শেখ হাসিনার মধুভাষা ও অন্যান্য ফেসবুক ষ্ট্যাটাস ব্যাকআপ

প্রাকটিস মেকস এ ম্যান পারফেক্ট। আর প্রাকটিস মেকস শেখ হাসিনা লাজওয়াব। বস্তির মাগিদের মতো খোচায়া কথা বলতে বলতে তিনি যেই পর্যায়ে গেসেন, তার আর কোন তুলনা নাই। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বইয়ে সত্তরের দশকের ঢাকার বস্তিতে দুই মহিলার মধ্যে ঝগড়ার একটা বয়ান আছে। সেইখানে খিজিরের বউ এর সাথে ফজলুর বউ এর ঝগড়ার যে ঘটনা, পড়লে মনে হয় ইলিয়াস বস্তির মানুষ। “চান্দে চান্দে পুলিশের চোদন না খাইলে চোট্টাগো গতরের মইদ্যে ফোসকা পড়বো না? হাজত না চোদাইয়া বৌ পোলাপানের ভাত দিবার পারে না, হেই চোট্টা মরদের মুখের মইদ্যে আমি প্যাসাব করি”। ষ্টানিং!!

সেই ইলিয়াসও মনে হয় শেখ হাসিনার কথা শুনলে তব্দা খায়া যাইতেন। তার পক্ষেও সম্ভব না হাসিনার মুখের ভাষাকে জীবন্ত ও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা। আজকে যিনি বয়ান দিসেন “স্বামী হারায়া যে কান্দন কান্দেননাই, বাড়ি হারায়া খালেদা জিয়া তারচেয়ে বেশি কানসেন”।

আমার ফাঁসি চাই বই এর কিছু বয়ান খুবই রগরগে। মৃণাল কান্তি আর শেখ হাসিনার শরীরি সম্পর্কের কথা। বিশ্বাস হয় আবার হয় না। কিন্তু আজকে সব সন্দেহের নিরসন হইলো। কোন মহিলার জীবনে যদি সত্যিকার স্বামী থেকে থাকে তার পক্ষে এইটা বলা সম্ভব না। বেচারা ড. ওয়াজেদ!
_____________________________________________________________________

৩১ আগষ্ট
ক্রনোলজিকালি …

হাসিনাঃ সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বো না।
খালেদাঃ চুলই থাকবে না, জনগণের বাতাসে উড়ে যাবে।
ফাকতালে ব্যারিষ্টার রফিকুলঃ হাসিনা একচুল না, প্রচুর নড়েছেন।
আবার হাসিনাঃ আমার “সব” আসল চুল, পরচুলা পড়ি না যে ভয় পাবো।

খালেদাঃ ক্ষমতা শেষ হলেই জনগণ দেখতে পাবে কার চুল আসল আর কারটা নকল।
ফাকতালে এরশাদঃ এইদেশে পুরুষের শাসন দরকার। সবাই লাঙ্গল মার্কায় ভুট দিন।
হাসিনাঃ চুলের আসল নকলের খবর একমাত্র ফালুর কাছে আছে।
খালেদাঃ গদি ছেড়ে রাস্তায় এসে প্রমাণ করুন কার চুল মজবুত।
ফাকতালে অটিষ্টিক জয়ঃ আমার কাছে তথ্য আছে খালেদার চেয়ে আমার মায়ের চুল অনেক শক্তিশালী।
হাসিনাঃ …………………….
খালেদাঃ ……………………..
ফাকতালে জাফর ইকবালঃ তোমরা যারা চুল ছিড়ো …………
হাসিনাঃ …………………………………..

এইটা হলো ভারতের বাফার ষ্টেট (পথচলতি ভাষায়, জারজ সন্তান) বাংলাদেশের নিয়তি।
চলতেই থাকবে …………..

_____________________________________________________________________

৩১ আগষ্ট
মৃত মহিলার মুখে হাসির ছবিটা শেষপর্যন্ত ইখওয়ানের অফিসিয়াল আরবী পেজেও শেয়ার মারসে, যাতে লাইক আছে চার লাখেরও বেশি মানুষের। আর কিছু বলার নাই। বাচিতে চাহিনা আমি এ ফেক ভুবনে।

_____________________________________________________________________
৩০ আগষ্ট

একটা খবর পইড়া বাংলাদেশী হিসাবে গর্বে বুকের ছাতিটা ফুলিয়া গেলো। মধ্যপ্রাচ্যের ডাষ্টবিনে বাংলাদেশী গৃহকর্মীদের অবাঞ্চিত সদ্যজাত বাচ্চা পড়ে থাকে, আর লেখা থাকে “ইহা বাংলাদেশী বাচ্চা”। হু হু বাংলাদেশের কত নাম হইলো।

জর্ডান থেকে শামীম আহমদ নামে একজন লিখেছেন। বিডিটুডেব্লগে দেখলাম কেমনে আরব দাদারা বাংলাদেশী মেয়েদের সগৌরবে ও সপরিবারে ভোগ করতেসে, তার বয়ান। বয়ানে বাস্তবতা বরং কমই এসেছে। আরব দেশগুলাতে বেশি দাম ফিলিপিনা হাউজমেইডদের। এরপর জনসংখ্যা বহুল ইন্দোনেশিয়া থেকে মেয়েরা গিয়ে বাড়িগুলো ভরে গেলো। যাদের সামর্থ্য আরো কম তাদের জন্য গেলো ভারতের কেরালার হাউজমেইড। এখন একদম গরীবদের জন্য সাপ্লাই হচ্ছে বাংলাদেশী মাল।

সম্ভবত খালেদা জিয়ার সরকারের সময় এই আকাম শুরু হইসিলো। এখনও মহাসমারোহে চলতেসে। সাবাস বাংলাদেশ।

_____________________________________________________________________________

৩১ আগষ্ট
বসুন্ধরার বালের কণ্ঠ এমনিতে একটা গার্বেজ পত্রিকা। তবে সম্প্রতি খুব ভালো দুইটা নিউজ করসে। বাংলাদেশীয় দাদাপ্রেমে আপ্লুত হয়ে গেসি আমি।

বাংলাদেশ থেকে ইলিশে যাইতে যাইতে এমুন হইসে, ইন্ডিয়ার কোল্ড ষ্টোরেজে “এক ইঞ্চি জায়গা খালি নাই”। দাদা-দিদিরা পানির দরে ইলিশ কিনতেসে। অবস্থা এমুন যে রাখার জায়গার অভাবে চোরাপথে যাওয়া ইলিশ আবার চোরাপথেই ফিরত আনতে হইতেসে।

খবর পরে আনন্দে জল এসে গেসে। বাংলাদেশের জন্ম হওয়া স্বার্থক হইসে। হাসিনা দি এমুন সেবা দিসেন ভারতকে, দুনিয়ার কোন রক্ষিতাও তার কর্তাকে এইরকম পরিপূর্ণ তৃপ্তিদায়ক সেবা দিতে পারেন নাই। পশ্চিমবঙ্গের দাদাদের জামাইষষ্ঠির ইলিশ জোড়া কিনতে আর টাকার চিন্তা করতে হচ্ছে না। পৃথিবীতে এরচেয়ে বড় স্বার্থকতা আর কি আছে বাংলাদেশের জন্য?

তবুও বাংলাদেশ থেমে থাকার পাত্রী না। উল্টা ভারত থেকে সফটওয়ার আমদানি করতেসে। হু হু। বাংলাদেশ আসলে উন্নত দেশ। দেশের এতো এতো ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়ার নির্মাতা, প্রোগ্রামার এগুলা আসলে বেকুব। দেশীয় কুত্তার ভাত নাই। ভারতীয় কুত্তা চুমায় চুমায় একাকার।

দেশে পেপাল নাই, ভালো স্পিডের ইন্টারনেট নাই, এই দেশে আবার প্রোগ্রামার কিসের? বাংলাদেশের জন্ম হইসে ইন্ডিয়ার তলা চাটার জন্য। বাংলাদেশী হয়া আবার প্রোগ্রামার হওয়ার স্পর্ধা করস?? হু হু। জয় বাংলা। যুগ যুগ ধরে ইন্ডিয়া থেকে আমদানি কর। শুধু সফটওয়ার কেন, তোদের মেয়েদের জন্য জামাই ও আমদানি করে বাংলাদেশী জন্ম স্বার্থক কর।

ImageImage

______________________________________________________________________________

২৮ আগষ্ট

দুনিয়ার মানুষগুলা এইরকম কেন? মিডিয়া যা খাওয়ায়, চোখ বন্ধ কইরা তা খালি গিলতে থাকে। সিরিয়া মিশরে হাজার হাজার মানুষ খুন হয়, আর আশেপাশের পোলাপান তেতুল শসা ছেলে বুড়ো সবাই মহা ব্যস্ত মাইলি সাইরাস নামের এক নায়িকারে নিয়া। টিভিতে কাউ কাউ, ক্যান্টিনে ভেকর ভেকর। এমটিভি এওয়ার্ডে এই নায়িকা কোমর দোলায়া বিশ্রি নাচ দিসে, অহন পুরা দুনিয়ার মাথা খারাপ হয়া গেসে। আমার এই জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন হইলো পশ্চিমা দেশগুলাতে যুদ্ধ মারামারি আর গণহত্যা দেখা। তহন এরা মাইলি সাইরাস নিয়া কেমন লাফাইতো দেখতাম? নিজেদের উপর না আসলে কোন খবর নাই, বিকার নাই।

সোমবার দুপুরে খাইতে গেলাম ক্যান্টিনে। কোনমতে গরিবের খানা খাইতেসি, হঠাৎ কয়েকটা পোলামায়া শিষ দিলো। কি ব্যাপার! টিভির দিকে তাকায়া দেখি এক লোক জেব্রার মতো কাপড় পইড়া খাড়ায়া আছে। আরেকটা প্রায় নগ্ন মেয়ে অদ্ভুত এক ভঙ্গিমায় আটকায়া গেসে আর ছাড়ান পাইবার চেষ্টা করতেসে, এইটা না কি নাচ! চার-পাঁচ সেকেন্ড নাচের ক্লিপটা দেখাইলো তারপর তিন মহাজ্ঞানী মিল্যা বিশ্লেষণ করতে শুরু করলো। হুম সামাজিক অবক্ষয়, হুহু ব্যাক্তি স্বাধীনতা না না ডিজনীর ব্রান্ড নিয়ে এই নাচ আমাদেরকে শিশুদের বিষয়টা দেখতে হবে ব্যা ব্যা প্রতিবছর মিডিয়াতে কেউ না কেউ এই ধরণের একটা কাজ করে দেখুন সত্তর দশকের ইতিহাসে ব্লা ব্লা ব্লা। তখন আমার সত্যি সত্যি মনে পড়তেসিলো আদিত্য আরাফাত আর লুচা মোজা বাবুর কথা।

সন্ধ্যায় বাসায় আসতেসি বাসে, ঝিমাইতেসি। সামনের দুইটা পোলা, বয়স হবে বিশ থেকে পঁচিশ, ভ্যাকর ভ্যাকর শুরু করলো। ওওওও মাই গড শি’জ ফ্রিকিং হট, হোয়াট? ডিড ইউ সি হার বাট!!! ব্লা ব্লা ব্লা। আজব ব্যাপার। মেয়েদেরকে আলাদা দোষ দিয়া লাভ নাই।

রাতে হাউজমেটে জিগায়, দেখসো এমটিভি এওয়ার্ডে কামটা কি হইসে!!

তারপর দিন ফেসবুকে ঢুকে দেখি সবগুলার মাথা খারাপ হয়া গেসে। আর আজকে ঘুম থেকে উঠে ফিডলীর নিউজ ফিডে দেখি মাইলি সাইরাস। ক্যাম্পাসে গিয়া পত্রিকা হাতে নিয়া দেখি তৃতীয় পৃষ্ঠায় বিশাল ছবি সহ জ্ঞানগর্ভ প্রতিবেদন। দুনিয়াতে একটা বিশাল ঘটনা হইসে। আর হাজার হাজার মানুষ মারা যাইতেসে কারো কোন বিকার নাই। দুনিয়ার মানুষগুলা এইরকম কেন?

_____________________________________________________________________________

২৭ আগষ্ট
চট্টগ্রামে বিশাল একটা এলাকার ব্যবসায়ীরা আজম নাসির আর ছাত্রলীগের আদরের ছোঁয়া বঞ্চিত। দোকানদারদের থেকে চান্দা, ডেভেলপার কোম্পানীর বখরা, কোটি কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাসিনার সোনার ছেলেরা। এইদিকে চট্টগ্রাম কলেজ মহসিন কলেজ খাস্তগীর কাপাসগোলার অনেকগুলা কচি কচি তেতুলকে চ্যাতনা দিতে পারতেসে না মুজিবের সোনার পোলারা। তাই চকবাজার দখল করাটা আওয়ামীলীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রসঙ্গত এক আওয়ামী নেতার কথা মনে পড়লো। খাটি লীগার, মুখের কোন লাগাম নাই। তার গবেট কিন্তু সুন্দরী মেয়েরে কমার্স কলেজ সিটি কলেজ এইসব কোন কলেজে ভর্তি না করায়া এক বছর লস দিয়া বহুত উচ্চ পর্যায়ে উমেদারী কইরা শেষ পর্যন্ত মহসিন কলেজে পাসকোর্সে ভর্তি করাইসে। চা খাইতে খাইতে জিগাইসিলাম, দাদা মেয়েরে রাজাকারদের হাতে তুলে দিলেন?

দাদায় উত্তর দিসিলেন, “রাজাকারগুলা হারামজাদা হইলেও আমার মেয়েটার হাইমেন টা ঠিক থাকবো। আপাতত এইটা বেশি দরকার! সিটি কলেজের পোলাগুলাকে আমি টাকা দিয়া পালি, কিন্তু নিমকহারামগুলা আমার মেয়েরেও ঝুলনা বানায়া দিবে এইটা আমি ভালো করে জানি”।

_____________________________________________________________________________

২৪ আগষ্ট

আপা আপনার বিষয়টা বুঝা উচিত ছিলো, এই ভুলটা আপনার কাছ থেকে একদম অপ্রত্যাশিত। পুলিশ আর আর্মির মাঝে বড় একটা পার্থক্য আছে। পুলিশ থাকে পাবলিকের মধ্যে। তাদের অফিসার রা পাঁচ দশ টাকা নিলেও পাবলিক দেখে হাউমাউ লাগায়া দেয়। অথচ ওয়ান ইলেভেনের পর আর্মি যে লক্ষ কোটি টাকা নিসে, কেউ দেখসে? পুলিশের একটা ইনস্পেক্টর মাহফুজুর মরলে পুরা দেশে চিল্লাফাল্লা শুরুহয়ে যায়। অথচ দেখেন আর্মির মে. জেনালের রফিক আর লে. কর্ণেল শহীদুল মরসিলো, কেউ কিছু টের পাইসে?

বুঝি আপনি শেষপর্যন্ত আর্মিরে শত্রু মনে করেন, শত হলেও আপনার পুরা পরিবাররে কোরবান দিসে। কিন্তু দুই একটা বিশ্বস্ত ভৃত্যও তো আছে। অ্যাট লিষ্ট নবম ডিভিশনের জিওসি হাসান সুরাওয়ার্দীরে তো বিশ্বাস কইরা কাজটা দিতে পারতেন!! জিওসি ছাবে কি রেশমা অপারেশনটা দক্ষতার সাথে হ্যান্ডেল করে নাই শেষ পর্যন্ত? তারে নেক্সট চিফ করবেন, এই আশায় তো সে সবই করতাসে। এইটা কি সে করতো না?

আপনার বুঝা উচিত ছিলো আর্মির একটা বিশাল ইনফ্রাষ্ট্রাকচারের সুবিধা আছে। হাজার হাজার একর জায়গা আছে, তাদের কম্পোষ্ট সারের সরবরাহ দিতে কয়েক লাখও গাপ করতে সক্ষম। কিন্তু আপনে তা করলেন না। আপনে বিশ্বাস করলেন পুলিশকে। এখন কোণায় কাঞ্চিতে লাশ বাইর হইতাসে। মাতুয়াইলে একটা ব্যাচ একসাথে বাইর হইসে। আপা, মনে করসিলাম আপনার পোলা জয় একাই অটিষ্টিক। এখন তো দেখতাসি আপনিও অটিষ্টিক। ইয়ে তুনে ক্যায়া কিয়া???

_____________________________________________________________________________

২৪ আগষ্ট

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ট্রেনিং এর সময় বলা হয়, ডিউটিতে তুমরা পরিবার থেকে দূরে থাকো। শরিল গরম হইলে একটা বাংলাদেশী ধইরা ঠান্ডা হয়া নিবা। নো প্রবলেম, ওগোরে আমরা ৭১ সালে স্বাধীন কইরা দিয়া আমাগো রক্ষিতার জাত বানাইসি। এখন মন দিয়া টহল মারো আর সেবা নাও। পাকিস্তান সীমান্তে ডিউটি পড়লে তাই বিএসএফ এর জওয়ানদের মন খারাপ হয়, আর যখন কেউ বাংলাদেশ সীমান্তে ট্রান্সফার হয় তখন তারে সবাই অভিনন্দন জানায়।

কনগ্রাচুলেশন্স বিএসফ। পাইসো বাংলাদেশরে গোলামের জাত, ফাকায়া যাও মহানন্দে।

যেই মহিলারে তুমরা স্বামী আর সন্তানের সামনে ধর্ষণ করসো, সেই মহিলার এখন বাকি জীবন গান গাওয়া উচিত ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’।

_____________________________________________________________________________

২১ আগষ্ট
গত কিছুদিন যাবত আলোচনায় আসছে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। জয়ের পেশা কি, উপার্জনের উৎস কি এইসব কিছু স্বাভাবিকভাবেই ধোঁয়াশায় ঢাকা। কিন্তু জয় মূলত একজন ব্যাবসায়ী মানসিকতার মানুষ এবং বাংলাদেশে রাজনীতিকে সে কর্পোরেট ব্যাবসায়ীকরণ করতে এসেছে, তার এ কিছুদিনের কর্মকান্ডে তা পরিস্কার।

জয় প্রথম আলোচনায় আসে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি প্রসঙ্গে। তার আগে দোয়েল ল্যাপটপের বখরা, ইহুদি মেয়ে বিয়ে এসবও আলোচনায় হালকাভাবে ছিলো। ইহুদি ওভারমায়ারের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদের কথা ব্যাপক প্রচার হয়। আবার সেই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে এসে তিনি দেখিয়ে দিলেন বিয়ে বিচ্ছেদ হয়নি। তখন অন্যদিকে কনস্পিরেসি থিওরীর মতো ওভারমায়ারকে মোটা টাকা দিয়ে প্রদর্শনীর জন্য হায়ার করে আনার বিষয়টাও শোনা গেলো। এইটা না কি মার্কেটিং পলিসি!

কর্পোরেট দুনিয়াতে টাকা হলো আলটিমেট পাওয়ার। টাকা দিয়ে এবং টাকার জন্য যে কোন কিছু করা যায়। এবং প্রচার হলো ব্যাবসার অনিবার্য অংশ। বিখ্যাত কথা আছে ‘প্রচার না করে ব্যাবসা করা আর অন্ধকারে সুন্দরীর দিকে হাসা একই কথা’। সুতরাং জয় অন্ধকারে হাসলেন না, সারা দুনিয়াকে দেখিয়ে হাসলেন। নতুন প্রজন্মের ক্রেজ ফেসবুকে তিনি মহাসমারোহে পেজ খুললেন।

ফেসবুক কোন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান না। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের শেয়ারওয়ালা একটা ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান ফেসবুক। এই ফেসবুকে ভেরিফিকেশন পেতে হলে মাদার তেরেসা অথবা ষ্টিভেন হকিংস হতে হয়না। পয়সা দিলেই হলো। পর্ণ তারকা কিংবা কুত্তাও সে ভেরিফিকেশন পায়। ডলার দিলেই দশ বিশ হাজার লাইক পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে কি? এরোমেটিক যেমন মার্কেটিং এর ‘হালাল সাবান’ ট্রিক দিয়ে সব সয়লাব করে দিয়েছিলো, জয়ও ফেসবুক স্বীকৃতি ট্রিক দিয়ে চারপাশ ভাসিয়ে দিলো।

সেই ভেরিফিকেশন আর লাইক কিনে নিয়ে জয় এখন প্রচার চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে সে তার মায়ের অনুসারী। সমুদ্র বিজয় অথবা টাকা দিয়া ডক্টরেট কিনে তার শেখ হাসিনাও এইসব কাজ করসে। মা’য়ের সফলতা নি:সন্দেহে জয়কে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রচারেই প্রসার। জয়ের চারপাশে আছে কিছু শাহবাগি চামচা। বড় যে কোন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের আশেপাশে এরা থাকে। এরাই ফেসবুকে লিখে দেয়, সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করে প্রচারের ব্যবস্থা করে।

কথায় বলে, কোন পাবলিসিটিই ব্যাড পাবলিসিটি না। পাবলিসিটি মানেই কিছু সুবিধা অর্জন। সুতরাং জয়ের ব্যাবসায়ী মস্তিস্ক সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে কিভাবে পাবলিসিটি করা যায়। তার চোখ পড়ে গেলো বিলবোর্ডের উপর। তারপর যা হলো তা তো ইতিহাস। এইভাবে বাংলাদেশে স্কয়ার বেক্সিমকো প্রাণ গ্রুপের পাশাপাশি আরেকটা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা হলো, আওয়ামী গ্রুপ। রাজনীতিকে কর্পোরেট ব্যাবসা বানিয়ে সেই বাজারে আর কোন প্রতিদ্বন্ধী না থাকায় একচেটিয়া ব্যবসা করার এ সুযোগটা জয় ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে।

সামনের দিনগুলোতে আমরা আওয়ামী লীগের টিভি এড দেখবো। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে আওয়ামী লীগের মার্কেটিং এজেন্টরা ঘুরে ঘুরে খরিদ্দার খুঁজবে। আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম অথবা কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের বদলে বোর্ড সভা করবে, শেয়ার হোল্ডারদের নিয়ে এজিএম করবে। এভাবেই হয়তো এদেশের রাজনৈতিক মাফিয়া আওয়ামী লীগ ব্যবসায়িক পদ্ধতি এডপ্ট করে মেগা মাফিয়া কর্পোরেট হিসেবে আগামী আরো কিছু বছরের জন্য বাংলাদেশকে দখলে নিয়ে নেবে।

_____________________________________________________________________________
২১ আগষ্ট
বাংলা ব্যাকরণের কিছু প্রবাদ-প্রবচনের আধুনিকীকরণের সময় এসেছে। যেমন, ‘বাঙ্গালকে হাইকোর্ট দেখানো’র নতুন রুপ হবে ‘বাঙ্গালকে ফেসবুক দেখানো’।

সাবাস প্রথম আলো। শিরোনাম দিসে: “স্বীকৃতি পেলো জয়ের ফেসবুক পেজ”।
সাবাস বাংলানিউজ২৪। শিরোনাম দিসে: “জয়ের পেজকে বিশেষ সম্মান দিলো ফেসবুক”।

আওয়ামীলীগ না হয় নির্লজ্জ কুকুর। কিন্তু সাংবাদিকরা এমন চাটা শুকর হয় কিভাবে?

_____________________________________________________________________________
১৯ আগষ্ট
কিছুদিন আগে দেখা গেলো তার রান্না করার ছবি। আজকে বাজারে এসেছে ডিয়েসেলার নিয়ে ছবি তোলার ছবি। (ছবি কৃতজ্ঞতা: ইমাম হাসান)। আগামী দিনগুলোতে এই চপলা বালিকার আরো ছবি আসবে। মাজারের ছবি জায়নামাযের ছবি এগুলো পুরানা হলেও ভাতে বাড়বে, সুতরাং রিপিট হবে। তার সাথে আমি দশটা নতুন প্রস্তাবনা দিচ্ছি।

১. কম্পিউটার চালানোর ছবি, স্ক্রীণে ফেসবুক খোলা থাকবে। (ফাটাকেষ্ট কাদের আগেই পোজটা মেরে দিসে অবশ্য)
২. হাতিরঝিলে সাইকেল চালানোর ছবি।
৩. কানে হেডফোন দিয়ে একটু কোমর বাঁকিয়ে ইয়ো ইয়ো গান শোনার ছবি
৪. আইপ্যাড চালানোর ছবি
৫. পত্রিকা পড়ার ছবি
৬. ষ্টারে কাচ্চি খাওয়ার ছবি
৭. গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে ছবি
৮. রিকশায় চড়ার ছবি
৯. বসুন্ধরায় গিয়ে শাড়ি কেনার ছবি
১০. মৃণাল কান্তির সাথে গণভবনের বাগানে একান্তে ঘুরে বেড়ানোর ছবি

Image

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s