আযাদ সাইমুমঃ ভাই একটু ক্ষান্ত দেন, একটু মাফ করেন প্লিজ

ভাই বিশ্বাস করেন আমি আপনারে ফলো করে, গোয়েন্দাগিরি করে এই ছবি দেখিনাই। এক ছোটভাই দিলো। তারপর গুগল ইমেজ সার্চ করে আর কিছু দেখার বাকি নাই।

ভাই, আপনে মিশরে আছেন। এই মুহুর্তে আপনার একটা বড় দায়িত্ব ছিলো। বিশাল একটা কাজ করার সুযোগ ছিলো। তার বদলে আপনি বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের সিপাহসালার হয়া গেসেন। লোকজন কমেন্ট করে, আযাদ ভাই আপনে না থাকলে কি যে হতো আম্রা কিছুই জানতাম না অন্ধকার যুগের প্রাচীন গুহায় পড়ে থাকতাম। আপনিও খুশী। ছাগুরাও খুশী। Continue reading

Advertisements

মাধুরী সাংবাদিকতা

মনের মাধুরী মিশিয়ে সাংবাদিকতা, মজ্জা‌ই আলাদা। উফফফফ ভাবতেই আনন্দে ‘জলে চোখ ভরে যায়’!

প্রিয় ভায়েরা ও লক্ষী আপুরা! আমরা এখন একটা সংক্ষিপ্ত কর্মশালা করবো। প্রথমে একটা ছবি নিতে হবে।
তারপর আপনাকে গভীর মনযোগ দিয়ে কনটেক্সট চিন্তা করতে হবে।
তারপর চুড়ান্ত অভিনিবেশ সহকারে ভাবতে হবে, অডিয়েন্স কি খাবে। এইটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর মোটামুটি কাজ শেষ। এখন আবেগ থরোথরো একটা ক্যাপশন দিলেই আপনার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দায়িত্ব সমাপ্ত।

উদাহরণস্বরুপ, আমরা একটা ছবি নিলাম আকাশে ড্রোন বিমান উড়তেসে। উপরের পদক্ষেপগুলো ফলো করলাম। তারপর ক্যাপশন দিলাম “আতঙ্কিত মুসলিম জনপদের নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গতকাল বিকেলে কাশ্মীরের আকাশে মারণাস্ত্র বহন করে ধেয়ে আসছে দিল্লীনিয়ন্ত্রিত সুপারসনিক ড্রোন”। উরে বাপ্রে, শেয়ার আর কমেন্ট। জাযাকাল্লাহু খায়রান আখি। ওয়াল্লাহে আপনি না থাকলে আজকে তো জানতেই পারতাম না। হায়রে ভাই আর বইলেন না পুরা দুনিয়ায় মুসলিমরা নির্যাতিত। কুফফার আসছে খেলাফত কাঁপছে। এইবার একটা কিছু হবে।

এভাবে আমরা দ্বীনের খেদমত করতে পারি। এখন আমরা কেস ষ্টাডির দিকে যাবো।

গত পরশু বাইশ তারিখ কায়রোতে আমেরিকান দুতাবাসের পাশে ইসলামপন্থী ও শাহবাগিদের সংঘর্ষ হয়। ওখানে মিশরের এক অভিনেতা তারিক নাহরি নিজেই পিস্তল হাতে মুরসী সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে নেমে পড়ে। ঐ ছবি নিয়ে গতকালকে আমি আক্ষেপও করেছিলাম, সবদেশে শাহবাগিদের মিল প্রসঙ্গে। ছবিটা দিয়ে আপনি গুগুল ইমেজ সার্চ করলে প্রথমেই আল ওয়াসাত নিউজপোর্টালের লিংক আসে। ওখানে বিশাল গাব্দাগোব্দা অক্ষরে হেডলাইনে ঐ অভিনেতা শিল্পীর নাম পর্যন্ত দেয়া আছে।

যাইহোক এগুলা কোন বিষয় না। আসল বিষয় হলো আপনি ছবিটা কোন একভাবে পেয়েছেন। এখন আপনি বস্তুনিষ্ঠ মাধুরী সাংবাদিকতা করবেন। উপরের পদক্ষেপগুলো ফলো করুন। তারপর ক্যাপশন দিন “আমেরিকা দুতাবাস কায়রোর সামনে মোবারক আমলের সেনা সদস্য এভাবেই মুরসি সমর্থকদের উপর প্রকাশ্যে গুলি করে”। দুর্দান্ত!!! ‘সেনা-সদস্য’ পড়ে সবাই একটু নড়ে চড়ে বসবে। “মোবারক-আমল” হু হু বুজসি, সব আসলে ষড়যন্ত্র। দেখসো? বলসিলাম না!

এভাবেই আপনি কত বিশাল একটা মেসেজ দিয়ে দিলেন, জনগণকে লাড়ালেন, এবং মাধুরী সাংবাদিকতাও করলেন। এক ঢিলে তিন পাখি। আমরা ছাড়া এইরকম পাখি আর কে মারতে পারবে বলেন? কারণ আমরা জানি ইসলামে অনেক ঘাটতি আছে (ইয়ায বিল্লাহ)। সব কাজ সত্য দিয়ে হয়না। সিষ্টেম করে কাজ করতে হয়, এটাই দুনিয়ার নিয়ম। তাই না?

আমাদের কর্মশালার শেষ পয়েন্টটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনমতে গুগল ইমেজ সার্চ (যেই বদমাইশ বানাইসে সে ধ্বংস হউক) দিয়া দুষ্ট পাবলিকে যদি বিরক্ত করে তাহলে এইসব গায়ে লাগাবেন না। আমাদের হইলো পাহাড় সমান বস্তুনিষ্ঠতা, দুই একটা ঝামেলায় কি আসে যায়। তারপরও ভগিচগি বন্ধ না হইলে আমাদের কর্তব্য হলো ব্যাখ্যা দেয়া। ব্যাস আপনার কাজ শেষ।

যেমন কাবার ইমামের মানববন্ধন নিয়া ধরা খাইলে ব্যাখ্যা দিবেন ঐটা ফাইল ফটো। সাংবাদিকতায় এই রেওয়াজ আছে। অথবা ধরেন, এই অভিনেতা তারিক নাহরির ফটু নিয়া ধরা খাইলে ব্যাখ্যা দিবেন মিশরে আঠারো থেকে ত্রিশ বছর বয়সী সব পুরুষের সেনা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। সুতরাং সে অভিনেতা হোক শিল্পী হোক আর যাই হোক, সে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। মুরসী নিজেও মোবারক আমলের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য!! হু হু। আর কোন কথা আছে এর পর?

সবাইকে ধন্যবাদ। যাদের যাদের কর্মশালার ফি বকেয়া আছে মানিবুকার্সে পাঠায়া দিবেন। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অমর হোক।

আযাদ সাইমুম

ব্রেকিং নিউজ: জোসেফ গোয়েবলসের ইসলামী ছাগু ভার্সন আযাদ সাইমুম ভাই আবারও সফলভাবে একটি ওভার দ্য বাউন্ডারী হাঁকিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা দ্য অনিয়ন বৃটেনের রাজপুত্রের খবর সরিয়ে নতুন প্রধান শিরোনাম করেছে “আযাদ সাইমুম ষ্ট্রাইকস এগেইন: এবসলিউট ফাক্ব-আপ”।

আযাদ সাইমুম ভাই এর পিতৃপদত্ত নাম আবুল কালাম আযাদ। চেনা চেনা লাগে? তবু অচেনা। জ্বি। তিনিই আমারদেশ, বৈশাখী, দিগন্ত, বাংলাভিশন, বাশেরকেল্লা বিভিন্ন প্রচলিত ও অপ্রচলিত ধারার সংবাদমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য পৃতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। মিশরের কায়রোতে থাকেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে (আল আযহার অথবা কায়রো) পড়ালেখা করছেন বাংলাদেশের এই কৃতী সন্তান ও দ্বীনি খাদেম। কায়রোতে বসে তিনি মিশর সউদী আরব তুরস্ক প্রভৃতি অঞ্চল কাভার করেন।

তার ক্যারিয়ারে প্রথম উল্লেখযোগ্য মেডাল অভ অনার যোগ হয় কাবার ইমামের মানববন্ধন সংবাদ ও ছবিতে। তিনি ছবি নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন, কল্পনার রঙে রাঙ্গিয়ে ইসলামের খেদমত করেন। তার খেদমতের ঠেলায় আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কাবার ইমামের মিথ্যা মানববন্ধন সংবাদের জন্য দু:খপ্রকাশ করতে হয়েছে এবং বাড়তি একটা মামলা কাঁধে নিতে হয়েছে।

তবে আযাদ ভাই হটে যাওয়ার মানুষ নন। তিনি ওআইসি মহাসচিবের এক বিবৃতির অনুবাদ পরিবেশন করে আবারও হৈ চৈ ফেলে দেন। মহাসচিবের বিবৃতিতে ছিলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কামনা। জ্ঞানী আযাদ ভাই এর অনুবাদ করেন জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবী। আসলে ওআইসি মহাসচিব বিভিন্ন কুটনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কথা সরাসরি বলতে পারেননি, তাই তিনি চিন্তা করলেন নিজ দায়িত্বে বিষয়টা জনগণের সামনে পরিস্কার করে বলা দরকার। সমস্যা কোথায়?

এভাবে তিনি বিগত মাসগুলোতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে আসছেন। মিশরের ঘটনাপ্রবাহের দিকে যেহেতু সবার আকর্ষণ, তিনি আরবী ওয়েবসাইটগুলো থেকে ব্রেকিং নিউজ দিয়ে মাশাআল্লাহ গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করেছেন। গালফের যুদ্ধে সিএনএন যেমন হাঁকিয়েছিলো। যদ্দুর দেখা যায় দিগন্তের কাছে তিনি বেশ সমাদরপ্রাপ্ত সংবাদদাতা। বাঁশেরকেল্লায় তার প্রদত্ত খবর ও ছবি শেয়ার করে মিশরের ঘটনা পুরো দেশবাসীকে জানানো তো নিত্যদিনের ঘটনা। আযাদ ভাই রক্স, ইসলামী ভায়েরা আযাদ ভাইয়ের দেয়া মিশরের খবর ও ছবি বলতে খাড়ার উপরে অজ্ঞান।

গতকাল তিনি মিশরীয় এক সেনা কর্মকর্তার কান্নার ছবি দিয়ে বর্ণনা দেন: “মোবারকপন্থীদের গুলিতে নিহত মহিলা শহীদদের চিত্র দেখে মিসরের নিরাপত্তা পরিষদের উর্ধতন অফিসারও চোখে পানি ধরে রাখতে পানেনি”। তার এই আবেগ দেখে ছাগু ভায়েরাও আর আবেগ ধরে রাখতে “পাননেননা”। বাশেরকেল্লায় ছড়িয়ে দিলেন, “পানেনি” বানানটাও সংশোধন “না কনে”।

বাঙ্গালী আবেগপ্রবণ জাতি, মানসপর্দায় ভেসে আসলো পিলখানা হত্যাকান্ডের সময় ট্যাংকের উপর বসা আর্মি জওয়ান এবং কফিন কাঁধে অফিসারের কান্নার ছবি। আবেগে আবেগে ভেসে গেলু সব, বাশেরকেল্লা থেকে দুইশ আট বার এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদদাতা আযাদ ভাই থেকে আশিবার শেয়ার হলো। কমেন্টে কমেন্টে কান্না ও জিহাদী প্রত্যয়ের রোল শুরু হলো।

যাইহোক কাবার ইমামের মানববন্ধনের মতো হালকা একটু মিসটেক হয়ে গেসে। আসলে আর্মি অফিসার গতকাল কান্নাকাটি করলেও কিভাবে কিভাবে যেন ছবিটা গত বছর পত্রিকায় অগ্রিম ছাপা হয়েছিলো। তখন নিহত ১৬ জওয়ানের মৃতদেহ দেখে এক কর্ণেল কান্না করেছিলেন। জর্ডান টাইমসের সে ছবির লিংকও আবার অনলাইনে আছে। পৃথিবী এতো নিষ্ঠুর কেনু?

এ প্রসঙ্গে মতামত জানতে চাইলে মহামতি গোয়েবলস কবর থেকে বলেন, “বিষয়টা হলো আসলে অনুভবের, ভালোবাসার। আদর্শের জন্য ত্যাগ তীতিক্ষার। ছবিটা মিশরীয় সেনাবাহিনীর। তার উপর ছবির লোকটা একজন অফিসার। তিনি কান্নাও করছেন। নাইনটি নাইন পার্সেন্ট মিলে গেসে। এখন কি কারণে কান্না করছেন তা নিয়ে আপনারা এতো চিন্তিত কেন তা আমার বুঝে আসে না”।

আম্রা আযাদ সাইমুম ভাইয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনাকে আম্রা চরম শত্রু জ্ঞান করি। তবু আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনি আযাদ সাইমুমকে আপনার প্রচার উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে দরকার হলে নিজের ধ্বংস ডেকে আনুন কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমদেরকে একটু বাঁচান।