আযাদ সাইমুম

ব্রেকিং নিউজ: জোসেফ গোয়েবলসের ইসলামী ছাগু ভার্সন আযাদ সাইমুম ভাই আবারও সফলভাবে একটি ওভার দ্য বাউন্ডারী হাঁকিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা দ্য অনিয়ন বৃটেনের রাজপুত্রের খবর সরিয়ে নতুন প্রধান শিরোনাম করেছে “আযাদ সাইমুম ষ্ট্রাইকস এগেইন: এবসলিউট ফাক্ব-আপ”।

আযাদ সাইমুম ভাই এর পিতৃপদত্ত নাম আবুল কালাম আযাদ। চেনা চেনা লাগে? তবু অচেনা। জ্বি। তিনিই আমারদেশ, বৈশাখী, দিগন্ত, বাংলাভিশন, বাশেরকেল্লা বিভিন্ন প্রচলিত ও অপ্রচলিত ধারার সংবাদমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য পৃতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। মিশরের কায়রোতে থাকেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে (আল আযহার অথবা কায়রো) পড়ালেখা করছেন বাংলাদেশের এই কৃতী সন্তান ও দ্বীনি খাদেম। কায়রোতে বসে তিনি মিশর সউদী আরব তুরস্ক প্রভৃতি অঞ্চল কাভার করেন।

তার ক্যারিয়ারে প্রথম উল্লেখযোগ্য মেডাল অভ অনার যোগ হয় কাবার ইমামের মানববন্ধন সংবাদ ও ছবিতে। তিনি ছবি নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন, কল্পনার রঙে রাঙ্গিয়ে ইসলামের খেদমত করেন। তার খেদমতের ঠেলায় আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কাবার ইমামের মিথ্যা মানববন্ধন সংবাদের জন্য দু:খপ্রকাশ করতে হয়েছে এবং বাড়তি একটা মামলা কাঁধে নিতে হয়েছে।

তবে আযাদ ভাই হটে যাওয়ার মানুষ নন। তিনি ওআইসি মহাসচিবের এক বিবৃতির অনুবাদ পরিবেশন করে আবারও হৈ চৈ ফেলে দেন। মহাসচিবের বিবৃতিতে ছিলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কামনা। জ্ঞানী আযাদ ভাই এর অনুবাদ করেন জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবী। আসলে ওআইসি মহাসচিব বিভিন্ন কুটনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কথা সরাসরি বলতে পারেননি, তাই তিনি চিন্তা করলেন নিজ দায়িত্বে বিষয়টা জনগণের সামনে পরিস্কার করে বলা দরকার। সমস্যা কোথায়?

এভাবে তিনি বিগত মাসগুলোতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে আসছেন। মিশরের ঘটনাপ্রবাহের দিকে যেহেতু সবার আকর্ষণ, তিনি আরবী ওয়েবসাইটগুলো থেকে ব্রেকিং নিউজ দিয়ে মাশাআল্লাহ গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করেছেন। গালফের যুদ্ধে সিএনএন যেমন হাঁকিয়েছিলো। যদ্দুর দেখা যায় দিগন্তের কাছে তিনি বেশ সমাদরপ্রাপ্ত সংবাদদাতা। বাঁশেরকেল্লায় তার প্রদত্ত খবর ও ছবি শেয়ার করে মিশরের ঘটনা পুরো দেশবাসীকে জানানো তো নিত্যদিনের ঘটনা। আযাদ ভাই রক্স, ইসলামী ভায়েরা আযাদ ভাইয়ের দেয়া মিশরের খবর ও ছবি বলতে খাড়ার উপরে অজ্ঞান।

গতকাল তিনি মিশরীয় এক সেনা কর্মকর্তার কান্নার ছবি দিয়ে বর্ণনা দেন: “মোবারকপন্থীদের গুলিতে নিহত মহিলা শহীদদের চিত্র দেখে মিসরের নিরাপত্তা পরিষদের উর্ধতন অফিসারও চোখে পানি ধরে রাখতে পানেনি”। তার এই আবেগ দেখে ছাগু ভায়েরাও আর আবেগ ধরে রাখতে “পাননেননা”। বাশেরকেল্লায় ছড়িয়ে দিলেন, “পানেনি” বানানটাও সংশোধন “না কনে”।

বাঙ্গালী আবেগপ্রবণ জাতি, মানসপর্দায় ভেসে আসলো পিলখানা হত্যাকান্ডের সময় ট্যাংকের উপর বসা আর্মি জওয়ান এবং কফিন কাঁধে অফিসারের কান্নার ছবি। আবেগে আবেগে ভেসে গেলু সব, বাশেরকেল্লা থেকে দুইশ আট বার এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদদাতা আযাদ ভাই থেকে আশিবার শেয়ার হলো। কমেন্টে কমেন্টে কান্না ও জিহাদী প্রত্যয়ের রোল শুরু হলো।

যাইহোক কাবার ইমামের মানববন্ধনের মতো হালকা একটু মিসটেক হয়ে গেসে। আসলে আর্মি অফিসার গতকাল কান্নাকাটি করলেও কিভাবে কিভাবে যেন ছবিটা গত বছর পত্রিকায় অগ্রিম ছাপা হয়েছিলো। তখন নিহত ১৬ জওয়ানের মৃতদেহ দেখে এক কর্ণেল কান্না করেছিলেন। জর্ডান টাইমসের সে ছবির লিংকও আবার অনলাইনে আছে। পৃথিবী এতো নিষ্ঠুর কেনু?

এ প্রসঙ্গে মতামত জানতে চাইলে মহামতি গোয়েবলস কবর থেকে বলেন, “বিষয়টা হলো আসলে অনুভবের, ভালোবাসার। আদর্শের জন্য ত্যাগ তীতিক্ষার। ছবিটা মিশরীয় সেনাবাহিনীর। তার উপর ছবির লোকটা একজন অফিসার। তিনি কান্নাও করছেন। নাইনটি নাইন পার্সেন্ট মিলে গেসে। এখন কি কারণে কান্না করছেন তা নিয়ে আপনারা এতো চিন্তিত কেন তা আমার বুঝে আসে না”।

আম্রা আযাদ সাইমুম ভাইয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনাকে আম্রা চরম শত্রু জ্ঞান করি। তবু আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনি আযাদ সাইমুমকে আপনার প্রচার উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে দরকার হলে নিজের ধ্বংস ডেকে আনুন কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমদেরকে একটু বাঁচান।