জামায়াত নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান খান

প্রথম আলোতে মিজানুর রহমান খান জামায়াত নিষিদ্ধের রায়ের উপ্রে একটা বয়ান দিয়েসেন। এখন তার উপরে আমি একটু বয়ান দিবো। খ্যাক খ্যাক 

প্রথমেই ধরে নেই, আমি জানিনা মিজানুর রহমান খান কে। কোনরকম পূর্বধারণা ছাড়া তার লেখাটা একবার পাঠ করি। অতঃপর এখন আমি জানি, মিজানুর রহমান খান একটা শাহবাগি বেজন্মা। কারণ মিথ্যা, কুযুক্তি এবং ত্যানা পেচানো ছাড়া লেখাটাতে আর কিছু নাই। এই সিষ্টেম সে শিখছে মগাচিফের কাছ থেকে, অথবা ভাইসভার্সা।

তিনি অত্যন্ত সুললিত ভাষায় পরিস্কার করে বলেছেন, দুটি পয়েন্টে তার চুলকানি আছে। মুজিবনগর সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিলো, এবং জামায়াত মওলানা মওদুদীর চিন্তাধারা অনুসরণ করে।

মুজিবনগর সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করসিলো খুব ভালো কথা, মুজিবকেই তো পনেরো আগষ্টে বাংলাদেশের মানুষ নিষিদ্ধ করে দিসিলো। সিদ্ধ নিষিদ্ধ এগুলা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। আর কয়দিন গেলে শাহবাগিগুলাই নিষিদ্ধ হইবো।

এরপর তিনি জামায়াতের দরদী শুভাকাংখী হয়ে জামায়াত নেতাদের কি করা উচিত আর কি উচিত না তার বয়ান দিয়েসেন। এই খেলা আম্রা সাধারণ মানুষ বহুদিন থেকে দেখতেসি। জামায়াতের কি করা উচিত তা নিয়ে জামায়াতীদের টেনশনের চেয়ে শাহবাগিদের টেনশন বহুগুণে বেশি। সুতরাং এইটাও নতুন কিছু না। বাসি জিনিস।

তার সবচেয়ে বড় চুলকানি হলো জামায়াত মওদুদীবাদে বিশ্বাস করে। কেউ যদি মাওলানা মওদুদীর অন্ধভক্ত হয় আর অন্ধ অনুসরণ করে, তাইলে তারে ডিফেন্ড করার কোন দায় অনুভব করিনা। আমার ব্যাক্তিগত অভিমত, জামায়াত কিছু ক্ষেত্রে গোড়ামী ও অসভ্য প্রতিক্রিয়াশীলতার পরিচয় দিসে। তাই আমি জামায়াতকে ‘অ্যাজ-এ-হোল’ ডিফেন্ড করিনা। কিন্তু তাই বইলা এই চান্সে মওলানা মওদুদীর উপর ঝাল মিটানোর কিছু নাই।

এইটা একটা চমেতকারি ল্যাঞ্জা উন্মোচন টেষ্ট। যখন দেখি কেউ মওদুদীদের গালি দিতাসে অথচ ইসলামের অন্য হাজারো দিক নিয়া কোন আগ্রহ নাই, সবসময় প্রমাণ হইসে যে এগুলা শাহবাগি মুক্তিযুদ্ধা চ্যাতনার পাবলিক। মওলানা মওদুদী মৃত্যুর পরেও ধন্য, শাহবাগিরা এখন পর্যন্ত তার নাম শুনলে তেলেবেগুণে জ্বলে উঠে ল্যাঞ্জা উদাম করে দেয়। ইসলামের ইতিহাসের বড় বড় ইমামরা পর্যন্ত বলে গেছেন, ‘আমার কথা ভুল হলে বাদ দিবা’। ঐখানে মাওলানা মওদুদী তো একজন চিন্তাবিদ মাত্র। তাঁর মতো ইসলামী স্কলার উনিশ এবং বিশ শতকে আরো অন্তত কয়েকজন ছিলেন। তাদের ভুল চিন্তার দায়ভার তাদের নিজেদের।

এইখানে একটা জিনিস মনে রাখা দরকার, মাওলানা মওদুদী যদি নিজেরে ইসলামের একটা স্বতন্ত্র চিন্তার জনক মনে করেন, তাইলে চিন্তাটাকে মওদুদীবাদ বলা যায়। যেমন মার্ক্স নিজেরে একটা চিন্তার জনক মনে করসে, সবাই বলে মার্ক্সবাদ। কিন্তু মওদুদী এইরকম কোন ডিক্লারেশন দিসিলেন কি না আমার জানা নাই। এমনকি রাসুল সা. নিজেও তো এমন কোন ডিক্লারেশন দেননাই। বরং ইসলাম হইলো আদম আ. থেকে চলে আসা ধর্ম। সুতরাং মুসলমানেও বলে না আমরা মুহাম্মদবাদে বিশ্বাস করি। একসময় মুসলিমদের ‘মোহামেডান’ বলে চালানোর জন্য ইউরোপিয় শাহবাগিরা বহুত চেষ্টা করসে। সেই চেষ্টায় কোন লাভ হয়নাই, আমরা দেখতেসি। সুতরাং মওদুদীবাদ বইলা শাহবাগি মিজান আজীবন ঘেউ ঘেউ করলেও কিছু হবেনা, বাস্তবে যদি কোন মওদুদীবাদ না থাকে।

আসল কথা হলো, মওদুদীর কথা ঠিক না বেঠিক – ঐটা মিজানের সমস্যা না। তার সকল চুলকানি অন্যখানে, সুকৌশলী গুপ্ত। আও আও ডুডু খাও বলে মমতাময়ী ও সভ্য-ভদ্র সাংবিধানিক ও আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা হ্যানতেল বালছালটাল ইত্যাদি ঘোমটাটার আড়ালে যে তার শাহবাগি বিষাক্ত চেহারা লুকানো আছে, সেইটা তিনি শেষপর্যন্ত লুকিয়ে রাখতে পারেননাই। লিখতে লিখতে মিজানুর এক পর্যায়ে নিজের উত্তেজনা আর ধরে রাখতে পারেন নাই “মওদুদীর পুরো দর্শন সংখ্যালঘু ও নারীবিদ্বেষী, শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে তাঁর অনেক মিল”।

মাওলানা মওদুদীর জানের শত্রু মাওলানা শফীর সাথে মিল খুজে পায় এই সারমেয়র দল। মিলটা কোথায় তা আম্রা জানি, খিকজ। মনের কথা পরিস্কার করে বলার সুযোগ থাকলে এরা বলতো, “মওদুদী শফি আমিনী ওবায়দুল হক মুহিউদ্দীন সাঈদী যেই হোক না কেন, এগুলা সবাই সংখ্যালঘু আর নারীবিদ্বেষী। মুহাম্মদ সা. এর সাথে এদের সবার অনেক মিল”। (আল্লাহ মাফ করুন)।

পরিশেষে, আমার মতে মিজানুরের চাইতে মগাচিফ ভালো। এই কথাগুলা সরাসরি বলেছে মগাচিফ আর খাসি আরিফুর। সবগুলার আসল চুলকানি ইসলামে। কিন্তু মিজানুর জাফর ইকবালের মতো সুবিধাভোগী শাহবাগিরা তা সরাসরি না বলে ডুডু খাওয়ায়।