নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের রেজিষ্ট্রেশন বাতিলের রায়

টক অফ দ্য কান্ট্রি হইলো জামায়াতকে মডুরা ব্যান করসে। ব্যান মুবারক!

একজন সাধারণ বাংলাদেশী এবং অতিসাধারণ মুসলিম হিসেবে এই ব্যানকে আমি স্বাগত জানাই। হয়তো অনেক রাজনৈতিক কারণ ছিলো স্বাধীনতার বিরোধীতা করার। হতে পারে জামায়াত একাত্তরে অহিংস ছিলো। কিন্তু সব কিছুর পরেও বাস্তবতা হলো জামায়াত এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলো। সুতরাং বাংলাদেশে ‘জামায়াত’ নাম নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ কোন দলের থাকার কথা না, ন্যাচারালি। একইভাবে মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম অথবা পুর্ব-বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি (এমএল আবদুল হক) এর জন্যও একই কথা।

কিন্তু বাংলাদেশ হলো একটা জগাখিচুড়ি দেশ। আদর্শের কোন ঠিক ঠিকানা নাই, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার রাজনীতিতে সবকিছু অস্পষ্ট ও নৈর্ব্যক্তিক রেখে দেয়া সুবিধাজনক। আর ঐটাই সবাই করে। সুতরাং কি উচিত, আর কি উচিত না, এগুলা বাংলাদেশে কোন ধর্তব্য বিষয় না। সবচেয়ে ইন্টারেষ্টিং বিষয় হলো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার কারণে জামায়াতের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল হয়নাই, বাতিল হইছে দলটার গঠনতন্ত্রে আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্বের ঘোষণার কারণে। আমার মনে হইসে, জামায়াতের উপর হয়তো অলৌকিক কোন রহমত আছে। না হলে শেখ হাসিনা এইরকম বলদামি করলো কি ভাবে?

এই রায়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ নিজে প্রমাণ করে দিলো, এদেশের জন্মের কূল-ঠিকুজি সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়নাই। কোনদিন হবেও না। বরং তারা শুধুমাত্র ক্ষমতার রাজনীতি কন্টিনিউ করার জন্য নতুন আরেকটা চাল দিসে। আওয়ামী লীগের আরো অনেকগুলো কাজ করার পরিকল্পনা আছে। তার মাঝে এইটা ছোট একটা ধাপ। সফল হবে কি হবে না, সফলতা মাপা যাবে কখন পাঁচ বছর না পঁচিশ বছর পরে, এগুলা জানার করার ক্ষমতা কেবল আলিমুল গায়েবের।

বাংলাদেশী হিসেবে আমি আনন্দিত, কারণ এই দেশটাকে আমি ইসলামী দেশ হিসেবে দেখতে চাই। সুতরাং এই দেশে সেকুলারিজম যত আত্বঘাতি কাজ করবে, আমি ততই আনন্দিত হবো। আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্বের বিপরীতে জনগণের সার্বভৌমত্ব এইদেশের জনগণই চায় না। শাহবাগি বেজন্মারা এই দেশের সিভিল সোসাইটি হইতে পারে, কিন্তু জনগণ না। সুতরাং ব্যাকফায়ার ভালোমতো হবে, চুপচাপ বসে দেখে গেলে যথেষ্ট।

ইসলাম আর সেকুলারিজমের সংঘাতের ইতিহাসে এই রায় বিশাল একটা রেফারেন্সও হয়ে থাকবে। পুরা দুনিয়া জুড়ে। মুসলমানরা জ্ঞান বিজ্ঞানে আগায়া গেলে আর অস্ত্র বানানো শিখলে ইতিহাসের ধারা বদলাবে। আপাতত না পারলেও শক্ত ভুমিকা যে রাখবে তাতে সন্দেহ আর নাই। সেই ইতিহাসে শেখ হাসিনা, তার দল আওয়ামী লীগ, তার দালাল বিচারপতি, এবং সবার সুবাদে রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ নাম লেখায়া ফেললো। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইসলামপন্থীরাও আক্রমণাত্বক হইতে শিখবে। লুতুপুতু কোলাকুলি খেলা দিয়া দুনিয়াতে কোনদিন কিছু হয় না। আর গণতন্ত্র হইলো পানির মতো, যেই পাত্রে থাকবে সেই পাত্রের মতো রং। যেই গণতন্ত্রের অজুহাতে জামায়াতকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হলো, সেই গণতন্ত্র দিয়া আওয়ামী লীগকে শতবার নিষিদ্ধ করা কোন ব্যাপার না। কিন্তু সেকুলারিজম আর ইসলাম দুইটা চিরদিনের জন্য বিপরীত শক্তি। এখন যা হইসে তা হলো, বাংলাদেশে আল্ট্রা-সেকুলারিজমের পায়খানা পরিস্কার করার জন্য আওয়ামী লীগ হাইকোর্টকে মেথর বানিয়ে ব্যবহার করলো।

জামায়াতের নেতারা সামষ্টিকভাবে এই পর্যন্ত ধৈর্য্যশীল নির্বোধ প্রমাণিত হয়েছে। ইসলামে ধৈর্য্য যেমন আছে, বুদ্ধিমত্তাও আছে। খেলাফতপাগলা আর উগ্রপন্থীছাগলার দল জামায়াতকে হেকমতের দল বলে বাঁশ দিতে চেষ্টা করে, অথচ জামায়াতের এইগুলা এখন পর্যন্ত বিচারে কোন হেকমত না বরং ছাগলামি। তারা চরম ধৈর্য্যের প্রমাণ দিছে অলরেডি, স্বীকার না করার কোন উপায় নাই। কিন্তু হেকমত? হাহাহাহা। দিল্লী বহুত দূর। হেকমত কি জিনিস শিখতে হইলে ইজরায়েলের কাছে যাইতে হবে। কোরআন হাদীসের মূলনীতি ঠিক রেখে যেদিন ইজরায়েলের মতো কাউন্টারপার্টকে নাকানি চুবানি খাওয়াইতে পারবেন, তখন হেকমত শব্দটা উচ্চারণ করিয়েন। ঐটা উচ্চারণ করার অধিকার এখন আছে এরদোগানের, কিংবা মুরসীর। ভারত এখনো জামায়াতকে ভয় করে না, বরং জামায়াতকে নিয়ে খেলাধুলা করে। যদি বিশ পঞ্চাশ বছর পরে বিশাল একটা পরিবর্তন আসে, তখন আবার হিসাব নিকাশ উল্টে যেতেও পারে।

আমরা বর্তমানের মানুষ, বর্তমান হিসাব করি। এই পর্যন্ত নি:সন্দেহে জামায়াত হেকমতের দুরদৃষ্টি দিয়ে দরকারী কাজ করতে পারেনাই। বরং এন্টি পার্টির তবলায় ঠোকা পড়ার পর সঙ্গত করছে। কিন্তু, এই ঠুকাঠুকিতে দেশের রাজনীতি আর ক্ষমতার ডিসকোর্সে শক্ত একটা অবস্থান নিয়ে ইসলাম উঠে আসছে। ঠিক এই কারণে জামায়াত শাহবাগিদের জানের শত্রু। ঠিক এই কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াত এমন একটা পক্ষ, যার শক্তি নিয়ে বেশিরভাগ মানুষের কোন ধারণাই নাই। ঠিক এই কারণে বাংলাদেশ যদি আরো একশ বছর টিকে থাকে, একশ বছরই জামায়াতের নাম ও ভুমিকা ঘুরে ফিরে আসবে। এইখানে আপনার, আমার ও শাহবাগি জারজদের চাওয়া বা না চাওয়াতে কিছু আসবে যাবে না। বাংলাদেশের নীতিহীন রাজনীতির সুবাদে যা ঘটে গেছে, তা অলংঘনীয় অতীত। এইদেশে স্বাধীনতা ফাধীনতা এগুলা পশমের আলাপ আর অজুহাত মাত্র।।

যাইহোক, দৃঢ়ভাবে ধারণা করি এইরকম আত্বঘাতি গোল দিতে থাকলে কয়েক দশক পরে সেক্যুলার শাহবাগি বেজন্মার দল আফসোসে আফসোসে নিজেদের হাত কামড়াবে। এবং এই কারণে নগণ্য একজন মুসলিম হিসেবে আমি আনন্দিত।

Advertisements

যুবলীগ নেতা খুন ও বন্দুকযুদ্ধে খুনী নিহত। আসল গোড়া কোথায়?

কাল রাতে ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে মোবইলে নিউজ ফিড দেখছিলাম। একটা ছোট খবর দেখলাম, মিলকী হত্যা মামলা তদন্ত করার জন্য র‍্যাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে।
একটু খটকা লাগলো। র‍্যাব তো এতো সুবোধ বালক না যে, দরখাস্ত লিখে আবেদন করবে মাম্মি ডুডু খাবো। পরিস্কার বুঝা যায়, র‍্যাবকে দেয়া হবে তদন্তের ভার। তাই নিজেরা নিজেরা ভাইখেলার কাগজপত্র ঠিক রাখতে এ আবেদন।

সকালে উঠে দেখি খেলা শেষ, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ খুনী তারেক আর শাহ আলম নিহত।

নিহত মিলকীর ছোট ভাই হলো সেনাবাহিনীর মেজর, নাম রাশিদুল হক খান। মেজরের ভাই যখন, র‍্যাবের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়া ছাড়া তার খুনীর আর কোন উপায়ও ছিলো না। মেজর কিসমত হায়াত, মেজর জিয়াউল আহসান এরা র‍্যাব চালায়। এক-এগারো করেছিলো মেজর মইন ইউ, মেজর মাসুদউদ্দিন, মেজর ফজলুল বারী। বাংলাদেশের ভাগ্যনিয়ন্তা হলো এই মেজরের দল। কিন্তু আসলে ঘটনা কি এতো সরল?

মেজর রাশিদুল হক খানের ব্যক্তিগত শোকের বাচ্চাসুলভ প্রতিশোধ হয়েছে তা ঠিক, কিন্তু এই মেজররা কখনও মূল খূনীদের একটা পশম ছিড়তে পারবেনা। বরং মেজররা এ প্রতিশোধও নিয়েছে নাটের গুরুদের পরিকল্পনা অনুযায়ী। মিলকী, তারেক, শাহআলম সবগুলো আবর্জনা ছিলো যুবলীগের কিলার বাহিনীর সদস্য, মতিঝিলের হর্তাকর্তা। ৫ তারিখ রাতে শাপলা চত্বরের আশেপাশে আলো নিভিয়ে ক্যামেরা সরিয়ে দিয়ে যে গণহত্যা হয়েছে তাতে কারা কারা কোত্থেকে এসে অংশ নিয়েছিলো তা খুব অল্প লোকেই জানে। হত্যাকারীদের মাঝে পুলিশ আর বিজিবি সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই কখনো মুখ খুলতে পারবে না। বাকি থাকে হাতে হাত মিলিয়ে হত্যাকান্ড চালানো সিভিলিয়ান কসাইরা। ঐরাতে ওখানে যুবলীগের যে কসাইরা কাজ করেছিলো, তারা ভারতীয় সংস্থা র’ এর জন্য বিশাল ঝুঁকি। এখন যা হচ্ছে তা হলো, অন্তর্দলীয় কোন্দল হাঙ্কিপাঙ্কি আর বন্দুকযুদ্ধের নাম দিয়ে লুজ এন্ডস গুলো ঠিক করা হচ্ছে। এছাড়াও এম্বুলেন্স দুর্ঘনটা, সড়ক দুর্ঘটনা এগুলো তো চলতেছেই।

সব পরিকল্পনার পরেও কিছু জায়গায় গিয়ে ভাগ্যের হাতে মার খেয়ে যেতে হয়। যেমন এখানে ছিলো একটা সিসিটিভি। সিসিটিভি না থাকলে টুপি পাঞ্জাবী পরা ইসলামী জঙ্গির হাতে খুন প্রমাণ হতো। টকশোগুলোতে কান্নার রোল পড়ে যেতো। নবনীতি আর আরাফাতের দল লাইভ উত্তেজিত হয়ে যেতো, তাদের চিৎকারের সাথে সাথে মুখের কোণা থেকে ফেনা ছিটকে ছিটকে পড়তো। কিন্তু সিসিটিভি সব বরবাদ করে দিলো।

সিসিটিভিতে দেখা গেছে খুনী তারেক আর শাহ আলমের গ্রুপ টুপি পাঞ্জাবী পরে কাজেএসেছিলো। এই টুপি পাঞ্জাবী পরে অপারেশন করার এমও (মোডাস অপারেন্ডি) টাও তারা শিখেছে ৫মে মতিঝিলে। ঐদিন এরা টুপি পাঞ্জাবী পরেই কোরআন শরীফ পুড়িয়েছিলো। ওখানে কোন সিসিটিভি বা ক্যামেরা ছিলো না। তারপর যথারীতি অব্যাহত সমর্থন দিয়ে গেছে পত্রিকা আর টিভি চ্যানেলগুলো।

সেদিন যারা নিরস্ত্র নিরীহ মাদরাসা ছাত্র শিক্ষকদেরকে রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ও লাশ গুম করেছে, এখন ভাগ্যের হাতে তাদের প্রতিদান পাওয়া শুরু হয়েছে। হত্যার সময় তারেক যার সাথে মোবাইলে কথা বলছিলো, তারা আরো অনেক বেশি ক্ষমতাবান। কিন্তু তারাও ইনশাআল্লাহ নিয়তির এ শাস্তি এড়াতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের যেসব লোকজন এখনো জীবিত আছে, তাদের উচিত পিছনের দিকে সবসময় খেয়াল রাখা। আওয়ামী লীগ কোন রাজনৈতিক দল না। এইটা একটা মাফিয়া অর্গানাইজেশন। মুক্তিযুদ্ধের সাইনবোর্ডেরআড়ালে খুন, অত্যচার, চাদাবাজি, ধর্ষণ, নারীব্যবসা, মাদকব্যবসা, জমিদখল এগুলো হলো আওয়ামী মাফিয়ার কাজ। এধরণের মাফিয়া অর্গানাইজেশন যত খারাপ হতে থাকে, তারা রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বড়িয়ে দেয়। এই ধরণের লুজ এন্ডস পরিস্কার করা এবং নিজেদের মাঝে গ্রুপিং করার প্রথা ততই বাড়তে থাকে।

আওয়ামী লীগ মরুক আমার কোন দু:খ নাই। এই খুনীগুলো নিহত হওয়ার কৃতজ্ঞতা স্বরুপ আমি গরীব মিসকিনকে কিছু খাওয়াতে রাজি আছি। এদের নাটের গুরু আর মূল আদেশদাতা যদি মরে, কয়েকশ দরিদ্র লোককে নিয়ে ভোজ সভা দিবো ইনশআল্লাহ। কিন্তু সেই ভবিষ্যতের আলাপ রেখে বর্তমানে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার একটা নায্য দাবি আছে।

ছোট ভাই মেজর হলেই যদি প্রতিশোধ নেয়া যায়, ন্যায়বিচার! নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ কি দোষ করেছে? বাংলাদেশের উচিত আমেরিকার মতো হওয়া। অস্ত্রের জন্য লাইসেন্স থাকার দরকার নেই। দেশের যে অবস্থা তাতে প্রতিটা মানুষের আত্বরক্ষা করার নায্য অধিকার আছে। সুতরাং অস্ত্রশস্ত্রকে সরকারীভাবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে যার যার আত্মরক্ষা, প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধের দায়িত্ব তার তার কাঁধে ছেড়ে দেয়া হোক।।

কারণ বাংলাদেশের সামনে আরো দুর্যোগ আসছে। এইসব ক্রসফায়ার নাটকের মূল জনকের কথা মনে আছে তো? সিরাজ সিকদারের হত্যাকারী। সেই মহাপিশাচ ফেরাউনের যোগ্য নাতি এখন বাংলাদেশে। বিদেশ থেকে উপযুক্ত পরিকল্পনা সাজিয়ে সে দেশে এসেছে। এইসময় আত্বরক্ষার অধিকার থাকাটা মৌলিক মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত।