীর সম্মান যদি প্রতিদিন একলিটার শরবত বানায়াও পান করি, তবু আমি নারীদেরকে নারীর মতো বুঝতে পারবো না। এই পার্থক্যটাকে সম্মান করা উচিত, স্বীকার করাই আপাতত বুদ্ধিমানের কাজ।

আল্লামা শফির দল যেদিন যোগ্য, বুদ্ধিমান, পড়ালেখা জানা, সৃজনশীল ও স্বাধীন চিন্তা করা মেয়েদের মুখ দিয়ে ইসলামপন্থীদের উত্তর উপস্থাপন করাইতে পারবেন, সেইদিন হয়তো কিছু আশা করা যাইবে। তার আগে পর্যন্ত এই কুত্তে কা আওলাদ শাহবাগিদের হুংকার শুনে বিনোদন নিয়ে যাই। দেশের নতুন ‘প্রজন্ম’ গুলার প্রচুর পোলাপান এই শাহবাগি ডিসকোর্সে প্রভাবিত হবে, কিন্তু আমার কি করার আছে? জাফর ইকবাল নবীর কথায় লক্ষ লক্ষ প্রভাবিত হইসে। আমি কি কিছু করতে পারসি? এইটা আল্লাহরই নিয়ম। যোগ্যতা যার আছে, তার হাতেই ছাগলের দড়ি থাকবে।

আল্লাহ মেহেরবান। ইয়া এলাহী ……

আরবদের আচরণ ও বিচার

অনেকে ভাই আছেন যারা আরব শুনলে কাত হয়ে পড়েন। আর আল্লাহ রসুলের দেশ! শুনলে তো পারলে উপুড় হয়ে যান। আরে ভাই, ওরাও মানুষ। ওদের দেশে যেমন ভালো মানুষ আছে, তেমন জানোয়ারও আছে। জানোয়ারের রেশিও বরং বেশি। অনেক আরব আছে যারা শাহবাগিদের চেয়েও খারাপ।

ইন জেনারেল আরবদের আচরণ কেমন একটা সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে দেখা যাক। গালফ কান্ট্রিগুলোতে যারা থাকেন তারা ভালো করেই জানেন, এ ধরণের ঘটনাই ওখানে সাধারণ ও নিত্যদিনের বিষয়।

দুবাইতে এক সরকারী কর্মকর্তার ফোর হুইল ড্রাইভের সাথে বিদেশী এক ওয়ার্কার ড্রাইভারের গাড়ির ধাক্কা লাগে। সেই কর্মকর্তা রাস্তায় নেমে তাকে হাত আর ইগাল (মাথায় পড়ার চাকতি, এই জিনিসের মাইর খুব খারাপ, বেল্ট এর চেয়েও বেশি ব্যাথা লাগে) দিয়ে মারতে থাকে। বেচারা ড্রাইভার কুকড়ে মুকড়ে মার খেতে থাকে। এপিয়ারেন্স পরিস্কার না, লোকটা সুদান, তামিল অথবা বাংলাদেশীও হতে পারে। এক সময় এক দয়ালু ইজিপশিয়ান এসে আমাদের আরব মুমিন ভাইকে শান্ত হতে অনুরোধ জানায়। তবু তার জোশ থামেনা।

দুর্ঘটনায় যদি সেই বিদেশী ড্রাইভারের দোষ হয় তাহলে তাকে শাস্তি দেয়ার জন্য ট্রাফিক/আইন/আদালত আছে। কিন্তু আরবদের কাছে এইগুলা ব্যাপার না। তবে সেই ড্রাইভার যদি সাদা চামড়ার আমেরিকান বা ইউরোপিয়ান হতো তাহলে দুবাই এই সরকারী কর্মকর্তাই রাস্তার উপর উপুড় হয়ে তার পা চাটতে থাকতো।

পাশে থাকা গাড়ি থেকে আরেকজন পুরো ঘটনাটা ভিডিও করে ফেলে। সে ভিডিও ইউটিউবে এসে সাড়া ফেলে দেয়। দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে মামলা হয়। পাশাপাশি সরকারী কর্মকর্তাও ভিডিও যে করেছে তার নামে মানহানির মামলা ঠুকে দেয়।

একমাস দড়ি টানাটানির পর আজকে দুবাই এর এটর্নি জেনারেল ঘোষনা দিসে, মার খাওয়া ড্রাইভারের কোন অভিযোগ নাই, তিনি অনেক সুখী হয়েছেন। আর সুতরাং মামলা ড্রপ। একই প্যাকেজে কর্মকর্তার মানহানির মামলাও ড্রপ হয়েছে। আমরাও বুঝতে পারছি। সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে থাকিলো।

যেই ভদ্রলোক সরাসরি বলেছিলেন ‘আমার মেয়ে ফাতিমাও যদি চুরি করে, তার হাত কাটা হবে’, সেই রাসুল সা. এর স্বজাতি আল্লাহ রসুলের দেশ! আরবের অবস্থা এখন এটা। একটা মানুষের ডিগনিটি, অধিকার ওখানে কোন ব্যাপার না। যদি আপনি হন গরীব দেশ থেকে আসা ক্রীতদাস। সরকারী কর্মকর্তা বলে কথা। আর রাজবংশের কেউ হলে তো কোন কথাই নাই। এইসব দেশের জানোয়ার শাসকদের জন্য মুরসী এরদোগান আহমেদিনেজাদদের মতো শাসকরা শত্রু হবে। এইটাতে অবাক হওয়ার কি আছে?

http://www.youtube.com/watch?v=cpXg4tWYsLk

শাহবাগি পান্না মাষ্টারের যৌনতা

কুষ্টিয়ার পান্না মাষ্টারের দোষ কোথায় আমি বুঝছি না।
দেড়শ ছাত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে, ভিডিও করেছে বছরের পর বছর ধরে, তাই বলে এতো বিচলিত হওয়ার কি আছে?
আপনিই না বলেন বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবল!!
কেউ তো ধর্ষণের অভিযোগ আনেনাই, কেউ থানায় যায়নাই হাসপাতালে যায়নাই।
সুতরাং এতো লাফালাফি করার কি আছে? এইগুলা বন্ধুত্বের ভিডিও, ভালোবাসার ভিডিও।
আপনেই না আপনার মেয়েকে নতুন নামের ড্রেস কিনে দেন? তো নতুন আদর্শের সাথে তাল মিলালে খেপেন কেন ভাই?
পান্না মাষ্টার তো আপনার বোন বা মেয়ের বন্ধুই হয়েছিলো। কত প্রগাঢ় বন্ধু!
আপনে জাফর ইকবালের সাথে সুর মিলান, বয়সটা হলো ভালোবাসার রঙে রাঙ্গানোর।
তো ভালো কথা। পান্না মাষ্টার ভালোবাসার রঙ দিতে কত সংগ্রাম করে যাচ্ছে বহুদিন যাবত।
এই যে ক্লাশ এইট থেকে শুরু করে অনার্স পর্যন্ত, মেয়েগুলোকে এতো বছর ধরে ভালোবাসা দিয়ে গেলো, ভালোবাসার অডিও ভিডিও করে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়ার জন্যও কত কষ্ট করলো, এখন তার বিরুদ্ধে লাগলেন কেন?

বাংলাদেশের প্রতিটা স্কুল কলেজে একটা করে পান্না মাষ্টার নিয়োগ দেয়া হোক শাহবাগি চেতনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য।
পান্না মাষ্টারদের প্রতি অবিচার করবেন না।
পান্না মাষ্টারদের নিন্দা করলে তো আল্লামা শফীর প্রশংসা করতে হয়।
সেইটা যখন সম্ভব না ..
বাংলাদেশের প্রতিটা শাহবাগির পরিবারে পান্না মাষ্টারদের আশীর্বাদ আসুক। ভালোবাসা হোক, বন্ধুত্ব হোক, হোক নারী স্বাধীনতার বাস্তবায়ন।
বাস্তবায়ন হওয়ার পর আল্লামা শফি সম্পর্কে ডাবল ষ্ট্যান্ডার্ড জানোয়ারগুলার মতামত নেয়া হবে।

রাবেয়া স্কয়ারের শহীদ

গত সপ্তাহে রাবেয়া স্কয়ারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, এমন সময় গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেলো। বাধ্য হয়ে খোঁজ করতে লাগলাম আশেপাশে কোন মেকানিক আছে কি না। ওখানে কেউ কেউ বললো, রাবেয়া স্কয়ারের অবস্থান ধর্মঘটে একজন মেকানিক থাকার কথা। সেই মেকানিককে খুঁজতে খুঁজতে আমি শেষপর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের ওখানে গেলাম।

ওদের তাঁবুতে লোকজন তাকে “ইলেকট্রিশিয়ান মুহাম্মদ” বলে ডাকছিলো। যখনই কোন গাড়িতে সমস্যা হয়, তাঁর ডাক পড়ে। আমার মনে হঠাৎ একটা ধারণা আসলো। এতো মানুষ এখানে! আমার মতো যাদের এরকম গাড়ি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে এই এলাকায়, তাদের কাজ করে হয়তো কিছু বাড়তি উপার্জন করার জন্য সে এখানে আছে। কিন্তু আমার গাড়ি ঠিক করে দেয়ার পর সে কোন পারিশ্রমিক নিলো না!

সুতরাং আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: দেখে মনে হচ্ছে আপনি বেশ কিছুদিন ধরে এই বিক্ষোভে আছেন। কাজ না করলে আপনার বাড়িঘর চলবে কিভাবে?

তাঁর উত্তর ছিলো: গত বিশ বছর ধরে আমি কাজ করেছি আর এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করেছি। টাকাপয়সা মোটামোটি ভালোই হয়েছে, পরিবারের জন্য একটা বাড়ি বানিয়েছি। আমার মেয়েদের প্রতিপালন করেছি এবং তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এখন আছি আমি আর আমার স্ত্রী। সুতরাং তার বেশি সমস্যা হলে বাড়িটা বিক্রি করতে পারবে এবং মোটামোটি চলে যাবে।

তাঁর উত্তরে অবাক হয়ে গেলাম। “আপনি কি আর পরিবারের কাছে ফিরবেন না?”
উত্তর পেলাম “আমার জন্য দোয়া করেন, যেন এখানে আমার মৃত্যু হয়। আমি আল্লাহর কাছে শুধু চাচ্ছি, যদি এখানে মারা গেলে আমার শহীদি মৃত্যু হয়, তবে তাই যেন হয়”।

আমরা টেলিফোন নাম্বার দেয়ানেয়া করলাম। ঐদিনের পর থেকে প্রায় তাঁর সাথে ফোনে কথা হতো। আমার খোঁজখবর নিতে দিনে একবার হলেও তিনি ফোন করতেন। গতরাতে তিনি আমাকে বলেছিলেন “তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে যান, বাচ্চারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আজ রাতই শেষ রাত, একটা কিছু হয়ে যেতে পারে”।

এরপর তাঁর আর কোন ফোন পাইনি। যখন গণহত্যার কথা শুনলাম, তাড়াতাড়ি তাঁর নাম্বারে ফোন করলাম। পরপর তিনবার যখন তিনি ফোন রিসিভ করলেন না, আমার মনে হলো হয়তো তাঁর দোয়া কবুল হয়ে গেছে। তাঁর নাম্বারে একটা এসএমএস দিয়ে রাখলাম “মুহাম্মদ, মনে হয় আপনি এই মেসেজের উত্তর দিতে পারবেন না। তবে আমি একান্ত আশা করি শেষপর্যন্ত আপনার চাওয়া সঠিক উদ্দেশ্যটা আপনি খুঁজে পেয়েছেন”।

কিছুক্ষণ পর একটা ফিরতি এসএমএস পেলাম “তিনি ছিলেন আল্লাহর উপর বিশ্বাসী, এবং একজন বিশ্বাসীর মতোই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমার নাম ডা. তারিক, ফিল্ড হসপিটালে কাজ করছি। মেহেরবাণী করে তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারলে তাদের এখানে আসতে বলবেন, যেন তারা দাফনের আগে জানাযায় শরীক হতে পারে।”

– লী তোয়হী’র লেখা। শায়খ খালিদ ইয়াসিনের ফেসবুকে পেজে শেয়ার করা এবং ওখান থেকে নিয়ে ভাবানুবাদ করা।

দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ

দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সনদ ছাড়া সরকারী চাকরীতে নিয়োগ না দেবার আহবান জানালেন দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধারা। আজকের জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তারা এ আহবান জানান। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সম্মেলনে প্রতিনিধিরা প্রশ্ন উত্থাপন করেন, শাহবাগ যদি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হয় আর ইমরান চাদর যদি দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু হয় তাহলে থাবা বাবা এবং আপোষে জেল খাটা চার নাস্তিক ব্লগার কেন বীরশ্রেষ্ঠ হবে না। তারা সম্মেলনের পক্ষ থেকে জানান, সকল শাহবাগি অবদানকারীকে যার যার অবদান অনুযায়ী বীরউত্তম ও বীরপ্রতীক খেতাব দিতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু বলেন, সকল দাবী বিবেচনা করা হবে। তিনি নতুন প্রজন্মকে দ্রুত দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহের আহবান জানান। এই সনদ না থাকলে স্বয়ং আইনষ্টাইন আসলেও কোন সরকারী চাকরী পাওয়া যাবেনা বলে তিনি অবহিত করেন। প্রজননচত্বর ডটকমে রেজিষ্ট্রেশন করে এ দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়া যাবে। এ জন্য চটিলেখক পিয়াল মামার কাছে কাঠালপাতা টেষ্ট দিয়ে রেজাল্ট নেগেটিভ হতে হবে এবং যথাযথ উৎকোচ দিতে হবে। ধন্যবাদ।

মাধুরী সাংবাদিকতা

মনের মাধুরী মিশিয়ে সাংবাদিকতা, মজ্জা‌ই আলাদা। উফফফফ ভাবতেই আনন্দে ‘জলে চোখ ভরে যায়’!

প্রিয় ভায়েরা ও লক্ষী আপুরা! আমরা এখন একটা সংক্ষিপ্ত কর্মশালা করবো। প্রথমে একটা ছবি নিতে হবে।
তারপর আপনাকে গভীর মনযোগ দিয়ে কনটেক্সট চিন্তা করতে হবে।
তারপর চুড়ান্ত অভিনিবেশ সহকারে ভাবতে হবে, অডিয়েন্স কি খাবে। এইটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর মোটামুটি কাজ শেষ। এখন আবেগ থরোথরো একটা ক্যাপশন দিলেই আপনার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দায়িত্ব সমাপ্ত।

উদাহরণস্বরুপ, আমরা একটা ছবি নিলাম আকাশে ড্রোন বিমান উড়তেসে। উপরের পদক্ষেপগুলো ফলো করলাম। তারপর ক্যাপশন দিলাম “আতঙ্কিত মুসলিম জনপদের নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গতকাল বিকেলে কাশ্মীরের আকাশে মারণাস্ত্র বহন করে ধেয়ে আসছে দিল্লীনিয়ন্ত্রিত সুপারসনিক ড্রোন”। উরে বাপ্রে, শেয়ার আর কমেন্ট। জাযাকাল্লাহু খায়রান আখি। ওয়াল্লাহে আপনি না থাকলে আজকে তো জানতেই পারতাম না। হায়রে ভাই আর বইলেন না পুরা দুনিয়ায় মুসলিমরা নির্যাতিত। কুফফার আসছে খেলাফত কাঁপছে। এইবার একটা কিছু হবে।

এভাবে আমরা দ্বীনের খেদমত করতে পারি। এখন আমরা কেস ষ্টাডির দিকে যাবো।

গত পরশু বাইশ তারিখ কায়রোতে আমেরিকান দুতাবাসের পাশে ইসলামপন্থী ও শাহবাগিদের সংঘর্ষ হয়। ওখানে মিশরের এক অভিনেতা তারিক নাহরি নিজেই পিস্তল হাতে মুরসী সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে নেমে পড়ে। ঐ ছবি নিয়ে গতকালকে আমি আক্ষেপও করেছিলাম, সবদেশে শাহবাগিদের মিল প্রসঙ্গে। ছবিটা দিয়ে আপনি গুগুল ইমেজ সার্চ করলে প্রথমেই আল ওয়াসাত নিউজপোর্টালের লিংক আসে। ওখানে বিশাল গাব্দাগোব্দা অক্ষরে হেডলাইনে ঐ অভিনেতা শিল্পীর নাম পর্যন্ত দেয়া আছে।

যাইহোক এগুলা কোন বিষয় না। আসল বিষয় হলো আপনি ছবিটা কোন একভাবে পেয়েছেন। এখন আপনি বস্তুনিষ্ঠ মাধুরী সাংবাদিকতা করবেন। উপরের পদক্ষেপগুলো ফলো করুন। তারপর ক্যাপশন দিন “আমেরিকা দুতাবাস কায়রোর সামনে মোবারক আমলের সেনা সদস্য এভাবেই মুরসি সমর্থকদের উপর প্রকাশ্যে গুলি করে”। দুর্দান্ত!!! ‘সেনা-সদস্য’ পড়ে সবাই একটু নড়ে চড়ে বসবে। “মোবারক-আমল” হু হু বুজসি, সব আসলে ষড়যন্ত্র। দেখসো? বলসিলাম না!

এভাবেই আপনি কত বিশাল একটা মেসেজ দিয়ে দিলেন, জনগণকে লাড়ালেন, এবং মাধুরী সাংবাদিকতাও করলেন। এক ঢিলে তিন পাখি। আমরা ছাড়া এইরকম পাখি আর কে মারতে পারবে বলেন? কারণ আমরা জানি ইসলামে অনেক ঘাটতি আছে (ইয়ায বিল্লাহ)। সব কাজ সত্য দিয়ে হয়না। সিষ্টেম করে কাজ করতে হয়, এটাই দুনিয়ার নিয়ম। তাই না?

আমাদের কর্মশালার শেষ পয়েন্টটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনমতে গুগল ইমেজ সার্চ (যেই বদমাইশ বানাইসে সে ধ্বংস হউক) দিয়া দুষ্ট পাবলিকে যদি বিরক্ত করে তাহলে এইসব গায়ে লাগাবেন না। আমাদের হইলো পাহাড় সমান বস্তুনিষ্ঠতা, দুই একটা ঝামেলায় কি আসে যায়। তারপরও ভগিচগি বন্ধ না হইলে আমাদের কর্তব্য হলো ব্যাখ্যা দেয়া। ব্যাস আপনার কাজ শেষ।

যেমন কাবার ইমামের মানববন্ধন নিয়া ধরা খাইলে ব্যাখ্যা দিবেন ঐটা ফাইল ফটো। সাংবাদিকতায় এই রেওয়াজ আছে। অথবা ধরেন, এই অভিনেতা তারিক নাহরির ফটু নিয়া ধরা খাইলে ব্যাখ্যা দিবেন মিশরে আঠারো থেকে ত্রিশ বছর বয়সী সব পুরুষের সেনা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। সুতরাং সে অভিনেতা হোক শিল্পী হোক আর যাই হোক, সে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। মুরসী নিজেও মোবারক আমলের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য!! হু হু। আর কোন কথা আছে এর পর?

সবাইকে ধন্যবাদ। যাদের যাদের কর্মশালার ফি বকেয়া আছে মানিবুকার্সে পাঠায়া দিবেন। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অমর হোক।

আযাদ সাইমুম

ব্রেকিং নিউজ: জোসেফ গোয়েবলসের ইসলামী ছাগু ভার্সন আযাদ সাইমুম ভাই আবারও সফলভাবে একটি ওভার দ্য বাউন্ডারী হাঁকিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা দ্য অনিয়ন বৃটেনের রাজপুত্রের খবর সরিয়ে নতুন প্রধান শিরোনাম করেছে “আযাদ সাইমুম ষ্ট্রাইকস এগেইন: এবসলিউট ফাক্ব-আপ”।

আযাদ সাইমুম ভাই এর পিতৃপদত্ত নাম আবুল কালাম আযাদ। চেনা চেনা লাগে? তবু অচেনা। জ্বি। তিনিই আমারদেশ, বৈশাখী, দিগন্ত, বাংলাভিশন, বাশেরকেল্লা বিভিন্ন প্রচলিত ও অপ্রচলিত ধারার সংবাদমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য পৃতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। মিশরের কায়রোতে থাকেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে (আল আযহার অথবা কায়রো) পড়ালেখা করছেন বাংলাদেশের এই কৃতী সন্তান ও দ্বীনি খাদেম। কায়রোতে বসে তিনি মিশর সউদী আরব তুরস্ক প্রভৃতি অঞ্চল কাভার করেন।

তার ক্যারিয়ারে প্রথম উল্লেখযোগ্য মেডাল অভ অনার যোগ হয় কাবার ইমামের মানববন্ধন সংবাদ ও ছবিতে। তিনি ছবি নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন, কল্পনার রঙে রাঙ্গিয়ে ইসলামের খেদমত করেন। তার খেদমতের ঠেলায় আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কাবার ইমামের মিথ্যা মানববন্ধন সংবাদের জন্য দু:খপ্রকাশ করতে হয়েছে এবং বাড়তি একটা মামলা কাঁধে নিতে হয়েছে।

তবে আযাদ ভাই হটে যাওয়ার মানুষ নন। তিনি ওআইসি মহাসচিবের এক বিবৃতির অনুবাদ পরিবেশন করে আবারও হৈ চৈ ফেলে দেন। মহাসচিবের বিবৃতিতে ছিলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কামনা। জ্ঞানী আযাদ ভাই এর অনুবাদ করেন জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবী। আসলে ওআইসি মহাসচিব বিভিন্ন কুটনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কথা সরাসরি বলতে পারেননি, তাই তিনি চিন্তা করলেন নিজ দায়িত্বে বিষয়টা জনগণের সামনে পরিস্কার করে বলা দরকার। সমস্যা কোথায়?

এভাবে তিনি বিগত মাসগুলোতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে আসছেন। মিশরের ঘটনাপ্রবাহের দিকে যেহেতু সবার আকর্ষণ, তিনি আরবী ওয়েবসাইটগুলো থেকে ব্রেকিং নিউজ দিয়ে মাশাআল্লাহ গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করেছেন। গালফের যুদ্ধে সিএনএন যেমন হাঁকিয়েছিলো। যদ্দুর দেখা যায় দিগন্তের কাছে তিনি বেশ সমাদরপ্রাপ্ত সংবাদদাতা। বাঁশেরকেল্লায় তার প্রদত্ত খবর ও ছবি শেয়ার করে মিশরের ঘটনা পুরো দেশবাসীকে জানানো তো নিত্যদিনের ঘটনা। আযাদ ভাই রক্স, ইসলামী ভায়েরা আযাদ ভাইয়ের দেয়া মিশরের খবর ও ছবি বলতে খাড়ার উপরে অজ্ঞান।

গতকাল তিনি মিশরীয় এক সেনা কর্মকর্তার কান্নার ছবি দিয়ে বর্ণনা দেন: “মোবারকপন্থীদের গুলিতে নিহত মহিলা শহীদদের চিত্র দেখে মিসরের নিরাপত্তা পরিষদের উর্ধতন অফিসারও চোখে পানি ধরে রাখতে পানেনি”। তার এই আবেগ দেখে ছাগু ভায়েরাও আর আবেগ ধরে রাখতে “পাননেননা”। বাশেরকেল্লায় ছড়িয়ে দিলেন, “পানেনি” বানানটাও সংশোধন “না কনে”।

বাঙ্গালী আবেগপ্রবণ জাতি, মানসপর্দায় ভেসে আসলো পিলখানা হত্যাকান্ডের সময় ট্যাংকের উপর বসা আর্মি জওয়ান এবং কফিন কাঁধে অফিসারের কান্নার ছবি। আবেগে আবেগে ভেসে গেলু সব, বাশেরকেল্লা থেকে দুইশ আট বার এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদদাতা আযাদ ভাই থেকে আশিবার শেয়ার হলো। কমেন্টে কমেন্টে কান্না ও জিহাদী প্রত্যয়ের রোল শুরু হলো।

যাইহোক কাবার ইমামের মানববন্ধনের মতো হালকা একটু মিসটেক হয়ে গেসে। আসলে আর্মি অফিসার গতকাল কান্নাকাটি করলেও কিভাবে কিভাবে যেন ছবিটা গত বছর পত্রিকায় অগ্রিম ছাপা হয়েছিলো। তখন নিহত ১৬ জওয়ানের মৃতদেহ দেখে এক কর্ণেল কান্না করেছিলেন। জর্ডান টাইমসের সে ছবির লিংকও আবার অনলাইনে আছে। পৃথিবী এতো নিষ্ঠুর কেনু?

এ প্রসঙ্গে মতামত জানতে চাইলে মহামতি গোয়েবলস কবর থেকে বলেন, “বিষয়টা হলো আসলে অনুভবের, ভালোবাসার। আদর্শের জন্য ত্যাগ তীতিক্ষার। ছবিটা মিশরীয় সেনাবাহিনীর। তার উপর ছবির লোকটা একজন অফিসার। তিনি কান্নাও করছেন। নাইনটি নাইন পার্সেন্ট মিলে গেসে। এখন কি কারণে কান্না করছেন তা নিয়ে আপনারা এতো চিন্তিত কেন তা আমার বুঝে আসে না”।

আম্রা আযাদ সাইমুম ভাইয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনাকে আম্রা চরম শত্রু জ্ঞান করি। তবু আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনি আযাদ সাইমুমকে আপনার প্রচার উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে দরকার হলে নিজের ধ্বংস ডেকে আনুন কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমদেরকে একটু বাঁচান।