নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ

সময় কখনো থামেনা। তবু চলার পথে কখনো মনে হয়, জীবন থমকে গেছে। মানুষ হয়ে জন্ম নেয়ার দায়। তারপর কোন একদিন সব কষ্ট শেষ হয়ে যায়। আজীবনের বন্ধ নিশ্বাসগুলোর ভার সরে যায়, চলে যায় অমিয় সে নিশ্বাসের শেষ ফোঁটাটুকুর সাথে। সেদিন অনন্ত বিস্ময় আর আনন্দ নিয়ে প্রাচীন পাখিদের সাথে কথা বলতে যাবো। বাতাসেরা বয়ে যেতে যেতে সেদিন ডুবিয়ে দেবে, পুরোপুরি সমর্পিত প্রনতিময় মৃত্যুর অবগাহনে। পেছনের সব ক্লেদ মুছে গিয়ে ধবল রঙা বকপাখি নতুন করে ডুব দেবে অনন্ত জীবনে।

যৎকিঞ্চিত এ জীবনের এতো তীব্র চাওয়া-পাওয়ারা অনেক দূরের বিস্মৃতি হবে। কখনো কি মনে পড়বে সেই স্বপ্নের কথা, মাটির এ পৃথিবীতে যে চোখ স্বর্গের ছায়া দেখিয়েছিলো। হয়তো অতীতে হারিয়ে যাওয়া কিছু মন খারাপেরা তখন আবছা রং হয়ে থাকবে। বিভা হয়ে দূরে থেকে যাবে। অন্য কোন অলৌকিক নারীর জরায়ু থেকে বারবার এসে তখন পৃথিবী দেখবো। অন্য কোন দোষে গুনে ভরা পুরুষের আঙ্গুল ধরে আবার বড় হয়ে উঠবো। আবার কষ্ট আর আনন্দ পাওয়ার জন্য। আবারও কৌতুহল ও স্বাধীনতাগুলোকে উপলদ্ধির ভেতর দিয়ে। অসীম রহস্যের সে দরজাটা আজ মনোরম মনে হয়। বড় আকাংখিত। চৌকাঠের কারুকাজ চোখ টেনে নেয়। এপাশের পৃথিবীতে এমন নিয়তি নিয়ে আসাটা খুব কঠিন দায়। স্রষ্টার কাছে অনুযোগ করলে তিনি কি শুনবেন!

একজন মানুষের সে টান আরেকজন কোনদিন বুঝেনা। এই পৃথিবীতে এটা হয় না। ভুল করে কেউ আশা করে ফেললে তখন দরজার ওপাশে যাওয়ার টানটাই বেড়ে যায়।

যার ওপারের সব তীব্রতাকে কোন ভাষা দিয়ে বাঁধ দেয়া যায়না। জলের ধারা বয়ে যেতে যেতে অনবরত নাচের মুদ্রা দেখায়। ঠোঁটের কোণ অপরুপ অপরিচিত এক ভঙ্গিমায় বাঁকা হয়ে থাকে। যেখানে বন্যতায় ভরা ঝর্না থেকে উথলে আসা নদীতে হাসির রেখা এঁকে দিলে কাঁচভাঙ্গা শব্দরা এসে আকাশদিগন্তকে ঢেকে দেয়। সেইসব অলৌকিক স্মৃতিগুলো কি অসীম আকাংখিত ঐ দরজা পেরুনো পর্যন্তই সঙ্গ দেবে? নিশ্বাস নিতে এতো কষ্ট কোনদিন হয়নি। অসম্ভব দেখার স্বপ্ন ছিলো জীবনভর। কিন্তু এতোটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে কেউ কখনো দেখায়নি অযোগ্যতা। অক্ষম।

Advertisements