মাধুরী সাংবাদিকতা

মনের মাধুরী মিশিয়ে সাংবাদিকতা, মজ্জা‌ই আলাদা। উফফফফ ভাবতেই আনন্দে ‘জলে চোখ ভরে যায়’!

প্রিয় ভায়েরা ও লক্ষী আপুরা! আমরা এখন একটা সংক্ষিপ্ত কর্মশালা করবো। প্রথমে একটা ছবি নিতে হবে।
তারপর আপনাকে গভীর মনযোগ দিয়ে কনটেক্সট চিন্তা করতে হবে।
তারপর চুড়ান্ত অভিনিবেশ সহকারে ভাবতে হবে, অডিয়েন্স কি খাবে। এইটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর মোটামুটি কাজ শেষ। এখন আবেগ থরোথরো একটা ক্যাপশন দিলেই আপনার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দায়িত্ব সমাপ্ত।

উদাহরণস্বরুপ, আমরা একটা ছবি নিলাম আকাশে ড্রোন বিমান উড়তেসে। উপরের পদক্ষেপগুলো ফলো করলাম। তারপর ক্যাপশন দিলাম “আতঙ্কিত মুসলিম জনপদের নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গতকাল বিকেলে কাশ্মীরের আকাশে মারণাস্ত্র বহন করে ধেয়ে আসছে দিল্লীনিয়ন্ত্রিত সুপারসনিক ড্রোন”। উরে বাপ্রে, শেয়ার আর কমেন্ট। জাযাকাল্লাহু খায়রান আখি। ওয়াল্লাহে আপনি না থাকলে আজকে তো জানতেই পারতাম না। হায়রে ভাই আর বইলেন না পুরা দুনিয়ায় মুসলিমরা নির্যাতিত। কুফফার আসছে খেলাফত কাঁপছে। এইবার একটা কিছু হবে।

এভাবে আমরা দ্বীনের খেদমত করতে পারি। এখন আমরা কেস ষ্টাডির দিকে যাবো।

গত পরশু বাইশ তারিখ কায়রোতে আমেরিকান দুতাবাসের পাশে ইসলামপন্থী ও শাহবাগিদের সংঘর্ষ হয়। ওখানে মিশরের এক অভিনেতা তারিক নাহরি নিজেই পিস্তল হাতে মুরসী সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে নেমে পড়ে। ঐ ছবি নিয়ে গতকালকে আমি আক্ষেপও করেছিলাম, সবদেশে শাহবাগিদের মিল প্রসঙ্গে। ছবিটা দিয়ে আপনি গুগুল ইমেজ সার্চ করলে প্রথমেই আল ওয়াসাত নিউজপোর্টালের লিংক আসে। ওখানে বিশাল গাব্দাগোব্দা অক্ষরে হেডলাইনে ঐ অভিনেতা শিল্পীর নাম পর্যন্ত দেয়া আছে।

যাইহোক এগুলা কোন বিষয় না। আসল বিষয় হলো আপনি ছবিটা কোন একভাবে পেয়েছেন। এখন আপনি বস্তুনিষ্ঠ মাধুরী সাংবাদিকতা করবেন। উপরের পদক্ষেপগুলো ফলো করুন। তারপর ক্যাপশন দিন “আমেরিকা দুতাবাস কায়রোর সামনে মোবারক আমলের সেনা সদস্য এভাবেই মুরসি সমর্থকদের উপর প্রকাশ্যে গুলি করে”। দুর্দান্ত!!! ‘সেনা-সদস্য’ পড়ে সবাই একটু নড়ে চড়ে বসবে। “মোবারক-আমল” হু হু বুজসি, সব আসলে ষড়যন্ত্র। দেখসো? বলসিলাম না!

এভাবেই আপনি কত বিশাল একটা মেসেজ দিয়ে দিলেন, জনগণকে লাড়ালেন, এবং মাধুরী সাংবাদিকতাও করলেন। এক ঢিলে তিন পাখি। আমরা ছাড়া এইরকম পাখি আর কে মারতে পারবে বলেন? কারণ আমরা জানি ইসলামে অনেক ঘাটতি আছে (ইয়ায বিল্লাহ)। সব কাজ সত্য দিয়ে হয়না। সিষ্টেম করে কাজ করতে হয়, এটাই দুনিয়ার নিয়ম। তাই না?

আমাদের কর্মশালার শেষ পয়েন্টটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনমতে গুগল ইমেজ সার্চ (যেই বদমাইশ বানাইসে সে ধ্বংস হউক) দিয়া দুষ্ট পাবলিকে যদি বিরক্ত করে তাহলে এইসব গায়ে লাগাবেন না। আমাদের হইলো পাহাড় সমান বস্তুনিষ্ঠতা, দুই একটা ঝামেলায় কি আসে যায়। তারপরও ভগিচগি বন্ধ না হইলে আমাদের কর্তব্য হলো ব্যাখ্যা দেয়া। ব্যাস আপনার কাজ শেষ।

যেমন কাবার ইমামের মানববন্ধন নিয়া ধরা খাইলে ব্যাখ্যা দিবেন ঐটা ফাইল ফটো। সাংবাদিকতায় এই রেওয়াজ আছে। অথবা ধরেন, এই অভিনেতা তারিক নাহরির ফটু নিয়া ধরা খাইলে ব্যাখ্যা দিবেন মিশরে আঠারো থেকে ত্রিশ বছর বয়সী সব পুরুষের সেনা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। সুতরাং সে অভিনেতা হোক শিল্পী হোক আর যাই হোক, সে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। মুরসী নিজেও মোবারক আমলের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য!! হু হু। আর কোন কথা আছে এর পর?

সবাইকে ধন্যবাদ। যাদের যাদের কর্মশালার ফি বকেয়া আছে মানিবুকার্সে পাঠায়া দিবেন। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অমর হোক।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s