আযাদ সাইমুমঃ ভাই একটু ক্ষান্ত দেন, একটু মাফ করেন প্লিজ

ভাই বিশ্বাস করেন আমি আপনারে ফলো করে, গোয়েন্দাগিরি করে এই ছবি দেখিনাই। এক ছোটভাই দিলো। তারপর গুগল ইমেজ সার্চ করে আর কিছু দেখার বাকি নাই।

ভাই, আপনে মিশরে আছেন। এই মুহুর্তে আপনার একটা বড় দায়িত্ব ছিলো। বিশাল একটা কাজ করার সুযোগ ছিলো। তার বদলে আপনি বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের সিপাহসালার হয়া গেসেন। লোকজন কমেন্ট করে, আযাদ ভাই আপনে না থাকলে কি যে হতো আম্রা কিছুই জানতাম না অন্ধকার যুগের প্রাচীন গুহায় পড়ে থাকতাম। আপনিও খুশী। ছাগুরাও খুশী।

আপনে এখন বড় মানুষ। নয়াদিগন্তের বিশিষ্ট সাংবাদিক। জামায়াতের নয়াদিগন্ত আপনারে মাথার উপর তুলে রাখে। আর জামায়াতের লোকজনরে বেকুব পায়া আপনেও তাল্লিবাল্লি করতাসেন। ভাই কোনভাবে আপনার কাজকর্ম শুধু জামায়াতের সার্কেলে আটকায়ে রাখা যায়না? যদি পাবলিক না হয়, কথা দিলাম আপনারে খুঁচামু না। কিন্তু এখন আপনার কাজে এফেক্ট তো সবাই পাইতেসে ভাই। যেমন ধরেন আমি নিজে। আমি মুসলিম হয়া আনন্দিত, কিন্তু ছাগু হইতে রাজি না। ভাই আপনি তো আমাদের সবাইকে ছাগু বানায়া দিতেসেন। একটু ক্ষান্ত দেন না ভাই!

এই এক ঘন্টা আগে আপনে ছবি দিসেন, সাথে ক্যাপশন “সুবহানাল্লাহ, শহীদি মৃত্যু। এপারে দুনিয়া ওপারে জান্নাত”। কঠিন আবেগ। ভাই শহীদগোরে দেখলে আমাদের সবাই আবেগাক্রান্ত হই। আপনে সত্যি কইরা বলেন তো, আপনে কি সেই আবেগরে পুঁজি কইরা ধান্দা করতে চান?

আপনারে ধরায়া দেবার পর এই ছবিটার আপনে একটা সুন্দর ব্যাখ্যা দিবেন। বলবেন যে, “আমি কি বলসি এইটা কোথাকার ছবি? আমি কি বলসি এইটা কালকের মিশরের ছবি? এইটা যে কোন শহীদের ছবি। আমি তো খালি অনুপ্রেরণা দিতেসি ফাইল ফটো দিয়া”!!!

আপনে কাবার ইমামের মানববন্ধনের খবর বানায়া পুরানা ছবি দিয়া আমারদেশ আর মাহমুদুর রহমানকে ঘোল খাওয়ায়া দিসেন। তারপর ব্যাখ্যা দিসেন, ফাইল ফটো দেয়া সাংবাদিকতার রেওয়াজ। এখনও সেই ব্যাখ্যা সমান কার্যকরী, আপনে যেহেতু কোথাকার ছবি কার ছবি কিছু উল্লেখ করেন নাই।

আপনে আছেন মিশরে। গত কয়দিন থেকে বিভিন্ন সাইট থেকে নিয়ে সমানে ছবি আর সাথে আবেগঘন ক্যাপশন আপলোড দিতাসেন। আপনার অতীত রেকর্ডের পরেও আপনারে বিশ্বাস করার মতো বেকুবের অভাব নাই। তারা সবাই আপনারে খুজতেসে মিশরে কি হইতেসে তা দেখার জন্য। এখন যদি আপনার বিয়ার ছবিও দেন তা হয়ে যাবে গণহত্যার এই সংকটময় সময়েও বিয়ে সংঘটিত টাইপের ছবি। আর আপনে আছেন পুরানা ছবি দিয়া ধান্দা করার তালে।

ভাই, আপনার এই অভ্যাস কি একদম জন্মগত? কোনভাবেই কি শুধরাবেন না?

আপনে এক ঘন্টা আগে (১৬ আগষ্ট ২০১৩ বাংলাদেশ সময় সকাল ৫টার দিকে) এই ছবি দিসেন।

আপনার লিংক: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1404482893107707&set=a.1396153483940648.1073741828.1396116680610995&type=1&theater

অথচ এই ছবিটা দেখেন এই লিঙ্কে আপলোড হইসে ২৭ জুন ২০১৩ তারিখে।http://www.m3rf.com/2013/06/blog-post_4759.html

ওইখানে কোথাও বলা নাই এইটা শহীদের বা এমনকি মিশরের ছবি। বরং বলা আছে তিনি মারা গেছেন মদীনা শহরে, খুব ভালো চরিত্রবান পূণ্যবাতী ইবাদতকারী মহিলা ছিলেন। এবং জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে তাকে কবর দেয়া হয়েছে। ভাই আমাগোরে এমন বেকুব বানাইলেন কেন?

গুগল ব্যাটা বড় বদমাশ। আরো কত কত জায়গায় যে ছবিটা খুঁজে বের করসে দেখেন তো। এই লিঙ্কে আপলোড হইসে ২৫ মে ২০১৩ তারিখে।

http://www.mutuellemaroc.ma/vb/showthread.php?t=40590

আরও আছে। এই লিঙ্কে ছবিটা আপলোড হইসে আগষ্টের দুই তারিখ

http://south-clubs.mam9.com/t1887-topic

এইরকম দিতে থাকলে শেষ হবে না। লিষ্ট লম্বা না কইরা আপনার কাছে করজোরে একটা অনুরোধ করি। কালকে দেখলাম ড. বেলতাগির নিহত মেয়ের ছবির নিচে নিজের নাম প্রিন্ট কইরা ফেসবুকে ছাড়সেন। ভাই আপনের যদি ভুট লাগে বলেন ভুট দিমু। তবু একটু মাফ করেন প্লিজ।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s