এবার অদিতি ফাল্গুনী

আমি চরম হতাশ। আমার পক্ষে আর সম্ভব না মিতা হককে নিয়ে কিছু বলা। কয়জনের কথার প্রতিবাদ করা যায়?? এবার “এই তোমরা সবাই মিতা আপাকে সব এটেনশন দিয়ে দিচ্ছো, তাহলে ম্যায় হু না কি করতে” বলে চিৎকার করতে করতে মাঠে নেমে গেছেন আরেক সাহিত্য-বাঈজী অদিতি ফাল্গুনী।

অদিতি ফাল্গুনী যা বলেছেন, তার হাইলাইট হলোঃ

“মিতা আপা তো ভুল কিছু বলেননাই।
নিরানব্বই ভাগ মহিলা ‘হিজাবি’।
এই হিজাব কি আমাদের?
এগুলা তো মরুভূমির পোষাক।
আগে এমন ছিলো না।
অথচ এখন চারিদিকে শুধু হিজাব আর হিজাব।
এখন ভ্রাম্যমাণ পতিতারাও হিজাব পড়ে।
শপিং মলের সিড়িতে বোরকা পরা মেয়ে দুই পুরুষের মাঝখানে উঠে নোংরামি করতেসে, আমি নিজে দেখেছি।
এগুলা শুরু হইসে ছিয়ানব্বই সাল থেকে।
তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অনুকরণে, তিনি মাথায় ঘোমটা দেয়া শরীরে চাদর পেচানো শুরু করেন।
সৌদি টাকায় এখন গ্রামগঞ্জে বোরখা বিলি হয়।
দু:খের বিষয় হলো বাঙ্গালীর খাদ্যাভাস পর্যন্ত বদলে যাচ্ছে।
ভাতমাছের চিরকেলে বাঙ্গালী এখন গরুখোর হয়ে যাচ্ছে।
সুতরাং মিতা হক যা বলছে, তাই প্রকৃত ‘বাঙালী মুসলিমের রেনেসাঁ বা আত্ম-জাগৃতির ধারা’।”

এই শাহবাগিরা নিজেদের প্রগতিশীল/ আধুনিক ইত্যাদি ইত্যাদি দাবী করে। আর এই অন্ধ সাহিত্য-বাঈজী তার লেখা শুরু করেছে এই বলে, “মিতা হকের বক্তব্য দেখিনি বা শুনিনি। তার মতো রুচিশীল শিল্পী খারাপ বললেও কত খারাপ তা আমার আন্দাজ আছে। আর তিনি ভুল ও তো কিছু বলেননি।” যুক্তির কি বহর!!! এই হলো বাংলাদেশীদের প্রগতিশীল আধুনিক সভ্যদের চিন্তার ধারা। এদেরকে গালি না দিয়ে কিছু বলাটাও একটা অগ্নিপরীক্ষা।

গ্রীক মিথলজিতে এক দানবের কল্প-কাহিনী কাহিনী আছে। হাইড্রা নামের সে দানবের অনেকগুলো মাথা ছিলো। এবং তার বৈশিষ্ট্য ছিলো, কোন মাথা কেটে দিলে ঐ কাটা মাথার জায়গায় সাথে সাথে নতুন দুইটা মাথা গজিয়ে যেতো। তাই এ দানবকে শেষ করাটা ছিলো প্রায় অসম্ভব।

হিরাকলস যখন তাকে হত্যা করতে গেলো, বিশাল সমস্যায় পড়লো। এক মাথা কাটে তো দুই মাথা গজায়। অনেক এই সেই যুদ্ধ ইতং বিতং শেষে একটা বুদ্ধিতে কাজ হলো। হাইড্রার একটা মাথা কেটে সাথে সাথে ঐ কাটা জায়গায় আগুন গরম ধাতব ছেকা দিয়ে দেয়া হলো, নতুন মাথা গজানোর পথ বন্ধ করে দেয়া হলো। তারপর আরেক মাথা কাটা।

মিতা হক তো ঘোমটা দাড়ি টুপির কথা বলেছেন। অদিতি ফাল্গুনী এক পা বেড়ে গরুখোর মুসলিমের খাদ্যাভ্যাস সংস্কারের আহবান জানালেন। সুতরাং পোশাক সংস্কার করতে হবে। এরপর খাদ্যাভ্যাস সংস্কার করতে হবে। এরপর বাংলা ব্লগে নাস্তিকরা ঈদ ও কুরবানী নিয়ে বহু বছর ধরে যে বিকৃত বিতর্ক করে আসছে, এখন সামনে শাহবাগি এই সংস্কৃতিসেবীর দল তাও মেইনষ্ট্রিমে নিয়ে আসবে। ঈদ তো বিজাতীয় আনন্দউৎসব!! আমরা কেন ঈদে আনন্দ করবো। আমাদের আছে পয়লা বৈশাখ, নবান্ন, সার্বজনীন দুর্গা মায়ের আরাধনা। আর কুরবাণীর ঈদ??? নির্মম পশুহত্যা, দেশের গবাদি পশুর বিলোপ, শিশুদের মানসিক নিষ্ঠুরতা শিক্ষা কত কি। তারপর আর কিছুদিন গেলে আরো কত কিছুই যে সংস্কার করতে হবে বাঙ্গালীয়ানার স্বার্থে, বলতে গেলে প্রাপ্তবয়স্ক বর্ণনা হয়ে যাবে।

আমার দুইটা প্রশ্ন।

বছরের এই সময়ে এই সারমেয়দের আচমকা ভাদ্র মাস আসার কারণ কি? সেক্যুলার শাহবাগিরা হঠাৎ করে এইসব নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় কিন্তু চরম অমার্জিত ঔদ্ধত্যের, বিভক্তিমূলক ও জাতিগত দাঙ্গার দিকে নিয়ে যাওয়া কথাবার্তা বলা শুরু করার কোন নির্দিষ্ট কারণ আছে না কি?

আমার বিশ্বাস, মামুনুর রশীদ তারিক আনাম মিথিলা মিতা হক থেকে শুরু করে অদিতি ফাল্গুনী এগুলো প্রত্যেকেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং র’ এর প্যারোলে থাকা দালাল। এরা প্রতিযোগিতা করে বাড়তি এটেনশন এবং রেমুনারেশন চায়। আর ভারত চায় তাদের নিজেদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে।

আর, এদের প্রতিকার কি? হাইড্রার মাথা কাটার নতুন পদ্ধতি থেকে কি শিক্ষা নিবো? তাহলে এতোদিন যে বিশ্বাস করেছি, শক্তির উত্তর শক্তি দিয়ে আর কলমের উত্তর কলম দিয়ে, সেই বিশ্বাসটা কি রিভিশন দিতে হবে? নগরীতে আগুন যখন লেগে গেছে, সাদা কালোর বিভক্তি দিয়ে স্রেফ দুই ভাগে ভাগ করার খেলা যখন শুরু হয়ে গেছে, কোন দেবালয় রক্ষা পাওয়ার কথা না। মিতা হক তারেক আনামরা কি মনে করে যে তারা সংস্কৃতি-মিডিয়া ইত্যাদি মন্দিরের দেয়ালের আড়ালে নিরাপদে বসে থাকবে? হাহাহাহা

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s