ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক প্রসঙ্গে শাহবাগি মিথ্যাচার

মানুষের মন খুব বিচিত্র একটা জিনিস। কখনো ভাবিনি কালেকটিভলি শাহবাগিদের জন্য করুণা অনুভব করবো। কিন্তু ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাকের অসুস্থতা/মৃত্যু সংক্রান্ত মিথ্যা খবর ছড়ানো, এবং গুজব ধরা খাওয়া পরবর্তী শাহবাগি আস্ফালন/ব্যাখ্যার বহর দেখে ঠিক তাই ঘটলো।

আশ্চর্যজনকভাবে এই প্রথমবারের মতো তাদের অবস্থা দেখে কোন কৌতুক অনুভব করলাম না। কোন রাগও হলো না। একবার শুধু মনে হলো যদি পাশে বসিয়ে মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিতে পারতাম। যদি শুখার সাথে সবজি সুষম পরিমিাণে মিশিয়ে একটা ষ্টিক বানিয়ে দিয়ে স্নেহভরে বলতে পারতাম, “আহারে বেচারা, কত কষ্ট করতেসে ডেষ্টিনড টু ডুম শাহবাগি বেকুবের দল”!!!  Continue reading

Advertisements

যুদ্ধাপরাধ বিচারের নাটকে এক নীরব পার্শ্বচরিত্র, মিডিয়াও নীরব

ছোটবেলায় তিন গোয়েন্দার একটা বই পড়ছিলাম। গাড়ির কাঁচ বানায় এমন এক কারখানার মালিকের ছেলে গোপনে গাড়ির কাঁচ ভাংতো। আসল উদ্দেশ্য ছিলো বাপের কারখানার প্রডাক্টের বিক্রি বাড়ানো। কিসোর পাশা সেই রহস্যের সমাধান করে ফেলে পরে।

আওয়ামীলীগ সরকার রাজাকার আলবদরদের বিচার করতেসে। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক শত্রু জামায়াতকে নির্মুল করা। এইখানে স্বাধীনতার চ্যাতনা, শহীদ, বীরাঙ্গনা এইগুলা কেবল স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার, নিজেদের ক্ষমতার রাজনীতিতে পুঁজি মাত্র। এইটা বুঝার জন্য কিশোর পাশা হওয়ার দরকার নাই। আওয়ামী লীগ, শাহবাগির দল এবং মিডিয়ার অবস্থা অবজার্ভ করলেই বুঝা যায়।

সবাইতো নিয়মিত ফেসবুকার। নেটিজেন। সচেতন নাগরিক। কয়জন শুনছেন সৈয়দ মো: কায়সারের নাম? হ, এই কায়সার যদি জামায়াতের নেতা হইতো তাহলে সব পত্রিকা আর টিভি চ্যানেলগুলা রাতদিন কান্নাকাটি করতো। কানতে কানতে নবনীতা, মুন্নী সাহা আর সামিয়া জামানের শ্বেতপ্রদর শুরু হয়া যাইতো এতক্ষণে। গ্রামের হাটবাজারের লোকজনও কায়সারের নাম জানতো, নেটিজেন হওয়া লাগতো না।।

কিন্তু যেহেতু কায়সার জামায়াতের নেতা না, ইসলামী লেবেল লাগানো লোক না, তাই পাকবাহিনীর সহযোগী যুদ্ধাপরাধী হইলেও তার জামিন হয়া যায়। রাজনৈতিক শত্রু নিধনের এই বিচারে ক্যামোফ্লেজ দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের দালাল প্রসিকিউশন যে কয়টা পার্শ্বচরিত্রকেও নাটকে জায়গা দিসিলো, কায়সার তাদের একজন। ১৬ মে বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দুইমাস দশদিন পর ৫ আগষ্ট সোমবার ওবায়দুল হাসানের ট্রাইবুনাল তাকে জামিন দেয়। কায়সার ছিলো এরশাদের সময়কার কৃষি প্রতিমন্ত্রী। এইটা কোন ফ্যাক্টর না। তার এই জামিনের শক্তির রশি অন্য খুটাতে বান্ধা আছে। পত্রিকাগুলাও কোনমতে লুকায়া ছাপায়া দায়সারা নিউজ দিয়া ভারমুক্ত হইসে। বেশিরভাগ পত্রিকা আর টিভিতে খবরটা আসেও নাই, পুরা ব্লাক আউট। প্রথম আলোর মতো পত্রিকা ভিতরের তৃতীয় পৃষ্ঠায় কোনমতে ছোট একটা খবর ছাপাইসে।

জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি হয়। আর কায়সারের জামিন কেন হয়? কারণ প্রধানমন্ত্রীর ভাই শেখ সেলিম হইলো কায়সারের ছেলের শ্বাশুড়। তার ছোটভাই বিয়া করসে আবুল মাল মুহিতের বোনকে। আর সেই বিখ্যাত দুর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোর এমডি হইলো কায়সারের ছেলে। সুতরাং বুঝাই যায় ডিপথ্রোট দিতে গিয়া বাংলাদেশের সাংবাদিক বুদ্ধিজীবি আর শাহবাগির দলের গলায় কার যন্ত্র আটকায়া গেসে।

বলেন তো, কয়জন জামায়াত নেতাকে জামিন দিসে ট্রাইবুনাল? এমনকি আজহারুল ইসলামের মতো লোক যে যুদ্ধের সময় কিশোর বয়সী ছিলো, তারেও ডান্ডাবেড়ি পরায়ে রাখা হয়। আর কায়সারের জামিন হয়। মাননীয় আদালত, এরপরও কি বলবেন আপনি আওয়ামী লীগ নামক বেশ্যার ভাড়ুয়া দালাল নন? শাহবাগির দল, এরপরও কি তোরা বলবি এই বিচারের প্রতিবাদ করলেই জামায়াতের লোক হয়া যাইতে হবে? হ, বলবি। কারণ তোরা শাহবাগি বেজম্মা। আর মাননীয় আদালত ও বিচারপতিরা হলো বাটপারের দল, আওয়ামী দালাল। তোদের বিচার আর আইন-আদালতকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে তার মাথার উপর মুত্রত্যাগ করলাম।
Image

Image

Image