ইসলাম ও নারী অধিকারের সংঘর্ষ লাগিয়ে শাহবাগি ফায়দা

কিছুদিন থেকে একটা নতুন ট্রেন্ড দেখছি। আগ্রহের সাথেই খেয়াল করছি। একজন প্রগতিশীল তার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জীবনে দেখতে থাকা একটা ঘটনা বলা শুরু করলো, কিভাবে একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে সমস্ত সমস্যার প্রতিকূলে গিয়ে পড়ালেখা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। খুবই ভালো লাগে জানতে। পড়তে পড়তে শেষে গিয়ে ষ্ট্যাটাসদাতা আচমকা হুংকার ছাড়েন, কোথায় সে আল্লামা শফী? তাকে এই জীবনসংগ্রামটা দেখাতে ইচ্ছা করছে।

আরেকজন বলা শুরু করেন তিনি শপিংমলে গিয়েছেন তারপর বোরকা পড়া কয়েকটা মধ্যযুগীয় উটনী এসে তার দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে ছিলো। তারা তাকে কাফের মনে করছিলো, কারণ তিনি বোরকা পরেননাই। শেষে গিয়ে সেই অপেক্ষমান চিল্‌চিক্কুর, এই বাংলাদেশে আল্লামা শফীদের ঠাই হবে না। হবে না হবে না।

আরেকজন আটপৌড়ে ভাষায় মমতা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেন বস্ত্রবালিকার জীবন সংগ্রামের কথা। পড়তে পড়তে মনে হয় আহা, আমি নিজেই একজন প্রাকৃতজন হয়ে হেটে যাচ্ছি গার্মেন্টসকর্মীদের দলের সাথে। তাদের হাসি আনন্দ দুখে আমি মানুষ হিসেবে আলোড়িত হচ্ছি। তাদের জীবনসংগ্রামের বোধ অনুভব করে শ্রেণীসংগ্রাম, পুঁজির বিকাশে প্রলেতারিয়ার ত্যাগ…… হঠাৎ কড়া ব্রেক! এবং হুংকার। এই কর্মী নারীদের বিরুদ্ধে বলতে চায় আল্লামা শফী। কত বড় স্পর্ধা।

এইমাত্র একজন দেখলাম ঢাকার এক শপিংমলে ফুডকোর্টে খেতে গিয়ে সংগ্রামী এক মেয়ের জীবনসংগ্রাম দেখে আপ্লুত হয়েছেন। সেই সংগ্রাম, তিলতিল করে গড়ে উঠা স্বপ্ন, ভবিষ্যতের আশা এইসব বলতে বলতে অনিবার্য সেই হুংকারে ফেটে পড়েছেন। কোথায় আল্লামা শফী? আয় আইজকা!! তোর একদিন কি আমার একদিন।

আল্লামা শফি তেতুলদেরকে তেতুল বলে বিরাট অপরাধ করসেন। এখন পুরা বাংলাদেশের শাহবাগি জানোয়ারের দল এক কোরাস গলায় নিয়া লুঙ্গি পেটিকোট লেগিংস পেন্টি জাইঙ্গা সব খুইলা নামসে।

যাউকগা। আমার ব্যাক্তিগত মতামত হইলো, আমি খুশী শাহবাগিদের এই উল্লম্ফন দেখে। এতোদিন তাদের অজুহাত ছিলো একটাই। ইসলামপন্থীরা স্বাধীনতার শত্রু। কত্ত মধুর সেই স্বাধীনতা! হাহাহাহা। স্বাধীনতার জুস খেয়ে আর ভুয়া ট্রাইবুনালের নাটক দেখে পাবলিকের কাছে সেই অজুহাতের মার্কেট শেষ। এখন মানুষ স্বাধীনতার চেতনার মাথার উপর মুতে।

তাই শাহবাগিরা নতুন রশি আকড়ে ধরসে। ইসলাম মেয়েদের বিরুদ্ধে। এইটা দেখে আমি খুশি কারণ এই স্পেসিফিক রশিটা আকড়ায়া ধরা ইতিহাসের অনিবার্য ধারাবাহিকতা। ঠিক এভাবে পৃথিবীর সবগুলা মুসলিম দেশে সেকুলার শাহবাগি জানোয়ারগুলা এই কার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করসে। বাংলাদেশে জোরেশোরে নতুন কইরা শুরু হইলো, এই যা পার্থক্য। একদিন এইদেশে এলকোহল খাওয়া নিয়েও শাহবাগিরা ইসলামকে আক্রমণ করবে, চ্যালেঞ্জ দিয়া বললাম।

আর নারী অধিকারের কার্ড খেলায় সেকুলার জানোয়ারদেরকে ইসলামপন্থীরা উল্টা লাথি দিতে পারবে সেইদিন, যেইদিন তারা বুদ্ধিমান হবে। নারী পুরুষে অলংঘনীয় একটা পার্থক্য আছে। আমি একটা পোলা হয়া সমঅধিকার ও নারীর সম্মান যদি প্রতিদিন একলিটার শরবত বানায়াও পান করি, তবু আমি নারীদেরকে নারীর মতো বুঝতে পারবো না। এই পার্থক্যটাকে সম্মান করা উচিত, স্বীকার করাই আপাতত বুদ্ধিমানের কাজ।

আল্লামা শফির দল যেদিন যোগ্য, বুদ্ধিমান, পড়ালেখা জানা, সৃজনশীল ও স্বাধীন চিন্তা করা মেয়েদের মুখ দিয়ে ইসলামপন্থীদের উত্তর উপস্থাপন করাইতে পারবেন, সেইদিন হয়তো কিছু আশা করা যাইবে। তার আগে পর্যন্ত এই কুত্তে কা আওলাদ শাহবাগিদের হুংকার শুনে বিনোদন নিয়ে যাই। দেশের নতুন ‘প্রজন্ম’ গুলার প্রচুর পোলাপান এই শাহবাগি ডিসকোর্সে প্রভাবিত হবে, কিন্তু আমার কি করার আছে? জাফর ইকবাল নবীর কথায় লক্ষ লক্ষ প্রভাবিত হইসে। আমি কি কিছু করতে পারসি? এইটা আল্লাহরই নিয়ম। যোগ্যতা যার আছে, তার হাতেই ছাগলের দড়ি থাকবে।

আল্লাহ মেহেরবান। ইয়া এলাহী ……

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s