যুবলীগ নেতা খুন ও বন্দুকযুদ্ধে খুনী নিহত। আসল গোড়া কোথায়?

কাল রাতে ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে মোবইলে নিউজ ফিড দেখছিলাম। একটা ছোট খবর দেখলাম, মিলকী হত্যা মামলা তদন্ত করার জন্য র‍্যাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে।
একটু খটকা লাগলো। র‍্যাব তো এতো সুবোধ বালক না যে, দরখাস্ত লিখে আবেদন করবে মাম্মি ডুডু খাবো। পরিস্কার বুঝা যায়, র‍্যাবকে দেয়া হবে তদন্তের ভার। তাই নিজেরা নিজেরা ভাইখেলার কাগজপত্র ঠিক রাখতে এ আবেদন।

সকালে উঠে দেখি খেলা শেষ, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ খুনী তারেক আর শাহ আলম নিহত।

নিহত মিলকীর ছোট ভাই হলো সেনাবাহিনীর মেজর, নাম রাশিদুল হক খান। মেজরের ভাই যখন, র‍্যাবের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়া ছাড়া তার খুনীর আর কোন উপায়ও ছিলো না। মেজর কিসমত হায়াত, মেজর জিয়াউল আহসান এরা র‍্যাব চালায়। এক-এগারো করেছিলো মেজর মইন ইউ, মেজর মাসুদউদ্দিন, মেজর ফজলুল বারী। বাংলাদেশের ভাগ্যনিয়ন্তা হলো এই মেজরের দল। কিন্তু আসলে ঘটনা কি এতো সরল?

মেজর রাশিদুল হক খানের ব্যক্তিগত শোকের বাচ্চাসুলভ প্রতিশোধ হয়েছে তা ঠিক, কিন্তু এই মেজররা কখনও মূল খূনীদের একটা পশম ছিড়তে পারবেনা। বরং মেজররা এ প্রতিশোধও নিয়েছে নাটের গুরুদের পরিকল্পনা অনুযায়ী। মিলকী, তারেক, শাহআলম সবগুলো আবর্জনা ছিলো যুবলীগের কিলার বাহিনীর সদস্য, মতিঝিলের হর্তাকর্তা। ৫ তারিখ রাতে শাপলা চত্বরের আশেপাশে আলো নিভিয়ে ক্যামেরা সরিয়ে দিয়ে যে গণহত্যা হয়েছে তাতে কারা কারা কোত্থেকে এসে অংশ নিয়েছিলো তা খুব অল্প লোকেই জানে। হত্যাকারীদের মাঝে পুলিশ আর বিজিবি সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই কখনো মুখ খুলতে পারবে না। বাকি থাকে হাতে হাত মিলিয়ে হত্যাকান্ড চালানো সিভিলিয়ান কসাইরা। ঐরাতে ওখানে যুবলীগের যে কসাইরা কাজ করেছিলো, তারা ভারতীয় সংস্থা র’ এর জন্য বিশাল ঝুঁকি। এখন যা হচ্ছে তা হলো, অন্তর্দলীয় কোন্দল হাঙ্কিপাঙ্কি আর বন্দুকযুদ্ধের নাম দিয়ে লুজ এন্ডস গুলো ঠিক করা হচ্ছে। এছাড়াও এম্বুলেন্স দুর্ঘনটা, সড়ক দুর্ঘটনা এগুলো তো চলতেছেই।

সব পরিকল্পনার পরেও কিছু জায়গায় গিয়ে ভাগ্যের হাতে মার খেয়ে যেতে হয়। যেমন এখানে ছিলো একটা সিসিটিভি। সিসিটিভি না থাকলে টুপি পাঞ্জাবী পরা ইসলামী জঙ্গির হাতে খুন প্রমাণ হতো। টকশোগুলোতে কান্নার রোল পড়ে যেতো। নবনীতি আর আরাফাতের দল লাইভ উত্তেজিত হয়ে যেতো, তাদের চিৎকারের সাথে সাথে মুখের কোণা থেকে ফেনা ছিটকে ছিটকে পড়তো। কিন্তু সিসিটিভি সব বরবাদ করে দিলো।

সিসিটিভিতে দেখা গেছে খুনী তারেক আর শাহ আলমের গ্রুপ টুপি পাঞ্জাবী পরে কাজেএসেছিলো। এই টুপি পাঞ্জাবী পরে অপারেশন করার এমও (মোডাস অপারেন্ডি) টাও তারা শিখেছে ৫মে মতিঝিলে। ঐদিন এরা টুপি পাঞ্জাবী পরেই কোরআন শরীফ পুড়িয়েছিলো। ওখানে কোন সিসিটিভি বা ক্যামেরা ছিলো না। তারপর যথারীতি অব্যাহত সমর্থন দিয়ে গেছে পত্রিকা আর টিভি চ্যানেলগুলো।

সেদিন যারা নিরস্ত্র নিরীহ মাদরাসা ছাত্র শিক্ষকদেরকে রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ও লাশ গুম করেছে, এখন ভাগ্যের হাতে তাদের প্রতিদান পাওয়া শুরু হয়েছে। হত্যার সময় তারেক যার সাথে মোবাইলে কথা বলছিলো, তারা আরো অনেক বেশি ক্ষমতাবান। কিন্তু তারাও ইনশাআল্লাহ নিয়তির এ শাস্তি এড়াতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের যেসব লোকজন এখনো জীবিত আছে, তাদের উচিত পিছনের দিকে সবসময় খেয়াল রাখা। আওয়ামী লীগ কোন রাজনৈতিক দল না। এইটা একটা মাফিয়া অর্গানাইজেশন। মুক্তিযুদ্ধের সাইনবোর্ডেরআড়ালে খুন, অত্যচার, চাদাবাজি, ধর্ষণ, নারীব্যবসা, মাদকব্যবসা, জমিদখল এগুলো হলো আওয়ামী মাফিয়ার কাজ। এধরণের মাফিয়া অর্গানাইজেশন যত খারাপ হতে থাকে, তারা রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বড়িয়ে দেয়। এই ধরণের লুজ এন্ডস পরিস্কার করা এবং নিজেদের মাঝে গ্রুপিং করার প্রথা ততই বাড়তে থাকে।

আওয়ামী লীগ মরুক আমার কোন দু:খ নাই। এই খুনীগুলো নিহত হওয়ার কৃতজ্ঞতা স্বরুপ আমি গরীব মিসকিনকে কিছু খাওয়াতে রাজি আছি। এদের নাটের গুরু আর মূল আদেশদাতা যদি মরে, কয়েকশ দরিদ্র লোককে নিয়ে ভোজ সভা দিবো ইনশআল্লাহ। কিন্তু সেই ভবিষ্যতের আলাপ রেখে বর্তমানে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার একটা নায্য দাবি আছে।

ছোট ভাই মেজর হলেই যদি প্রতিশোধ নেয়া যায়, ন্যায়বিচার! নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ কি দোষ করেছে? বাংলাদেশের উচিত আমেরিকার মতো হওয়া। অস্ত্রের জন্য লাইসেন্স থাকার দরকার নেই। দেশের যে অবস্থা তাতে প্রতিটা মানুষের আত্বরক্ষা করার নায্য অধিকার আছে। সুতরাং অস্ত্রশস্ত্রকে সরকারীভাবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে যার যার আত্মরক্ষা, প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধের দায়িত্ব তার তার কাঁধে ছেড়ে দেয়া হোক।।

কারণ বাংলাদেশের সামনে আরো দুর্যোগ আসছে। এইসব ক্রসফায়ার নাটকের মূল জনকের কথা মনে আছে তো? সিরাজ সিকদারের হত্যাকারী। সেই মহাপিশাচ ফেরাউনের যোগ্য নাতি এখন বাংলাদেশে। বিদেশ থেকে উপযুক্ত পরিকল্পনা সাজিয়ে সে দেশে এসেছে। এইসময় আত্বরক্ষার অধিকার থাকাটা মৌলিক মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s