এটেনশান সিকিং ** মিতা হকের আক্ষেপ

মামুনুর রশিদ, তারিক আনাম এবং মিতা হক। একাত্তর টিভিতে “সংস্কৃতিজনের রাজনীতি ভাবনা”।

মিতা হকের মনে হচ্ছে, “বাংলাদেশীদের একটা আইডেন্টিটি ক্রাইসিস আছে। তিনি মনে করেন, পরিস্কার একটা জায়গা স্থির করা দরকার। একটা কমন পরিচয় থাকবে। কেউ দাড়ি টুপি লাগিয়ে নেই তাই। কেউ সিঁদুরে টিপ পরে নেই। (নিজে একটা টিপ পরা অবশ্য)। আইডেন্টিটি ক্রাইসিসটার এখন খুবই বাজে একটা অবস্থা।” মিতা হক সু্ন্দরভাবে বলছেন। তারেক আনাম ও মামুনুর রশীদ বুঝদার বিদগ্ধ একমত ছাগলের মতো মাথা নাড়াচ্ছেন।

আজকাল বাংলাদেশে রাস্তায় হাসপাতালে ডাক্তারখানায় মিতা হক দেখেন “একমাত্র তিনি বাঙ্গালী। তিনি শাড়ি পড়েছেন এবং তার মাথায় ঘোমটা নাই। আর চারপাশে সবাই অন্যরকম। তারা হয়তো একটু করে মুখ বের করে রাখছে। এরা আর যাই হোক, বাঙ্গালী না।”

পড়ন্ত বয়সী মিতা হক স্বার্থক। তিনি একজন এটেনশন সিকিং হোর হিসেবে লাইভ টিভিতে পুরো দেশের সামনে মনের কথা খুলে বলেছে। সুতরাং সারা দেশে সাড়াও পড়ে গেছে। মিতা হক এখন সেলিব্রিটি। তসলিমা নাসরিনের পাশেই তার নাম।

আম্রা মিতা হকের এই সংখ্যালঘু-সুচক নিরাপত্তাহীন অনুভবের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। সারা দেশে একই পোষাক চালু করা উচিত। সবাই শাড়ি পড়বে, টিপ পড়বে। ডাক্তারখানা রাস্তায় যেখানে একটু লোক সমাগম আছে, দেখলেই বুঝা যাবে আমরা গর্বিত বাঙ্গালী জাতি।

বাংলাদেশীদের অবশ্যই একটা আইডেন্টিটি ক্রাইসিস আছে। হুজুররা যদি এ কথা সামনে আনতেন তাহলে প্রতিক্রিয়াশীলতা পশ্চাদপতা ইত্যাদি চিৎকারে আকাশ বাতাস ভরে যেতো। মিতা হককে ব্যাক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাই বিষয়টা তুলে আনার জন্য। আমার মতো নন-প্রাকটিসিং মুসলিমও বলি, বাঙ্গালীয়ানার দুই পয়সা দাম আমার কাছে নেই যদি ঐ পরিচয়কে মুসলিম পরিচয়ের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেয়া হয়। আর যারা ইসলামকে ভালোবাসে, চর্চা করে তাদের কি অবস্থা হবে শুধু একটু ভাবলেই বুঝা যায়।

আসলে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস যেইটা আছে তা হলো এই মিতা হক মামুনুর রশীদ টাইপের কুলাঙ্গার শাহবাগিদের বানিয়ে তোলা (মেড-আপ) ক্রাইসিস। এই বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের সাথে সমানতালে বেড়ে উঠা কোন ক্রাইসিস না। এরা আপেলের সাথে কমলার তুলনা করে। কেউ যদি পাগলা ক্ষেপা খেপে যায়, তখন মায়ের সাথে শাশুড়ির তুলনা করলেও একটা ন্যুনতম যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু মায়ের সাথে শালীর তুলনা?

হ্যা। এইটা শাহবাগিদের পক্ষেই সম্ভব, কারণ তাদের মূল উদ্দেশ্য বাঙ্গালীয়ানার পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা না। বরং এই তারেক আনাম মিতা হক মিথিলাদের মূল চক্ষুশুল হলো ইসলাম। তাই ঘোমটা বা হিজাব দেখলে এই মিতা হকদের অসীম আক্ষেপ শুরু হয়ে যায়। খুবই স্বাভাবিক। আমি আনন্দিত, ইতিহাসের এই অনিবার্য ধারাবাহিকতার স্বাক্ষী হতে পেরে। এবং দু:খিত মিতা হক। আপনি যত কষ্টই পান না কেন, বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে দাড়ি বোরকার সংখ্যা বাড়ছে এইটা বাস্তবতা। জয়েরও অনেক কষ্ট হয়, পেপার লেখে। পুরা পৃথিবীতেই এই অবস্থা। আহা কি যে কষ্ট আপনাদের। চুক চুক!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s