আওয়ামী লিঙ্গ প্রদর্শন

একটা ছবি দেখলাম, প্রকাশ্যে পুরুষাঙ্গ প্রদর্শনের ছবি। এই বীরপুরুষটি মুজিবীয় আদর্শের এক সোনার সন্তান, হাসিনার মানসপুত্র।

সুপ্রিমকোর্টের সামনে বিরোধীদলীয় আইনজীবি আর বিক্ষোভকারী দলের প্রতি তার বিকট রঙ এর ক্ষুদ্রাকৃতি লিঙ্গটি দেখিয়ে সে কিছু একটা বলতে চাইছে। অব্যক্ত বক্তব্যের ঝাঁজে তার হাতে ধরা বাংলাদেশের পতাকাটি তার লিঙ্গ বরাবর মাটির দিকে নুয়ে আছে। হাতের পতাকা নুয়ে থাকলেও মাথায় পতাকাপট্টি বাঁধতে অবশ্য ভুল করেনি সে। পুরো দৃশ্যটা দেখে চিন্তায় পড়ে গেলাম, কি সেই মুল্যবান কথাটি যা সে বলতে চাইতেছে প্রাণপণে?

হয়তো সে বলতে চাইছে, এই যে দেখো এইটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আসল হাতিয়ার। এইটা দিয়াই আম্রা তোমাদের মা বোনদের ঠান্ডা করি।

অথবা হয়তো সে বলতে চাইছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গেলে জাফর ষাড়ের চেতনার মালিশে এইটা বড়ো হয়। বিরোধীদলীয় পুরুষদেরকে সে একটা ডেমোনেষ্ট্রেশন দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আসতে উৎসাহিত করছে। দুঃখের বিষয় হলো তার নিম্নাঙ্গটি আন্ডারসাইজড হওয়াতে বিজ্ঞাপন ফ্লপ।

অথবা তার বক্তব্য শুধুমাত্র লিঙ্গ নির্ভর নয়, বরং এখানে পতাকাটিরও একটা ভূমিকা আছে। সে হয়তো বলতে চাইছে এই অঙ্গ দিয়ে আমরা পতাকা দাড় করিয়ে রাখি। হু হু। এই মুহুর্তে নুয়ে আছে ঠিকই কিন্তু শাহবাগে গেলে পতাকা দাড়িয়ে যায়। আম্রা মুক্তিযুদ্ধের পতাকা সমুন্নত রাখবো মুজিবসেনা। হু হু।

যাইহোক, আসল মেসেজটা কি তা জানার জন্য আমাদেরকে যেতে হবে শেখ হাসিনার কাছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই কাজের হুকুম তিনিই দিসেন। সুতরাং তিনিই জানেন কি বলতে চান তিনি এই হতভাগা জাতির উদ্দেশ্যে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রেফারেন্সিং ক্যাটাগরি প্রসঙ্গে

যারা রিসার্চ করেন, তারা জানেন রিপোর্টের মধ্যে রেফারেন্সিং না থাকার অর্থ হলো শরীরের মধ্যে প্রাণ নাই। জিনিসটার গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা দেখে পাবলিকও কথাবার্তায় রেফারেন্সিং শুরু করসে। যেমন, শাহরিয়ার কবির। উনি এতো অথেনটিক মানুষ যে রেফারেন্সিং ছাড়া কথাই বলেন না। আম্রা উনার রেফারেন্সিং এর বিষয়টা একটু খতিয়ে দেখবো। তার আগে সংক্ষেপে দেখা যাক রেফারেন্সিং সাধারণত কেমনে হয়।

খাঁটি রেফারেন্সিং – এরা বিভিন্ন রেফারেন্স পড়ে, নোট করে বা খেয়াল রাখে। তারপর সূত্র উল্লেখ করে। আর বেশি কিছু বলার নাই।

বাটপার রেফারেন্সিং – এরা একটা বই/সোর্স এ উল্লেখ করা রেফারেন্স মেরে দেয়। যেমন, চার্লস ডানিয়েল তার বইয়ে মুজিবের জানাযা নিয়ে লিখসে, ঘটনার রেফারেন্স দিসে মাইকেল হপকিন্স, উইলিয়াম সিজন এবং এন্থনি মাসকারানহার্স এবং প্রত্যক্ষদর্শী ছবুর পাগলার। আমান আবদুহু তার রিসার্চ পেপারে সবার রেফারেন্স দিসে, আসলে ডানিয়েলেরটা ছাড়া কিন্তু কোনটা পড়েনাই দেখেওনাই। কপি পেষ্ট কইরা সেকেন্ডারী সোর্সকে প্রাইমারী বানায়া দিসে। Continue reading

শাহবাগি স্কিযোফ্রেনিয়া প্রসঙ্গে

শাহবাগির দল বাংলা পরীক্ষা শেষ করে এখন ইংরেজি পরীক্ষা শুরু করসে। কাদের মোল্লার ফাঁসি হইসে, এখন শুরু হইসে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন ও পাকি পণ্য বর্জন। শাহবাগিদের এই ক্রমাগত উম্মাদনার এখন ট্রিটমেন্ট দরকার। আর ট্রিটমেন্ট শুরু করার প্রথম ধাপ হইলো রোগ চিহ্নিত করা। জনস্বার্থে আমি আগায়া আসলাম যৎসামান্য অবদান রাখতে  আপনারা জানেন এইটা আমার পুরানা অভ্যাস।

স্কিযোফ্রেনিয়া। উইকি অনুযায়ী এইটা একটা মেন্টাল ডিজঅর্ডার। থট প্রসেস এ ব্রেকডাউন ঘটে, যার ফলে এলোমেলো ইমশনাল রেসপন্স শুরু হয়। যেমন কেউ পাছায় লাথি দিলে মোম্বাত্তি জ্বালায়া বসে থাকে। অথবা কান মলা দিলে বেলুন উড়ানো শুরু করে।  Continue reading

ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক প্রসঙ্গে শাহবাগি মিথ্যাচার

মানুষের মন খুব বিচিত্র একটা জিনিস। কখনো ভাবিনি কালেকটিভলি শাহবাগিদের জন্য করুণা অনুভব করবো। কিন্তু ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাকের অসুস্থতা/মৃত্যু সংক্রান্ত মিথ্যা খবর ছড়ানো, এবং গুজব ধরা খাওয়া পরবর্তী শাহবাগি আস্ফালন/ব্যাখ্যার বহর দেখে ঠিক তাই ঘটলো।

আশ্চর্যজনকভাবে এই প্রথমবারের মতো তাদের অবস্থা দেখে কোন কৌতুক অনুভব করলাম না। কোন রাগও হলো না। একবার শুধু মনে হলো যদি পাশে বসিয়ে মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিতে পারতাম। যদি শুখার সাথে সবজি সুষম পরিমিাণে মিশিয়ে একটা ষ্টিক বানিয়ে দিয়ে স্নেহভরে বলতে পারতাম, “আহারে বেচারা, কত কষ্ট করতেসে ডেষ্টিনড টু ডুম শাহবাগি বেকুবের দল”!!!  Continue reading

পল ওয়াকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশী প্রতিক্রিয়া

ফাষ্ট এন্ড ফিউরিয়াসের নায়ক পল ওয়াকার কার এক্সিডেন্টে মারা গেছে। এতে বাংলাদেশী বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া

হাসিনা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পল ওয়াকারের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত। এ জাতি তাকে মরণোত্তর বীরপ্রতীক উপাধিতে ভুষিত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।

খালেদা: ক্ষমতায় গেলে পল ওয়াকার হত্যাকারীদের বিচার হবে।

ফরহাদ মজহার: পল ওয়াকার ছিলেন এষ্টাবলিষ্টমেন্টের বিরুদ্ধে মেহনতি জনতার আন্দোলনের প্রতীক। বিষয়টা আমাদেরকে ওয়েষ্টার্ণ কালচারাল ইমপেরিয়ালিজমের ইন্টারনাল কনফ্লিক্টের জায়গাটায় দাড়িয়ে বুঝতে হবে।

ইংলিশ মিডিয়াম আর ইউনিভার্সিটি অভ সাউথ এশিয়ার আই হেইট পলিটিক্স পার্টি: রেপ পল ওয়াকার। রেপ!

হিযবুত: পল ওয়াকার ছিলো একটা কুফফার। খুব ভালো হইসে।

জসিমুদ্দিন রাহমানি আর আওলাকির দল: আল ওয়ালা ওয়াল বারা অনুযায়ী পল ওয়াকারের মৃত্যুতে একজন সহি মুসলমানকে আনন্দিত হতে হবে। এটা ঈমানের দাবী।

শায়খ ওসামার অনুসারী: আফসুস। পল ওয়াকার আমাদের হাত ফসকে গেলো। অন্তত একটা কার বোম যদি মারতে পারতাম, উফফফ!

কনস্পিরেসি থিওরিষ্ট ইসলামিস্তো: আসলে তার পোর্শে গাড়িতে আমরা একটা ডিভাইস লাগিয়ে দিয়েছিলাম। হু হু!

জামায়াত: পল ওয়াকার?? হুমমম। লোকটা কোন দল সাপোর্ট করতো?

হেফাজত: আস্তাগফিরুল্লাহ। সিনেমা শয়তানের লাঠি।

সিপিবি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি: তার ফার্ষ্ট এন্ড ফিউরিয়াস সিনেমা, অনুন্নত দেশে চিত্রায়ন প্রভৃতি বিষয় পৃথিবীর দেশে দেশে বঞ্চিত মানুষদের সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছে।

শাহবাগি নাস্তিক: পল ওয়াকারের আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি, তিনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। আমরা আজ বিকেলে যাদুঘরের সামনে বেলুন ও মোমবাতি উড়াতে সমবেত হচ্ছি।

আমার মতো মুভি প্রেমিক: ওহ শিট!