মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রেফারেন্সিং ক্যাটাগরি প্রসঙ্গে

যারা রিসার্চ করেন, তারা জানেন রিপোর্টের মধ্যে রেফারেন্সিং না থাকার অর্থ হলো শরীরের মধ্যে প্রাণ নাই। জিনিসটার গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা দেখে পাবলিকও কথাবার্তায় রেফারেন্সিং শুরু করসে। যেমন, শাহরিয়ার কবির। উনি এতো অথেনটিক মানুষ যে রেফারেন্সিং ছাড়া কথাই বলেন না। আম্রা উনার রেফারেন্সিং এর বিষয়টা একটু খতিয়ে দেখবো। তার আগে সংক্ষেপে দেখা যাক রেফারেন্সিং সাধারণত কেমনে হয়।

খাঁটি রেফারেন্সিং – এরা বিভিন্ন রেফারেন্স পড়ে, নোট করে বা খেয়াল রাখে। তারপর সূত্র উল্লেখ করে। আর বেশি কিছু বলার নাই।

বাটপার রেফারেন্সিং – এরা একটা বই/সোর্স এ উল্লেখ করা রেফারেন্স মেরে দেয়। যেমন, চার্লস ডানিয়েল তার বইয়ে মুজিবের জানাযা নিয়ে লিখসে, ঘটনার রেফারেন্স দিসে মাইকেল হপকিন্স, উইলিয়াম সিজন এবং এন্থনি মাসকারানহার্স এবং প্রত্যক্ষদর্শী ছবুর পাগলার। আমান আবদুহু তার রিসার্চ পেপারে সবার রেফারেন্স দিসে, আসলে ডানিয়েলেরটা ছাড়া কিন্তু কোনটা পড়েনাই দেখেওনাই। কপি পেষ্ট কইরা সেকেন্ডারী সোর্সকে প্রাইমারী বানায়া দিসে।

চুদুরবুদুর রেফারেন্সিং – এইটা শাহবাগি খাসলত। যেমন ইতিহাস পরীক্ষার খাতায় রেফারেন্স দিয়া ভরায়া ফেলসে বিশিষ্ট ঐতিহাসিক মাইকেল ডারসি বলেছেন ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মদানের স্মৃতি এ জাতিকে চালিত করে’। বাস্তব দুনিয়ায় মাইকেল ডারসি নামে কোন ইতিহাসবিদ নাই। কিন্তু আবেগাক্রান্ত পরীক্ষক বাঙ্গালী জাতি ইতিহাসবিদের রেফারেন্স দেখে একশতে একশ দিয়া দেয়।

সম্প্রতি নতুন আরেকটা ক্যাটাগরীর উদ্ভব ঘটসে রিসার্চ দুনিয়ায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রেফারেন্সিং। দুইটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিস্কার হইবে। প্রথম স্যাম্পল আবুল বারাকাত। একদিন সে প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্র ইউনিয়নের তিনজন বক্তা একজন মাইক অপারেটর ও দুইজন টোকাই দর্শকের বিশাল সমাবেশে বলবে “ইসলামী ব্যাংক জামাত শিবিরের অর্থায়ন করে”। ঐটা প্রেস রিলিজ ছাপা হবে প্রথম আলোতে।

পরের সপ্তাহে সে প্রেসক্লাবের ভিতর দাখিল হইসে। যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সে আগের সপ্তাহের প্রেস রিলিজের রেফারেন্স দিয়া বলবে “জামাত শিবির বেশ কয়েকটা প্রতিষ্ঠান চালাইতেসে, খরচ উঠানোর জন্য”। এইবার গোলটেবিল বৈঠকের একটা স্মরণিকা প্রকাশিত হবে। পরের মাসে আবার আবুল বারাকাত সেই স্মরণিকার রেফারেন্স নিয়া হাজির। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশনে জাতীয় মৌলবাদ বিরোধী কনফারেন্সে এইবার সে ঐ রেফারেন্স দিয়া বলবে “এইসব প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন করতেসে আন্তর্জাতিক জঙ্গি চক্র”। এই কনফারেন্স থেকে একটা প্রসিডিংস প্রকাশিত হবে। পরের মাসে ঐ প্রসিডিংস এর রেফারেন্স হাতে আবুল বারাকাত ওয়াশিংটন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সেমিনারে মৌলবাদী অর্থনীতির থিওরী নিয়া হাজির। পুরা রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণিত। হু হু।

দ্বিতীয় স্যাম্পল মুরগী কবিরের কথাবার্তা গত পরশুদিন ছপিয়েছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। শনিবার কলকাতায় বক্তৃতা দিসে মুরগী। আরেক দালাল শামসুল হক নান্নুও বক্তৃতা দিসে, বলসে “লড়াইয়ে পরাজয়ের অর্থ জামাতের হাতে প্রাণে মারা পড়া। আর সে লড়াইয়ে ভারতের মানুষ বরাবরের মতো এ বারও তাদের পাশে”। হ আমরা বুঝসি। ভারত সেই একাত্তরে আগে থেকেই একই লুঙ্গি পরে আছে।

যাইহোক, কলকাতায় মুরগী কবিরের বক্তৃতায় সে বহুত প্রলাপ বকসে। দেবযানিকে গ্রেফতার করার কারণ হলো বাংলাদেশ নিয়ে আমেরিকার সাথে ভারতের দ্বন্ধ, হাহাহাহাহাহা। এছাড়া সে প্রমাণ করসে জামাত আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত। আল কায়েদার ছোট ছেলে ওরা। কেমনে প্রমানিত হইসে? রেফারেন্স কি? রেফারেন্স হইলো দ্য আলটিমেট জিহাদ নামের তথ্যচিত্র/ডকুমেন্টারী। ডকুমেন্টারী কে বানাইসে? মুরগী কবির। হু হু কঠিন শক্তিশালী রেফারেন্স।

জামাত আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের ছোটছেলে না দুলাভাই না কি শ্যালক তা আমার ফোকাস না। এইখানে আমার ফোকাস হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসবিদদের রেফারেন্সিং সিষ্টেমটা। এই সিষ্টেম পৃথিবীতে দুর্লভ। যোটেরো রেফওয়ার্কস ডসিয়ার এইসব সফটওয়ারের মাধ্যমে রেফারেন্সের তথ্য বসাতে গেল প্রথমেই ক্যাটাগরি সিলেক্ট করতে হয়। রেফারেন্সটা কি বই? না কি জার্নাল পেপার না ওয়েব সাইট না পত্রিকা না ভিডিও না কি এইরকম অনেকগুলো ক্যাটাগরি আছে। এখন সময় এসেছে সকল সফটওয়ারে নতুন একটা ক্যাটাগরি যোগ করার শক্তিশালী দাবী তুলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্যাটাগরি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s