নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের রেজিষ্ট্রেশন বাতিলের রায়

টক অফ দ্য কান্ট্রি হইলো জামায়াতকে মডুরা ব্যান করসে। ব্যান মুবারক!

একজন সাধারণ বাংলাদেশী এবং অতিসাধারণ মুসলিম হিসেবে এই ব্যানকে আমি স্বাগত জানাই। হয়তো অনেক রাজনৈতিক কারণ ছিলো স্বাধীনতার বিরোধীতা করার। হতে পারে জামায়াত একাত্তরে অহিংস ছিলো। কিন্তু সব কিছুর পরেও বাস্তবতা হলো জামায়াত এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলো। সুতরাং বাংলাদেশে ‘জামায়াত’ নাম নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ কোন দলের থাকার কথা না, ন্যাচারালি। একইভাবে মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম অথবা পুর্ব-বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি (এমএল আবদুল হক) এর জন্যও একই কথা।

কিন্তু বাংলাদেশ হলো একটা জগাখিচুড়ি দেশ। আদর্শের কোন ঠিক ঠিকানা নাই, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার রাজনীতিতে সবকিছু অস্পষ্ট ও নৈর্ব্যক্তিক রেখে দেয়া সুবিধাজনক। আর ঐটাই সবাই করে। সুতরাং কি উচিত, আর কি উচিত না, এগুলা বাংলাদেশে কোন ধর্তব্য বিষয় না। সবচেয়ে ইন্টারেষ্টিং বিষয় হলো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার কারণে জামায়াতের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল হয়নাই, বাতিল হইছে দলটার গঠনতন্ত্রে আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্বের ঘোষণার কারণে। আমার মনে হইসে, জামায়াতের উপর হয়তো অলৌকিক কোন রহমত আছে। না হলে শেখ হাসিনা এইরকম বলদামি করলো কি ভাবে?

এই রায়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ নিজে প্রমাণ করে দিলো, এদেশের জন্মের কূল-ঠিকুজি সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়নাই। কোনদিন হবেও না। বরং তারা শুধুমাত্র ক্ষমতার রাজনীতি কন্টিনিউ করার জন্য নতুন আরেকটা চাল দিসে। আওয়ামী লীগের আরো অনেকগুলো কাজ করার পরিকল্পনা আছে। তার মাঝে এইটা ছোট একটা ধাপ। সফল হবে কি হবে না, সফলতা মাপা যাবে কখন পাঁচ বছর না পঁচিশ বছর পরে, এগুলা জানার করার ক্ষমতা কেবল আলিমুল গায়েবের।

বাংলাদেশী হিসেবে আমি আনন্দিত, কারণ এই দেশটাকে আমি ইসলামী দেশ হিসেবে দেখতে চাই। সুতরাং এই দেশে সেকুলারিজম যত আত্বঘাতি কাজ করবে, আমি ততই আনন্দিত হবো। আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্বের বিপরীতে জনগণের সার্বভৌমত্ব এইদেশের জনগণই চায় না। শাহবাগি বেজন্মারা এই দেশের সিভিল সোসাইটি হইতে পারে, কিন্তু জনগণ না। সুতরাং ব্যাকফায়ার ভালোমতো হবে, চুপচাপ বসে দেখে গেলে যথেষ্ট।

ইসলাম আর সেকুলারিজমের সংঘাতের ইতিহাসে এই রায় বিশাল একটা রেফারেন্সও হয়ে থাকবে। পুরা দুনিয়া জুড়ে। মুসলমানরা জ্ঞান বিজ্ঞানে আগায়া গেলে আর অস্ত্র বানানো শিখলে ইতিহাসের ধারা বদলাবে। আপাতত না পারলেও শক্ত ভুমিকা যে রাখবে তাতে সন্দেহ আর নাই। সেই ইতিহাসে শেখ হাসিনা, তার দল আওয়ামী লীগ, তার দালাল বিচারপতি, এবং সবার সুবাদে রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ নাম লেখায়া ফেললো। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইসলামপন্থীরাও আক্রমণাত্বক হইতে শিখবে। লুতুপুতু কোলাকুলি খেলা দিয়া দুনিয়াতে কোনদিন কিছু হয় না। আর গণতন্ত্র হইলো পানির মতো, যেই পাত্রে থাকবে সেই পাত্রের মতো রং। যেই গণতন্ত্রের অজুহাতে জামায়াতকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হলো, সেই গণতন্ত্র দিয়া আওয়ামী লীগকে শতবার নিষিদ্ধ করা কোন ব্যাপার না। কিন্তু সেকুলারিজম আর ইসলাম দুইটা চিরদিনের জন্য বিপরীত শক্তি। এখন যা হইসে তা হলো, বাংলাদেশে আল্ট্রা-সেকুলারিজমের পায়খানা পরিস্কার করার জন্য আওয়ামী লীগ হাইকোর্টকে মেথর বানিয়ে ব্যবহার করলো।

জামায়াতের নেতারা সামষ্টিকভাবে এই পর্যন্ত ধৈর্য্যশীল নির্বোধ প্রমাণিত হয়েছে। ইসলামে ধৈর্য্য যেমন আছে, বুদ্ধিমত্তাও আছে। খেলাফতপাগলা আর উগ্রপন্থীছাগলার দল জামায়াতকে হেকমতের দল বলে বাঁশ দিতে চেষ্টা করে, অথচ জামায়াতের এইগুলা এখন পর্যন্ত বিচারে কোন হেকমত না বরং ছাগলামি। তারা চরম ধৈর্য্যের প্রমাণ দিছে অলরেডি, স্বীকার না করার কোন উপায় নাই। কিন্তু হেকমত? হাহাহাহা। দিল্লী বহুত দূর। হেকমত কি জিনিস শিখতে হইলে ইজরায়েলের কাছে যাইতে হবে। কোরআন হাদীসের মূলনীতি ঠিক রেখে যেদিন ইজরায়েলের মতো কাউন্টারপার্টকে নাকানি চুবানি খাওয়াইতে পারবেন, তখন হেকমত শব্দটা উচ্চারণ করিয়েন। ঐটা উচ্চারণ করার অধিকার এখন আছে এরদোগানের, কিংবা মুরসীর। ভারত এখনো জামায়াতকে ভয় করে না, বরং জামায়াতকে নিয়ে খেলাধুলা করে। যদি বিশ পঞ্চাশ বছর পরে বিশাল একটা পরিবর্তন আসে, তখন আবার হিসাব নিকাশ উল্টে যেতেও পারে।

আমরা বর্তমানের মানুষ, বর্তমান হিসাব করি। এই পর্যন্ত নি:সন্দেহে জামায়াত হেকমতের দুরদৃষ্টি দিয়ে দরকারী কাজ করতে পারেনাই। বরং এন্টি পার্টির তবলায় ঠোকা পড়ার পর সঙ্গত করছে। কিন্তু, এই ঠুকাঠুকিতে দেশের রাজনীতি আর ক্ষমতার ডিসকোর্সে শক্ত একটা অবস্থান নিয়ে ইসলাম উঠে আসছে। ঠিক এই কারণে জামায়াত শাহবাগিদের জানের শত্রু। ঠিক এই কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াত এমন একটা পক্ষ, যার শক্তি নিয়ে বেশিরভাগ মানুষের কোন ধারণাই নাই। ঠিক এই কারণে বাংলাদেশ যদি আরো একশ বছর টিকে থাকে, একশ বছরই জামায়াতের নাম ও ভুমিকা ঘুরে ফিরে আসবে। এইখানে আপনার, আমার ও শাহবাগি জারজদের চাওয়া বা না চাওয়াতে কিছু আসবে যাবে না। বাংলাদেশের নীতিহীন রাজনীতির সুবাদে যা ঘটে গেছে, তা অলংঘনীয় অতীত। এইদেশে স্বাধীনতা ফাধীনতা এগুলা পশমের আলাপ আর অজুহাত মাত্র।।

যাইহোক, দৃঢ়ভাবে ধারণা করি এইরকম আত্বঘাতি গোল দিতে থাকলে কয়েক দশক পরে সেক্যুলার শাহবাগি বেজন্মার দল আফসোসে আফসোসে নিজেদের হাত কামড়াবে। এবং এই কারণে নগণ্য একজন মুসলিম হিসেবে আমি আনন্দিত।

ইউসুফ কারাদাভি কি মিশরে জিহাদের ডাক দিয়েছেন?

এক বন্ধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইউসুফ ক্বারাদাভী সারা পৃথিবী থেকে মুসলিমদেরকে মিশরে গিয়ে জিহাদ করার আহবান জানিয়েছেন এ বিষয়টা কি সত্যি? ক্বারাদাভীকে যতদূর জানি, এখনই এ কথা বলে হঠকারিতা করার মানুষ তিনি নন।। তবু পৃথিবীতে কিছু অসম্ভব না। সোর্স কি? পেলাম নিউজইভেন্ট২৪ডটকমের লিংক।

আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন বড় কোন ঘটনা ঘটলে ধুমধাম বিকেলের মধ্যে একটা ব্রডশিট পত্রিকা বের হয়ে যেতো। দুই পাতার দাম এক টাকা। বিশাল লাল হেডলাইনঃ ডায়ানার মৃত্যু। তারপর পুরা পত্রিকা ভর্তি শুধু হেডলাইন আর হেডলাইনঃ ডোডি ফায়েদ ও ডায়ানার রঙ্গলীলা, যুবরাজ চার্লসের সাথে এক ভবনে থেকে একবছরে একবারও শারীরিক মিলন হয়নি (সাথে একটা বিকিনি পরা ছবি), স্বপ্নকন্যা ডায়ানার রুপচর্চার গোপন রহস্য, ডায়ানার প্রেমিকদের গোপন তালিকা গোয়েন্দাদের হাতে ইত্যাদি ইত্যাদি। অথবা কখনো হতো এইরকম, বিশাল মাষ্টহেডঃ প্রেসিডেন্ট এরশাদের পতন। আর পুরা পত্রিকা ভর্তি হেডলাইনঃ কে এই রহস্যময়ী রমণী জিনাত (সাথে একটা বিশাল সানগ্লাসওয়ালা ছবি), দুর্দান্ত যৌবনা মরিয়ম যেভাবে মেরী হলেন, এরশাদের রক্ষিতাদের ছলাকলা, অফিসে বসে যৌনজ্বালা মেটানোর সময় ফার্ষ্টলেডির হঠাৎ আবির্ভাব ইত্যাদি ইত্যাদি।

এগুলো নিঃসন্দেহে কোন না কোন পত্রিকা অফিস থেকে বের হতো। কিন্তু রেজিষ্টার্ড কোন পত্রিকার নাম থাকতো না। তখন মোবাইল ফোন ছিলোনা। মানুষের তাৎক্ষণিক কৌতুহলকে পুঁজি করে কামিয়ে নেবার একটা ভালো ধান্দা ছিলো। বিক্রি হতো হটকেকের মতো। আজকাল ইন্টারনেট আছে, মানুষের কৌতুহলও বেড়ে গেছে। নিউজইভেন্ট২৪, ডিনিউজ, বাংলানিউজ২৪, এক্সওয়াইজেডনিউজ, নিউজবিডি৪৯ এরকম শত শত আবর্জনা আছে। এগুলো সব বিশ্ব ইসলামী তথ্য সাংবাদিকতার সিপাহসালার আযাদ সাইমুমের পার্টি। একমুঠো বাস্তব ঘটনার সাথে তিন চিমটে মিথ্যা কিন্তু আকর্ষণীয় বয়ান একসাথে করে একগ্লাস পানিতে দিয়ে দাও ঘুটা ঘুউটা ঘউউউটা। এগুলাকে পাত্তা দেয়ার কিছু নাই।

যাইহোক, পাত্তা না দিলেও দুনিয়ার আবর্জনা থেকে বেঁচে থাকা সহজ না। যেই ছোটভাইটা এখন জিহাদী জযবায়েতে উজ্জীবিত হয়ে ফেসবুক ব্লগে আর নিজের লুঙ্গিতে আগুন লাগাচ্ছে তার অবস্থা দেখে একটু খারাপ লাগে। বেচারা ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা জিহাদ করার জন্য সদা উন্মুখ, কিন্তু একটা দেশীয় এলজি বানানোর মতো বুদ্ধি আর জ্ঞান নাই, এসএমজি তো পরবর্তী চৌদ্দ প্রজন্মের কথা। তখন নিজেকে বুঝাই কি-ই-বা করার আছে! যাইহোক, অন্য প্রসঙ্গ থাক। দুপুরে ঐ লিংকে শিরোনাম ছিলো “বিশ্ব মুসলিম মিশরে এসে যুদ্ধ করুন: কারযাভি”। ছয় সাত ঘন্টা পর এই মুহুর্তে ঐ আবর্জনার শিরোনাম হলো “বিশ্ব মুসলিম মিশরে মুরসিকে সমর্থন করুন: কারযাভি”। আবর্জনার বোধোদয় হইসে।

একটু সার্চ দিলাম অনলাইনে। বিশাল ব্যাপার। সারা দুনিয়ায় খবর হয়ে গেছে। ইজরায়েলী পত্রিকা, খ্রিষ্টান অধিকার আন্দোলন, বজরংবলীর দল স্বয়ং সেবক স্বংঘ, মিশরের সেকুলার টিভি ও পত্রিকাগুলো এমনকি আল-আহরাম পর্যন্ত (আল-আহরাম হলো বাংলাদেশের প্রথম আলো) খেপে একাকার। ক্বারাদাভী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদেরকে মিশরে গিয়ে জিহাদ করতে ও শহীদ হতে বলেছেন/ সংঘাত উস্কে দিয়েছেন/ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি কিছুটা ভড়কে গেলাম। বাউরে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হচ্ছে আর একজন সচেতন নাগরিক হয়ে কিছুই জানিনা। জিহাদ করতে না পারি একটু সমর্থনও তো দিতে হবে। এইসব মিডিয়ার নাটের গুরু সবচেয়ে কট্টর ইসলামোফোবিক ও ভন্ড নাস্তিকদের আস্তানা জিহাদওয়াচ সাইটেও দেখি মারাত্বক ও ভয়াবহ বর্ণনা। সাথে ভিডিওর লিংক। অস্বীকার করার উপায় আছে? হুহ!

জিহাদওয়াচে দেখার পর প্রথম অনুভব করলাম কোথাও কোন গড়বড় আছে। শাহবাগিরা যখন বলে মদীনা সনদ ভালো তখন তার গভীর ও অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা থাকে। ব্যাপারটা ঠিক একইরকম সারা দুনিয়াতে। আর ক্বারাদাভী যদি মিশরে গিয়ে জিহাদ করার আন্তর্জাতিক আহবান জানান, তাহলে বিবিসি সিএনএন ফক্স নিউজ এতো সুবোধ বালকের মতো চুপচাপ বসে ডুডু খাওয়ার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু তাদের একটা ন্যুনতম মান আছে, তাই মনে যতই ইচ্ছা থাকুক জিহাদওয়াচের পর্যায়ে নামতে পারতেছে না। আর সেই জিহাদওয়াচের বাজানো পিয়ানোর তালে তালে আমার জিহাদী ভাইরা উদ্বাহু গিটার বাজিয়ে যাচ্ছেন। বাজান। কার কি করার আছে?

ক্বারাদাভীর মূল বক্তব্যটা ৩১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড। ইউটিউবে আপলাড করেছে ইসলামফাইলসটিভিওয়ান ২৭ তারিখে। এ ৫ দিনে দেখা হয়েছে ২৮,২২১ বার। কিন্তু বাংলা ইংরেজি আরবী কোন সার্চ দিয়েই এটাকে সহজে পাবেন না। যেটা সবচেয়ে সহজে পাবেন তা হলো আদদীনু লিল্লাহ নামের কোন জিহাদী হারামজাদার আপলোড করা ১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ক্লিপ। আগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা বাক্য বাদ দিয়ে আউট অভ কনটেক্সট আপলোড করে মিথ্যা শিরোনাম দিয়েছে “কারাদাভী ফতোয়া দিয়েছেন যে মিশরের সৈন্যদেরকে হত্যা করা বৈধ এবং সারা পৃথিবীর মুজাহিদদেরকে আহবান করেছেন দক্ষ সৈন্যবাহিনীকে হত্যা করার জন্য” এইটা আপলোড হয়েছে ২ দিন আগে এবং দেখা হয়েছে এ পর্যন্ত ১৭২,৯৪৫ বার। মূল ভিডিওটার বহুগুণ বেশি।

এই জিহাদীকে হারামজাদা ডাকার কারণে রাগ করছেন?  খাড়ান। জাষ্টিফিকেশন আছে। আউট অভ কনটেক্সট বাটপারি অনেকেই করে, কিন্তু এই ছাগলটা পিউর হারামজাদা। সে এই ক্লিপ নিয়েছে অন্য একটা ক্লিপ থেকে, লাইট-ডার্ক ডটনেট নামে একটা কট্টরপন্থী খ্রিষ্টান গ্রুপের ওয়েবসাইট ক্বারাদাভীর ৩১:১৪ মিনিটের পুরো বক্তব্য থেকে ৭ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটা কাটপিস বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছে এভং তাতে নিজেদের লোগো বসিয়ে দিয়েছে। মূল ভিডিওটা এডিট করে তারা ফ্রেম ছোট করে এনেছে যেন সামনে রাখা আল জাযিরার লোগোওয়ালা মাইকটা দেখা না যায়। লাইট-ডার্কের ঐ ভিডিওটাও দেখা হয়েছে এ পর্যন্ত ৫২,১২৬ বার। এই জিহাদী হারামজাদা মূল ভিডিওটাও দেখেনাই। লাইট ডার্কের ভিডিও থেকে তার দুই মিনিটের ক্লিপ কেটে নিয়েছে। মূল ভিডিওটা খুজে পেতে আমার সময় লেগেছে আধাঘন্টারও বেশি। কারণ তার বর্ণনা ও কীওয়ার্ড সম্পূর্ণ আলাদা, আলজাযিরার নিজস্ব চ্যানেলেও আপলোড করা নেই। কিন্তু জিদ চেপে গিয়েছিলো। যে কেউ সার্চ দেবে আর লাইট ডার্কের ভিডিওটা দেখবে। কারাদাভী কোন কথা বলা শুরু করলে প্রথমে অবশ্যই আল্লাহ ও রাসুল সা. এর হামদ সানা পড়েন। ঐটা কোথায়? ঐ ভিডিওর শিরোনাম হলো “সাতাশ তারিখে রাবেয়া আদাবিয়্যা চত্বরের গণহত্যা প্রসঙ্গে ইউসুফ কারাদাভীর মন্তব্য”। এইটা কেউ খুঁজে পাবেনা। কিন্তু জিহাদওয়াচের দেয়া জিহাদের কাটপিস আহবান দেখে জিহাদ করার জন্য রওনা হয়ে যাবে। আমার ব্যাক্তিগত অভিমত, এদের পিছনে শক্তিশালী রকেট ভরে আগুন লাগিয়ে দেয়া দরকার। দ্রুত উড়ে চলে যাবে জিহাদ করার জন্য। বেকুবদেরকে রেখে পৃথিবীর ওজন বাড়িয়ে লাভ নেই। এমনিতেও, পৃথিবী বেকুবদের জন্য না।

যে জায়গাটাতে বিশ্ব মুসলিমের কথা আছে তার অনুবাদ নিচে দিচ্ছি। যদি মূল সোর্স না পেতাম তাহলে অনুবাদ শেয়ার করতাম না। কারণ লাইটডার্ক অথবা জিহাদওয়াচের পক্ষে এডিটেড ভিডিও বানানো অসম্ভব কিছু না।

১৯:৩৮ মিনিট থেকে শুরু “দু:খের বিষয়, মিশরের বাইরে সাংবাদিকেরা, কিছু সাংবাদিক ছাড়া আর যাদের উপর আল্লাহ দয়া করেছেন আর তারা সংখ্যায় খুবই কম, আর কোথাও মিশরের সাংবাদিকরা, তারা সবাই মিথ্যা বলছে। ওরা মিথ্যা বলছে আল্লাহর কাছে মানুষের কাছে আর এই জাতির কাছে। কল্পনা করেন মিলিয়ন মানুষকে। ওদেরকে আমরা দেখেছি রাবেয়া আদাবিয়্যা স্কয়ারে। মিশরের বিভিন্ন স্কয়ারে। মোট ৩৫ টা স্কয়ারে আমরা তাদের দেখেছি। কিন্তু মিশরের মিডিয়া, টিভি চ্যানেল, রেডিও, পত্রিকাগুলো কাউকে এর কোন কিছুই দেখায়নি। আমি আরব লীগকে বর্তমানে মিশরে যা হচ্ছে তাতে ভূমিকা রাখার জন্য আহবান জানাই। ওআইসিকে আহবান জানাই। জাতিসংঘকে আহবান জানাই। আরব লীগের কাছে আহবান করছি। নিরাপত্তা পরিষদকে আহবান করছি। সারা পৃথিবীর সমস্ত সভ্য মানুষের কাছে আহবান করছি। আমি তাদের সবাইকে আহবান জানাই যেন তারা মিশরে আসে এবং দেখে কি হচ্ছে এখানে। হায় মিশরের মানুষ। আমি সারা পৃথিবীর মুসলিমদেরকে আহবান করছি। সব জায়গা থেকে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, সব দেশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, সোমালিয়া, ইরাক, ইরান, লিবিয়া, তিউনিসিয়া সিরিয়া লেবানন ফিলিস্তিন জর্ডান। পৃথিবীর সব দেশে। আমি তাদেরকে আহবান জানাই তারা যেন এর স্বাক্ষী হয়। আল্লাহ তাদেরকে শীঘ্রই কেয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করবেন, এই যে মানুষের উপর গণহত্যা চালানো হয়েছে তোমরা কি তা দেখেছিলে? এই পাশবিক গণহত্যা? আল্লাহর কসম, যখন আমি একে বর্বরতা নাম দিলে সত্যিকার পশুদের প্রতি অবিচার করা হবে। মানুষ যা করছে তা দেখে পশুরাও সংকোচ করবে। কাউকে খেতে চাইলে ওরা হত্যা করে এবং খায়। এভাবে হাজার হাজার হত্যা করেনা। এরা পশুর চেয়েও খারাপ …………….। আমি সারা দুনিয়ার সব মানুষকে আহবান করছি। একজন পুরুষের উচিত অবস্থান নেয়ার জন্য তাদের আহবান করছি। সভ্য ও স্বাধীন মানুষর যেমন হওয়া উচিত। সারা পৃথিবীর সভ্য ও স্বাধীন মানুষদের কাছে আহবান জানাই, তারা যেন এখানে আসে এবং এই মানুষের উপর চালানো গণহত্যা দেখে। গতাকল মিশরের এক ছোট গ্রামে ………. ”

“আমি তাদেরকে আহবান জানাই তারা যেন এর স্বাক্ষী হয়”। এখানে স্বাক্ষী শব্দটার আরবী হলো শহীদ। কারাদাভী বলেছেন ‘ইয়াকুনু শোহাদা’ অর্থ ‘তারা স্বাক্ষী হয়’। আগের ক্রিয়াপদ ‘কা-না’ দিয়ে এটা পরিস্কার। এ নিয়ে জিহাদওয়াচও ত্যানা পেচায়নাই। তারা বলেছে, কারাদাভী জিহাদের ডাক দিয়েছেন। কেউ বলেনাই যে শহীদ হওয়ার ডাক দিয়েছেন। এইটা নিয়ে গিরিংগি করার চিকন বুদ্ধি বাংলাদেশী কারও থাকলে থাকতে পারে।

কারাদভীর বয়স হয়েছে, অবসরে যাওয়া দরকার ন্যাচারালি। কিন্তু এখনো অন্তত এতোবড় পাগল হননাই যে একটা দেশীয় আভ্যন্তরীন সমস্যাকে আন্তর্জাতিক জিহাদ বানিয়ে দেবেন। ফিলিস্তিনী আর সিরিয়ানদেরকে তাদের দেশ বাদ দিয়ে মিশরে এসে জিহাদ করতে ডাকবেন। যদি মিশরের অবস্থা সিরিয়ার মতো হয় তাহলে তিনি এমনিতেই আহবান করবেন। তার আগ পর্যন্ত আপনার বেশি ইচ্ছা হইলে কারাদাভীর মুখে কথা না তুলে দিয়ে নিজেরটা নিজে বলেন। বি আ ম্যান! আর খুব বেশি ইচ্ছা হইলে, এখনি মিশরে গিয়া জিহাদ করার জন্য আর তর না সইলে উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে রকেটে উঠে যান। আল্লাহ আপনার রকেটযাত্রা সফল করুন।

http://www.youtube.com/watch?v=nx9–rUUvkA#at=982

ইসলাম ও নারী অধিকারের সংঘর্ষ লাগিয়ে শাহবাগি ফায়দা

কিছুদিন থেকে একটা নতুন ট্রেন্ড দেখছি। আগ্রহের সাথেই খেয়াল করছি। একজন প্রগতিশীল তার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জীবনে দেখতে থাকা একটা ঘটনা বলা শুরু করলো, কিভাবে একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে সমস্ত সমস্যার প্রতিকূলে গিয়ে পড়ালেখা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। খুবই ভালো লাগে জানতে। পড়তে পড়তে শেষে গিয়ে ষ্ট্যাটাসদাতা আচমকা হুংকার ছাড়েন, কোথায় সে আল্লামা শফী? তাকে এই জীবনসংগ্রামটা দেখাতে ইচ্ছা করছে।

আরেকজন বলা শুরু করেন তিনি শপিংমলে গিয়েছেন তারপর বোরকা পড়া কয়েকটা মধ্যযুগীয় উটনী এসে তার দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে ছিলো। তারা তাকে কাফের মনে করছিলো, কারণ তিনি বোরকা পরেননাই। শেষে গিয়ে সেই অপেক্ষমান চিল্‌চিক্কুর, এই বাংলাদেশে আল্লামা শফীদের ঠাই হবে না। হবে না হবে না।

আরেকজন আটপৌড়ে ভাষায় মমতা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেন বস্ত্রবালিকার জীবন সংগ্রামের কথা। পড়তে পড়তে মনে হয় আহা, আমি নিজেই একজন প্রাকৃতজন হয়ে হেটে যাচ্ছি গার্মেন্টসকর্মীদের দলের সাথে। তাদের হাসি আনন্দ দুখে আমি মানুষ হিসেবে আলোড়িত হচ্ছি। তাদের জীবনসংগ্রামের বোধ অনুভব করে শ্রেণীসংগ্রাম, পুঁজির বিকাশে প্রলেতারিয়ার ত্যাগ…… হঠাৎ কড়া ব্রেক! এবং হুংকার। এই কর্মী নারীদের বিরুদ্ধে বলতে চায় আল্লামা শফী। কত বড় স্পর্ধা।

এইমাত্র একজন দেখলাম ঢাকার এক শপিংমলে ফুডকোর্টে খেতে গিয়ে সংগ্রামী এক মেয়ের জীবনসংগ্রাম দেখে আপ্লুত হয়েছেন। সেই সংগ্রাম, তিলতিল করে গড়ে উঠা স্বপ্ন, ভবিষ্যতের আশা এইসব বলতে বলতে অনিবার্য সেই হুংকারে ফেটে পড়েছেন। কোথায় আল্লামা শফী? আয় আইজকা!! তোর একদিন কি আমার একদিন।

আল্লামা শফি তেতুলদেরকে তেতুল বলে বিরাট অপরাধ করসেন। এখন পুরা বাংলাদেশের শাহবাগি জানোয়ারের দল এক কোরাস গলায় নিয়া লুঙ্গি পেটিকোট লেগিংস পেন্টি জাইঙ্গা সব খুইলা নামসে।

যাউকগা। আমার ব্যাক্তিগত মতামত হইলো, আমি খুশী শাহবাগিদের এই উল্লম্ফন দেখে। এতোদিন তাদের অজুহাত ছিলো একটাই। ইসলামপন্থীরা স্বাধীনতার শত্রু। কত্ত মধুর সেই স্বাধীনতা! হাহাহাহা। স্বাধীনতার জুস খেয়ে আর ভুয়া ট্রাইবুনালের নাটক দেখে পাবলিকের কাছে সেই অজুহাতের মার্কেট শেষ। এখন মানুষ স্বাধীনতার চেতনার মাথার উপর মুতে।

তাই শাহবাগিরা নতুন রশি আকড়ে ধরসে। ইসলাম মেয়েদের বিরুদ্ধে। এইটা দেখে আমি খুশি কারণ এই স্পেসিফিক রশিটা আকড়ায়া ধরা ইতিহাসের অনিবার্য ধারাবাহিকতা। ঠিক এভাবে পৃথিবীর সবগুলা মুসলিম দেশে সেকুলার শাহবাগি জানোয়ারগুলা এই কার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করসে। বাংলাদেশে জোরেশোরে নতুন কইরা শুরু হইলো, এই যা পার্থক্য। একদিন এইদেশে এলকোহল খাওয়া নিয়েও শাহবাগিরা ইসলামকে আক্রমণ করবে, চ্যালেঞ্জ দিয়া বললাম।

আর নারী অধিকারের কার্ড খেলায় সেকুলার জানোয়ারদেরকে ইসলামপন্থীরা উল্টা লাথি দিতে পারবে সেইদিন, যেইদিন তারা বুদ্ধিমান হবে। নারী পুরুষে অলংঘনীয় একটা পার্থক্য আছে। আমি একটা পোলা হয়া সমঅধিকার ও নারীর সম্মান যদি প্রতিদিন একলিটার শরবত বানায়াও পান করি, তবু আমি নারীদেরকে নারীর মতো বুঝতে পারবো না। এই পার্থক্যটাকে সম্মান করা উচিত, স্বীকার করাই আপাতত বুদ্ধিমানের কাজ।

আল্লামা শফির দল যেদিন যোগ্য, বুদ্ধিমান, পড়ালেখা জানা, সৃজনশীল ও স্বাধীন চিন্তা করা মেয়েদের মুখ দিয়ে ইসলামপন্থীদের উত্তর উপস্থাপন করাইতে পারবেন, সেইদিন হয়তো কিছু আশা করা যাইবে। তার আগে পর্যন্ত এই কুত্তে কা আওলাদ শাহবাগিদের হুংকার শুনে বিনোদন নিয়ে যাই। দেশের নতুন ‘প্রজন্ম’ গুলার প্রচুর পোলাপান এই শাহবাগি ডিসকোর্সে প্রভাবিত হবে, কিন্তু আমার কি করার আছে? জাফর ইকবাল নবীর কথায় লক্ষ লক্ষ প্রভাবিত হইসে। আমি কি কিছু করতে পারসি? এইটা আল্লাহরই নিয়ম। যোগ্যতা যার আছে, তার হাতেই ছাগলের দড়ি থাকবে।

আল্লাহ মেহেরবান। ইয়া এলাহী ……

আরবদের আচরণ ও বিচার

অনেকে ভাই আছেন যারা আরব শুনলে কাত হয়ে পড়েন। আর আল্লাহ রসুলের দেশ! শুনলে তো পারলে উপুড় হয়ে যান। আরে ভাই, ওরাও মানুষ। ওদের দেশে যেমন ভালো মানুষ আছে, তেমন জানোয়ারও আছে। জানোয়ারের রেশিও বরং বেশি। অনেক আরব আছে যারা শাহবাগিদের চেয়েও খারাপ।

ইন জেনারেল আরবদের আচরণ কেমন একটা সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে দেখা যাক। গালফ কান্ট্রিগুলোতে যারা থাকেন তারা ভালো করেই জানেন, এ ধরণের ঘটনাই ওখানে সাধারণ ও নিত্যদিনের বিষয়।

দুবাইতে এক সরকারী কর্মকর্তার ফোর হুইল ড্রাইভের সাথে বিদেশী এক ওয়ার্কার ড্রাইভারের গাড়ির ধাক্কা লাগে। সেই কর্মকর্তা রাস্তায় নেমে তাকে হাত আর ইগাল (মাথায় পড়ার চাকতি, এই জিনিসের মাইর খুব খারাপ, বেল্ট এর চেয়েও বেশি ব্যাথা লাগে) দিয়ে মারতে থাকে। বেচারা ড্রাইভার কুকড়ে মুকড়ে মার খেতে থাকে। এপিয়ারেন্স পরিস্কার না, লোকটা সুদান, তামিল অথবা বাংলাদেশীও হতে পারে। এক সময় এক দয়ালু ইজিপশিয়ান এসে আমাদের আরব মুমিন ভাইকে শান্ত হতে অনুরোধ জানায়। তবু তার জোশ থামেনা।

দুর্ঘটনায় যদি সেই বিদেশী ড্রাইভারের দোষ হয় তাহলে তাকে শাস্তি দেয়ার জন্য ট্রাফিক/আইন/আদালত আছে। কিন্তু আরবদের কাছে এইগুলা ব্যাপার না। তবে সেই ড্রাইভার যদি সাদা চামড়ার আমেরিকান বা ইউরোপিয়ান হতো তাহলে দুবাই এই সরকারী কর্মকর্তাই রাস্তার উপর উপুড় হয়ে তার পা চাটতে থাকতো।

পাশে থাকা গাড়ি থেকে আরেকজন পুরো ঘটনাটা ভিডিও করে ফেলে। সে ভিডিও ইউটিউবে এসে সাড়া ফেলে দেয়। দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে মামলা হয়। পাশাপাশি সরকারী কর্মকর্তাও ভিডিও যে করেছে তার নামে মানহানির মামলা ঠুকে দেয়।

একমাস দড়ি টানাটানির পর আজকে দুবাই এর এটর্নি জেনারেল ঘোষনা দিসে, মার খাওয়া ড্রাইভারের কোন অভিযোগ নাই, তিনি অনেক সুখী হয়েছেন। আর সুতরাং মামলা ড্রপ। একই প্যাকেজে কর্মকর্তার মানহানির মামলাও ড্রপ হয়েছে। আমরাও বুঝতে পারছি। সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে থাকিলো।

যেই ভদ্রলোক সরাসরি বলেছিলেন ‘আমার মেয়ে ফাতিমাও যদি চুরি করে, তার হাত কাটা হবে’, সেই রাসুল সা. এর স্বজাতি আল্লাহ রসুলের দেশ! আরবের অবস্থা এখন এটা। একটা মানুষের ডিগনিটি, অধিকার ওখানে কোন ব্যাপার না। যদি আপনি হন গরীব দেশ থেকে আসা ক্রীতদাস। সরকারী কর্মকর্তা বলে কথা। আর রাজবংশের কেউ হলে তো কোন কথাই নাই। এইসব দেশের জানোয়ার শাসকদের জন্য মুরসী এরদোগান আহমেদিনেজাদদের মতো শাসকরা শত্রু হবে। এইটাতে অবাক হওয়ার কি আছে?

http://www.youtube.com/watch?v=cpXg4tWYsLk

মাদরাসা পড়ুয়াদের সম্পর্কে শাহবাগিদের মানসিকতা

মাদরাসায় যারা পড়ে, জীবনের শুরু থেকেই ওরা বুঝে যায় এই পড়ালেখা দিয়ে তার বাড়ি গাড়ি হবে না।
সবাইকে যখন ‘বাহ তুমি অমুক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো’ বলে বাবা-মা’রা বাহবা দেন, তখন ওরা চুপ করে সমাজের এই পিয়ার প্রেশারকে উপেক্ষা করতে শেখে।
সবাই যখন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কর্পোরেট হয়ে ভদ্রপল্লীর বিশিষ্টজন হয়, তখন তাদেরকে মাদরাসায় শিক্ষকতা ইমামতি মুয়াজ্জিনের চাকরী বা টুকিটাকি ব্যাবসা ইত্যাদি করে টিকে থাকার জন্য লড়তে হয়।
কিন্তু সবকিছুর পরেও তাদের একটা পার্থিব প্রাপ্তি আছে, যদি রিয়া/প্রদর্শনপ্রিয়তা সৃষ্টি না করে তবে সে প্রাপ্তিতে সমস্যাও নেই, বরং এটা আল্লাহর রহমত।

মাদরাসা পড়ুয়া আলেমদের জন্য মুসলিম সমাজে কিছুটা হলেও সম্মান আছে।
কত কিছুতেই না আমরা তাদের কাছে ছুটে যাই!
বাচ্চা হওয়ার পর আযান দিতে মাওলানা সাহেবকে দরকার হয়।
দরকার হয় আকীকার সময়, ছোটবেলায় কোরআন শেখানের জন্য। দেখি মাওলানা সাহেবকে ছাড়া বিয়ে করেন তো!
উনারে দরকার হয় প্রতিদিন নামায পড়াতে, জুমার খোতবা দিতে, রমযানে তারাবি পড়াতে।

শাহবাগিরা আলেম সমাজের দুর্বল স্থান, ঐ সম্মানের জায়গাটাতে আঘাত করতে উঠে পড়ে লেগেছে।
এ কয়দিনে দেখলাম চিহ্নিত শাহবাগিরা মাদরাসা পড়ুয়াদের যাকাতখোর, ফিতরা ও কোরবাণীর চামড়ার উপর নির্ভরশীল বলে হেয় করে হুলুস্থুল পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছে।
দ্বীনের খেদমত করতে গিয়ে আলেমদেরকে প্রকৃতিগতভাবে বিনয়ী হয়ে উঠতে হয়, সম্পদের অহংকার না করে বরং পরকালমুখী জীবনাচরণ শিখতে হয়।
একজন চিকিৎসক বা আইনজীবির কাছে পরামর্শ নিতে গেলে মোটা টাকা গুনতে হয়।
কোনদিন দেখলাম না একজন আলেমের কাছে যাকাত কত/ উত্তরাধিকার সম্পত্তি কি করা যায়/ বউ এর এই হইসে কি করুম এইসব ফতোয়া নিতে গিয়ে একটা টাকাও দিতে হয়।

আসল বিষয়টা হলো, যেই আওয়ামী-বাম প্রগতিশীল চক্র এই কাজ করছে, তাদের জীবনে আলেমদের প্রয়োজনীয়তা কম।
এদের কাছে ইবাদত হলো রবীন্দ্র সংগীত শোনা।
নামায পড়ার অর্থ হলো ঈদের জামাতে গিয়ে তাকবীরে হাত উঠাবে কি উঠাবে না তা নিয়ে বছরে এক দুইবার ধন্দে পড়া। ব্যাস।
বিয়ে? হাহাহাহাহাহাহা।
সুতরাং এই জানোয়ারগিরি করা এদের জন্য সহজ।
এরা নির্দ্বিধায় আলেমদের সম্মানে আঘাত করতে পারে।
কারণ সম্মান দেখানোর মানবিক যোগ্যতাটুকুও এদের নাই।

আজ এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম, একটা খাবারের ব্রান্ড হিসেবে পুরো দেশে একনামে পরিচিত কোম্পানি/গ্রুপ অভ কোম্পানিজের মালিকের ছেলে।
তার বাবা চার সন্তানের মাঝে সবার ছোটজনকে মাদরাসায় পড়িয়েছেন, ফি সাবিলিল্লাহ। একটু ধর্মভীরু ধনীদের মানসিকতা সাধারণত যেমন হয়। কিন্তু ঐ ‘গোকূলে’ সে ‘প্রহ্লাদ’ হয়ে বেড়ে উঠে পুরো পরিবারকে প্রায় বদলে ফেলেছে এখন!!
তারে জিজ্ঞাসা করলাম, এই ‘যাকাতখোর’ খোঁটা শুনতে কেমন লাগতেসে?
তার উত্তর ছিলো, “বাসার সবাই চায় আমার বাচ্চাটাকে বিদেশে পড়াই, অথবা অন্ততপক্ষে সিজিএস বা উইলিয়াম কেরী।
কিন্তু এইসব দেখে মনস্থির করে ফেলেছি, মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দিবো। তারপর বড় হয়ে সে তার নিজের ইচ্ছায় যা ভালো মনে করে পড়বে!”