মাহবুবুল হক শাকিল ও শাহনাজের লদকালদকি

Image
শেখ হাসিনার ‘বিশেষ সহকারী’ মাহবুবুল হক শাকিল। দুইহাজার দশে গরীব দেশের ধনী রাণী শেখ হাসিনা বিশাল লটবহর নিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশন উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক সফর করছিলো। সেই সফরকালীন এক গভীর রাতে নিউইয়র্কের গ্রান্ড হায়াত হোটেলে বোতল টেনে শাকিল গরম হয়ে গেলো। যেমন নেত্রী, তেমন তার সহকারী।

মামার মাথা গরম হইসে, দেশে থাকলে তো ছাত্রলীগের পোলাপান বা পুলিশ ব্যবস্থা করে দিতো। কিন্তু এই গভীর রাতে নিউইয়র্কে কি হবে মাইরি? সমস্যা নাই। বেশ কিছুদিন ধরেই শাকিলের লোভাতুর নেকনজর ছিলো ডেলিগেশনের এক নারী সদস্যের উপর। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অফিসার শাহনাজ। এরপর যা হলো সেই রাতে: হোটেলের ঐ ফ্লোরে চিৎকার, রুমের দরজায় ধাক্কাধাক্কি, কামড়াকামড়ি, কান্না ফোপানি এবং শেষ পর্যন্ত উদ্ধার। আম্রিকার মতো দেশে ফিজিক্যাল এসল্টের শাস্তি অনেক কঠিন। কিন্তু স্বয়ং নেত্রীর হস্তক্ষেপে পুলিশ পর্যন্ত আর গেলো না ঘটনাটা। কারণ ভিকটিম শাহনাজ কোন পুলিশী অভিযোগ আর দায়ের করেন নাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চুনোপুটি অফিসার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপর কথা বলার প্রশ্নই আসেনা। সুতরাং পুলিশ কিছু জানলো না। কিন্তু হোটেল সিকিউরিটি এবং ম্যানেজমেন্ট বিষয়টা নোটিশ করে রাখলো।

পরদিন দ্রুত শাকিলকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, শাকিলের নিজের মেয়ে যাকিয়াও উঠতি কিশোরী বয়সী এখন। বেচারীকে দেখলে দু:খ লাগে, এমন লুচ্চা বাপের মেয়ের কপালে কি আছে আল্লাহ মালুম। কিন্তু এতো বড় সন্তান পর্যন্ত আছে তাতে অবশ্য শাকিলের সমস্যা কি? কুত্তালীগের এরা কি মানুষ হয় না কি??? বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ!

একটা সভ্য দেশ বা রাষ্ট্রব্যবস্থা থাকলে অনেক কিছুই হতে পারতো। তবে বাংলাদেশে শাকিলের বাহাদুরি দিনদিন আরো বেড়েছে। ঐ ঘটনা তার ক্যারিয়ারে একটা মেডাল যোগ করেছে। এখন যে কোন নারী সরকারী কর্মকর্তাকে পছন্দ হলেই হইসে, শাকিলের লুলোপ আগ্রাসন থেকে আর বাঁচার কোন উপায় বাংলাদেশে নাই।

যাইহোক, গ্রান্ড হায়াতের সে ঘটনায় এনওয়াইপিডি’র কাছে নালিশ না করে নিজের ইজ্জতের বিনিময়ে শেখ হাসিনার কথা মেনে শাহনাজ পুরস্কার পান দ্রুতই। চীনে বাংলাদেশের নতুন মিশন খোলা হয় এবং শাহনাজকে টপ পোষ্ট কনসাল জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

চাকরি রক্ষা ও পদোন্নতি ইত্যাদি ইত্যাদি সবকিছুর সাথে সাথে শাকিলের লোভাতুর লালসাও চলেছে সমানতালে। সেই চুনোপুটি কর্মকর্তা এবং বর্তমানের মাননীয় কনসাল জেনারেল শাহনাজের সাথে শাকিলের এই ছবিটি নিউইয়র্কের সে ঘটনার দেড়বছর পরে ঢাকার গুলশানে এক জাপানী সুশি রেস্তোরায় তোলা। এখানে কোন গোয়েন্দাগিরি করা হয়নাই। শাকিল নিজেই নিজের ছবি দিয়ে এ বাহাদুরির দাবী করেছে। শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী জিন্দাবাদ। শেখ কামালের চরিত্র, শাকিল ভায়ের আদর্শ।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s