ছাত্ররাজনীতি, হত্যা এবং প্রতিশোধঃ চাই এনার্কিজম

ঈদের আগমুহুর্তে সীতাকুন্ডে লীগের গুন্ডারা শিবিরের একটা ছেলেকে খুন করেছে। কিছুক্ষণ আগে ছেলেটা ইফতার কিনতে গিয়েছিলো বাজারে। প্রস্তুত হয়ে ওৎ পেতে থাকা সাত আটজন তাকে সুযোগমতো পেয়ে আর দেরি করেনি। সবাই মিলে দ্রুত কুপিয়েছে। তারপর হাত এবং পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। এবং রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গিয়েছে।

দৃশ্যটা কল্পনা করলে বেশ সিনেমাটিক মনে হয়। জীবন্ত একজন মানুষকে সাত আট জন মিলে ঘিরে ধরলাম। কেউ হয়তো মাথায় একটা কোপ দিলো, আরেকজন পেটে ছুরি চালিয়ে দিলো। ছেলেটা হয়তো ঠেকানোর জন্য দুই হাত তুলেছে। পেছনে থাকা একজন এ সুযোগে আড়াআড়ি ভাবে কোমরে একটা রামদা চালালো। আরেকজনের ছুরিতে কিডনী শেষ। দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ। যারা ছুরি রামদা চালাচ্ছে তাদের জন্য এ দুই মিনিট খুব দ্রুত চলে যায়। উত্তেজনার সময়।

যে ছুরি খাচ্ছে তার কাছে এ দুই মিনিট অনন্তকালের মতো। ত্রিশ বছর আগে তার জননী অনন্ত প্রসব বেদনা সহ্য করেছিলো, তাকে এ পৃথিবীতে নিয়ে আসার জন্য। এই ত্রিশ বছরে ছেলেটার জীবনে অনেক হাসি কান্না আনন্দের বিষাদের সময় এসেছে। নিশ্চয় কখনো সে কল্পনা করতো, বিয়ে করে টুকটুকে বউ এর সাথে ভালোবাসা এবং অভিমানের। মুজিব-হাসিনার সোনার সন্তানদের কয়েক মিনিটের বর্বরতায় সব কিছু এখন অস্তিত্বহীন। তার জন্য পৃথিবীতে সব শেষ। কিন্তু তার বাবা-মার জন্য বাকী জীবনটা হবে বিষাদময়, চরম কষ্টকর।

আমাদের জারজ মিডিয়া/টিভিগুলো জোরে শোরে খবর প্রচার করছে, শিবিরের ছেলে হত্যার প্রতিবাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ ভাংচুর। কে হত্যা করেছেন কিভাবে হত্যা করেছে এসব উচ্চারণের কোন নামগন্ধ নাই। কারণ লীগের গুন্ডারা তো শাহবাগি সুত্রে তাদের ভাসুর। আর ভাসুরের নাম উচ্চারণ না করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্যমত আছে।

আমি যদি শিবির করতাম তাহলে ঐ খুনীদের মাঝে মূল দুই তিন জনকে ঈদের দিনের ভেতরেই হত্যা করতাম। কয়েকটা কারণে আমি শিবির করি না। তার মাঝে একটা হলো শিবিরের রক্ত খুব সস্তা। কেউ মারা গেলে নেতারা ‘এই খুনের বদলা না নিয়ে আম্রা বাড়ি ফিরে যাবো না’ হুংকার দিয়ে তারপর গাড়িতে উঠে এসি ছাড়েন। বাড়িতে গিয়ে মন খারাপ করে বসে বসে আঙ্গুল চুষেন। পরেরদিন আবার সব আগের মতো।

এইরকম বিচারহীন কাপুরুষের মৃত্যু আমি চাই না। আমার রক্তকেও আমি সস্তা মনে করিনা। আমার ভাই যদি মারা যায়, আমি তার খুনীদেরকে খুন করবো। আমি যদি মারা যাই তাহলে যারা প্রতিশোধ নেবে, আমি তাদের বন্ধু হই। খুনসহ সব অন্যায়ের বিচার, শাস্তি ও প্রতিবিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র যখন আইয়ামে জাহিলিয়াতের দোসর হয়, তখন আবার রাষ্ট্র তার স্ব-ভুমিকার ফেরা পর্যন্ত জাহিলিয়াতের খুন-কা-বদলা-খুন নিয়মেই খেলতে হয়। না হলে একচেটিয়া খেলায় মুজিব-হাসিনার দল গোল দিতেই থাকে।

মিশরে সম্প্রতি এক তামারুদ শাহবাগি জানোয়ার গুলি করে কয়েকটা মেয়েকে হত্যা করেছিলো। পরেরদিনই তার মৃতদেহের ছবি দেখেছি। তামারুদের দল একারণে ঐদেশে নিজেরা এগিয়ে না এসে আর্মি পুলিশকে সামনে ঠেলে দিয়েছিলো। বাংলাদেশেও সন্ত্রাসবাদের উত্থান দরকার, এনার্কিজম না আসলে এই অনাচার-অজাচার এবং এই আইনী এই ব্যাভিচারের শেষ হবে না।। তবে দুনিয়া এখন বেশ কিছুদুর এগিয়ে গেছে। তাই তলোয়ার বন্দুক নিয়ে হারেরেরে করে ঝাপিয়ে পড়া বোকামি। যেই লীগের কুকুরেরা আজকে এই খুন করেছে তারা নিরবে নির্জনে বেওয়ারিশ কুকুরের মতো মরে পড়ে থাকলে তখন তাদের শাহবাগি দোসরদের টনক নড়বে। যে শত্রু যেভাবে যুদ্ধ করে তাকে ঐভাবে উত্তর দেয়া দরকার। হুমায়ুন আযাদ বা থাবা বাবার দল অস্ত্র হাতে নেয়নি, সুতরাং তাদের উপর অস্ত্র চালানোটা কঠিন অপরাধ। গ্রহণযোগ্য না। কিন্তু যে সন্ত্রাসী কুপিয়ে হত্যা করে অথবা যে পুলিশ অফিসার ধরে নিয়ে খুন করে চোখ উপড়ে দেয়, তাকে আপনি দুধভাত খাওয়াবেন? খাওয়ান। আমি আপনার সাথে নাই।

Advertisements

হুমায়ুন আযাদের পুত্র অনন্য আযাদের প্রস্থান

হুমায়ুন আযাদ সাহেবের গুণধর পুত্র অনন্য আযাদ শেষপর্যন্ত কিবলাস্তানে পাড়ি জমালেন আজ। বাংলাদেশ খুবই ভয়ংকর জায়গা। খালি জঙ্গি আর জঙ্গি, কুনদিন কল্লাটা নামায়া দেয় ঠিক নাই। তার চাইতে যাওয়াটাই ভালো। তার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক।

আশা করতেসি বেকুবি কইরা আবার চিপায় চাপায় কোন গাঞ্জার পোটলা নেয় নাই, নাইলে কিন্তু চেকিং এর সময় বিপদে পড়তে পারে। তার বিদেশস্থ গুরুরা আশা করি তারে জানাইসে যে পকেটে কইরা আনার দরকার নাই। দোকানে গেলে এমনেই দশ গ্রাম মারিজুয়ানা/ক্যানাবিস বৈধভাবে খরিদ করা যায়। অবশ্য এইটাও ঠিক, প্রবাসী শাহবাগিদেরকে আফসুস করতে শুনি মাঝে মইধ্যে। এইটার সাথে না কি সেইটার কোন তুলনাই হয়না। দেশীয় পণ্য সত্যিই অনন্য!

যাইহোক, এতোদিন সে খাসি মহিউদ্দিনের চামচামি করসে। কথাবার্তায় কোন মেধা অথবা স্বকীয়তা প্রমাণ করতে পারেনাই এপর্যন্ত। বাপের নামের ভারে কিছু কাটাকাটি হইসে, ব্যাস। ঐ নামের জোরেই বোতল খোলার সময় তারে সাথে নিয়া ছবি তোলা হইসে। কিন্তু বিদেশে গিয়া যদি সে পড়ালেখা কিছু করে, তাইলে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ দিতেও পারে।

যদিও সম্ভাবনা কম। বাঙ্গালী জাত তো, বই পড়তে আরাম লাগে না। পানি আর মাংসের টান, হইচই ভংচং এগুলাতে টাইম যায় গিয়া। এইরকম কত আসলো গেলো। দেখা যাক কি হয়। হুজুরদের উচিত পড়ালেখা বাড়ানো। আপনেগো লাইগা কিন্তু মানবাধিকারের কোম্পানি গুলা এজেন্সি অফিস খুইলা বইসা নাই, আল্লাহর দুনিয়ায় নিজেদের ঠাই নিজেদেরকেই বানাইতে হবে। হিজবুতি ছাগলাদের তালে পইড়া কুফফার-ড্যান্স নাচলে এইপার ওইপার দুইপারই শেষে আন্ধার কিন্তুক।

আর বাকি যেই শাহবাগিরা এখনো দেশের ভেতর পচতেসে, দুতাবাসগুলার দয়াদ্র মনযোগ আকর্ষণ করতেসি। খাসিগুলা বহুত কষ্ট করসে, আপনারা আর কত ঝুলায়া রাখবেন? বিশেষ করে যেই চারটা জেলে গেসিলো, তাদের মাঝে দুইটা তো আর সহ্য করতে পারতেসে না। বেশি টাইট দিলে কিন্তু প্যাচ কাইট্টা যাবে। সুতরাং একটু নজর দেন এদিকে।

যুদ্ধাপরাধ বিচারের নাটকে এক নীরব পার্শ্বচরিত্র, মিডিয়াও নীরব

ছোটবেলায় তিন গোয়েন্দার একটা বই পড়ছিলাম। গাড়ির কাঁচ বানায় এমন এক কারখানার মালিকের ছেলে গোপনে গাড়ির কাঁচ ভাংতো। আসল উদ্দেশ্য ছিলো বাপের কারখানার প্রডাক্টের বিক্রি বাড়ানো। কিসোর পাশা সেই রহস্যের সমাধান করে ফেলে পরে।

আওয়ামীলীগ সরকার রাজাকার আলবদরদের বিচার করতেসে। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক শত্রু জামায়াতকে নির্মুল করা। এইখানে স্বাধীনতার চ্যাতনা, শহীদ, বীরাঙ্গনা এইগুলা কেবল স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার, নিজেদের ক্ষমতার রাজনীতিতে পুঁজি মাত্র। এইটা বুঝার জন্য কিশোর পাশা হওয়ার দরকার নাই। আওয়ামী লীগ, শাহবাগির দল এবং মিডিয়ার অবস্থা অবজার্ভ করলেই বুঝা যায়।

সবাইতো নিয়মিত ফেসবুকার। নেটিজেন। সচেতন নাগরিক। কয়জন শুনছেন সৈয়দ মো: কায়সারের নাম? হ, এই কায়সার যদি জামায়াতের নেতা হইতো তাহলে সব পত্রিকা আর টিভি চ্যানেলগুলা রাতদিন কান্নাকাটি করতো। কানতে কানতে নবনীতা, মুন্নী সাহা আর সামিয়া জামানের শ্বেতপ্রদর শুরু হয়া যাইতো এতক্ষণে। গ্রামের হাটবাজারের লোকজনও কায়সারের নাম জানতো, নেটিজেন হওয়া লাগতো না।।

কিন্তু যেহেতু কায়সার জামায়াতের নেতা না, ইসলামী লেবেল লাগানো লোক না, তাই পাকবাহিনীর সহযোগী যুদ্ধাপরাধী হইলেও তার জামিন হয়া যায়। রাজনৈতিক শত্রু নিধনের এই বিচারে ক্যামোফ্লেজ দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের দালাল প্রসিকিউশন যে কয়টা পার্শ্বচরিত্রকেও নাটকে জায়গা দিসিলো, কায়সার তাদের একজন। ১৬ মে বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দুইমাস দশদিন পর ৫ আগষ্ট সোমবার ওবায়দুল হাসানের ট্রাইবুনাল তাকে জামিন দেয়। কায়সার ছিলো এরশাদের সময়কার কৃষি প্রতিমন্ত্রী। এইটা কোন ফ্যাক্টর না। তার এই জামিনের শক্তির রশি অন্য খুটাতে বান্ধা আছে। পত্রিকাগুলাও কোনমতে লুকায়া ছাপায়া দায়সারা নিউজ দিয়া ভারমুক্ত হইসে। বেশিরভাগ পত্রিকা আর টিভিতে খবরটা আসেও নাই, পুরা ব্লাক আউট। প্রথম আলোর মতো পত্রিকা ভিতরের তৃতীয় পৃষ্ঠায় কোনমতে ছোট একটা খবর ছাপাইসে।

জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি হয়। আর কায়সারের জামিন কেন হয়? কারণ প্রধানমন্ত্রীর ভাই শেখ সেলিম হইলো কায়সারের ছেলের শ্বাশুড়। তার ছোটভাই বিয়া করসে আবুল মাল মুহিতের বোনকে। আর সেই বিখ্যাত দুর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোর এমডি হইলো কায়সারের ছেলে। সুতরাং বুঝাই যায় ডিপথ্রোট দিতে গিয়া বাংলাদেশের সাংবাদিক বুদ্ধিজীবি আর শাহবাগির দলের গলায় কার যন্ত্র আটকায়া গেসে।

বলেন তো, কয়জন জামায়াত নেতাকে জামিন দিসে ট্রাইবুনাল? এমনকি আজহারুল ইসলামের মতো লোক যে যুদ্ধের সময় কিশোর বয়সী ছিলো, তারেও ডান্ডাবেড়ি পরায়ে রাখা হয়। আর কায়সারের জামিন হয়। মাননীয় আদালত, এরপরও কি বলবেন আপনি আওয়ামী লীগ নামক বেশ্যার ভাড়ুয়া দালাল নন? শাহবাগির দল, এরপরও কি তোরা বলবি এই বিচারের প্রতিবাদ করলেই জামায়াতের লোক হয়া যাইতে হবে? হ, বলবি। কারণ তোরা শাহবাগি বেজম্মা। আর মাননীয় আদালত ও বিচারপতিরা হলো বাটপারের দল, আওয়ামী দালাল। তোদের বিচার আর আইন-আদালতকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে তার মাথার উপর মুত্রত্যাগ করলাম।
Image

Image

Image