অধিকার সম্পাদক প্রসঙ্গে প্রথম আলোর দ্বিচারিতা

মতিঝিলে বিদ্যুত বন্ধ করে মিডিয়া সরিয়ে দিয়ে রাতের অন্ধকারে যে গণহত্যা হয়েছিলো মে মাসে, প্রায় তিনমাস পরে এসেও সে রাতে নিহতের সংখ্যার বিতর্কটা প্রাসঙ্গিক হয়ে দাড়িয়েছে। এখন ঐ বিতর্ককে চাঙ্গা করেছে শেখ হাসিনার পদলেহনে নিয়োজিত এক নেত্রী এক দেশের আওয়ামী সরকারযন্ত্র। এটা তারা করছে অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে শায়েস্তা করার অজুহাত হিসেবে। আর সরকারের পোষা কুকুর বাহিনী পুলিশ তাকে নির্যাতন করতে ধরে নিয়ে গেছে।

এটা এক দিক দিয়ে খুব স্বাভাবিক। ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারীদের শেষ অস্ত্র একটাই, শক্তির জোরে দমন করার চেষ্টা। কিন্তু এই ঘটনাকে নিয়ে মতিউর-মাহফুজআনামদের পত্রিকা প্রথম আলো গং এর ভূমিকা টা খেয়াল করা উচিত সবার।

মানবাধিকার প্রগতিশীলতার ধ্বজাধারী প্রথম আলো এ ঘটনার খবর ছাপিয়েছে “আদিলুর পাঁচ দিনের রিমান্ডে”। খবরটা পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন, অধিকার দোষী। কারণ অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৬১ জন মারা গেছে সে রাতে। অথচ পত্রিকা ‘তন্ন তন্ন’ খুঁজেও ১৬ জনের বেশি মৃত পাওয়া যায়নি। সুতরাং অধিকার তথ্য বিকৃতি করেছে। সরকার নিহত ৬১ জনের নাম ঠিকানা চেয়েছিলো, কিন্তু অধিকার দেয়নি। সুতরাং অধিকার দোষী।

১. শুভ্রকে শায়েস্তা করতে আওয়ামী লীগ তথ্যপ্রযুক্তি আইন ব্যবহার করেছে। এ আইন অনুযায়ী ইলেকট্রনিক ফর্মে মিথ্যা, অশ্লীল বা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ অপরাধ। বিষয়টা খেয়াল রাখা দরকার। অধিকার যেখানে নিরপেক্ষ মানবাধিকার সংগঠন হয়ে দোষী, সেখানে এই আইনে ভিন্নমতের সব ফেসবুকার, ব্লগার, অনলাইন একটিভিষ্টই কুখ্যাত অপরাধী হওয়ার যোগ্য। অন্যদিকে, বিপক্ষ সম্পর্কে মিথ্যা প্রচারের বিচার তো সরকার এই আইনে করবে না। তখন কেউ নিজস্ব উদ্যোগে এই আইন প্রতিষ্ঠা করতে শাস্তি দিতে পারেন।

২. প্রথম আলো হলো শাহবাগি ভন্ডামীর একটা প্রকৃষ্ট নমুনা। তারা অধিকার পক্ষের কারো কোন বক্তব্য বা উত্তর যোগ করার দরকারও বোধ করেনি।

৩. প্রথম আলো হলো আংশিক সত্য প্রকাশ করে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করার পত্রিকা। অধিকারের সরকারের কাছে তালিকা দেয়নি। বরং অধিকারের দাবী ছিলো কোন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন হলে সে কমিশনের কাছে সব তথ্য প্রমাণ তালিকা দেয়া হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা প্রথম আলো বেমালুম চেপে গিয়েছে।

৪. শুভ্রকে গ্রেফতার করা নিয়ে পুলিশ ডগ স্কোয়াডের অফিসার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছে “কাল্পনিক ৬১ মৃত্যুর দাবীতে দেশের ভাবমুর্তি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।” তা ঠিক। আমরা দেখতে পারছি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে আওয়ামী শাহবাগিরা অত্যন্ত সচেতন।

বাংলাদেশে যেন বাংলা সিনেমা চলছে। গ্রামের মোড়ল ধর্ষণ করে, এরপর তা নিয়ে রিপোর্ট করলে মোড়ল হুকুম দেয় ধর্ষণের তথ্য প্রমাণসহ যুবতিটিকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে। সে বিষয়টা খতিয়ে দেখবে!!!

আর মোড়লের ডানহাত ও সব অপকর্মের সহযোগী পাচাটা দালাল হিসেবে কাজ করে যায় প্রথম আলো। অতপর রিপোর্টের তথ্যপ্রমাণ যেহেতু মোড়লের কাছে পেশ করা হয়নি, সুতরাং প্রগতিশীলতার হুকুমবরদার প্রথম আলোর বিচারে শুভ্র দোষী সাব্যস্ত।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s