নাফিসের ৩০ বছর কারাদন্ড

বেচারা নাফিস!!! এফবিআই থেকে নুসরা নিতে গিয়ে ত্রিশ বছরের জন্য জেল। আম্রিকান পেনিটেনশিয়ারির যে সুনাম, কার সাথে থাকবে কি করবে কে জানে! বয়স এখন বিশ হইলে, যখন বাইর হবে তখন তার বয়স হবে পঞ্চাশ। এক জীবন শেষ। ট্রাজেডি। আর যদি কপালে অন্য কিছু থাকে তো অন্য কিছু।

আম্রিকার ষ্ট্রিং কাজকারবার দেখে বড়ই ষ্ট্রেঞ্জ লাগে। লাদেনের পোলায় নুসরা নিলো, এক নাইনিলেভেনে পুরা দুনিয়ার মুসলমানের দল নাকানি চুবানি খাইতেসে। রিজওয়ানুল আহসান নাফিস নুসরা নিলো, ফেডারেল রিজার্ভের ঘোলচক্করে এখন তার জীবন যৌবন সব সডমাইজড। আল্লাহর দুনিয়ার বিচার বুঝা দায়। এই যে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসার জন্য দুতাবাসের এতো নুসরা নিতাসে, কোনরকমে যদি জয়রে দশবছরের জন্য আফ্রিকানাম্রিকান ভাইদের সেলমেট করা যাইতো, তাও তো মনরে একটু বুঝ দেয়া যাইতো 

কয়দিন আগে দেখলাম অলিম্পাস হ্যাজ ফলেন। আজ দেখলাম হোয়াইট হাউস ডাউন। বোগাস। কিন্তু কল্পনা করতে ভালো লাগে আম্রিকা তাসের ঘরের মতো পড়তেসে। সিনেমার শেষটা পুরা বদলায়া গেসে। অক্ষমের কল্পনা। হিযবুতি ভাইদের নুসরার আশারও তো শেষ নাই। সুতরাং আমার দোষ কি? এই জীবনে দেখার সুযোগ পামু কি না আল্লাহ মালুম।

বাংলাদেশীদের পাক-প্রেম এবং শাহবাগিদের ডাবল ষ্ট্যান্ডার্ড

দরবেশ বাবার ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি দেখছিলাম। একটা নিউজ আইটেম আসলো বাংলাদেশ হকি টিমের পাকিস্তানী কোচ নাভিদ আলম বাংলাদেশে ঈদ করছেন, তা নিয়ে। হকি ফেডারেশনের সভাপতি উইং কমান্ডার রাফি সাহেবের বাসায় তিনি ঈদের দিন কাটিয়েছেন। ক্যামেরার সামনে রাফি দরজা খুলে দিলেন, তারপর নাভিদের সাথে কোলাকুলি করলেন।

নাভিদ জানালেন, বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের ঈদ উদযাপনে নিরানব্বই ভাগ মিল আছে। তিনি বুঝতেই পারছেন না পাকিস্তানে আছেন না বাংলাদেশে আছেন। দুই তিন মিনিটের সব কথা ইংলিশে বললেন। শেষে এসে আবেগের আতিশয্যে উর্দু/হিন্দি শুরু করে দিলেন হোতা হ্যায় মোতা হ্যায় বলে। ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রগতিশীল শাহবাগি সাংবাদিকের দাত কেলিয়ে গেল। বিনয়ে কাচুমাচু করতে করতে সেও নাভিদের সাথে কোলাকুলি করলো খবরের শেষে।

বাংলাদেশে শাহবাগিরা জাতিগত একটা ফ্যাসিষ্ট মানসিকতা তৈরী করেছে দীর্ঘদিন ধরে। এই বয়কট করো সেই বয়কট করো। পাকি ক্রিকেট দলের অমুক খেলোয়ারের দাদা বাংলাদেশ দলের তমুক খেলোয়ারের দাদীকে একাত্তরে ধর্ষন করেছিলো, সুতরাং পাকি দলকে সাপোর্ট করলে তুমি দেশদ্রোহী!! চ্যাতনার মহুয়া খায়া মুক্তিযুদ্ধের নেশায় যেন পুরা জাতি মাতাল।

আর তাদের সবার খুঁটি, উর্দুলীগের নেত্রীর উপদেষ্টার টিভিতে পাকি নাভিদ এসে উর্দুতে শুভেচ্ছা জানায়, এখন সমস্যা নাই। যুদ্ধাপরাধী বিচার নামের নাটক সাকসেসফুল করতে পাকিস্তানী আইএসআই এর সাথে বসে পরিকল্পনা করে, দোষ কি!!

খবরটা দেখতে দেখতে মনে পড়ছিলো মুজিব আর ভুট্টোর একসাথে সেই বিখ্যাত ছবিটার কথা।
কৃষ্ণ করলে লীলাখেলা, আমি করলে দোষ!

ইসলাম ও নারী অধিকারের সংঘর্ষ লাগিয়ে শাহবাগি ফায়দা

কিছুদিন থেকে একটা নতুন ট্রেন্ড দেখছি। আগ্রহের সাথেই খেয়াল করছি। একজন প্রগতিশীল তার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জীবনে দেখতে থাকা একটা ঘটনা বলা শুরু করলো, কিভাবে একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে সমস্ত সমস্যার প্রতিকূলে গিয়ে পড়ালেখা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। খুবই ভালো লাগে জানতে। পড়তে পড়তে শেষে গিয়ে ষ্ট্যাটাসদাতা আচমকা হুংকার ছাড়েন, কোথায় সে আল্লামা শফী? তাকে এই জীবনসংগ্রামটা দেখাতে ইচ্ছা করছে।

আরেকজন বলা শুরু করেন তিনি শপিংমলে গিয়েছেন তারপর বোরকা পড়া কয়েকটা মধ্যযুগীয় উটনী এসে তার দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে ছিলো। তারা তাকে কাফের মনে করছিলো, কারণ তিনি বোরকা পরেননাই। শেষে গিয়ে সেই অপেক্ষমান চিল্‌চিক্কুর, এই বাংলাদেশে আল্লামা শফীদের ঠাই হবে না। হবে না হবে না।

আরেকজন আটপৌড়ে ভাষায় মমতা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেন বস্ত্রবালিকার জীবন সংগ্রামের কথা। পড়তে পড়তে মনে হয় আহা, আমি নিজেই একজন প্রাকৃতজন হয়ে হেটে যাচ্ছি গার্মেন্টসকর্মীদের দলের সাথে। তাদের হাসি আনন্দ দুখে আমি মানুষ হিসেবে আলোড়িত হচ্ছি। তাদের জীবনসংগ্রামের বোধ অনুভব করে শ্রেণীসংগ্রাম, পুঁজির বিকাশে প্রলেতারিয়ার ত্যাগ…… হঠাৎ কড়া ব্রেক! এবং হুংকার। এই কর্মী নারীদের বিরুদ্ধে বলতে চায় আল্লামা শফী। কত বড় স্পর্ধা।

এইমাত্র একজন দেখলাম ঢাকার এক শপিংমলে ফুডকোর্টে খেতে গিয়ে সংগ্রামী এক মেয়ের জীবনসংগ্রাম দেখে আপ্লুত হয়েছেন। সেই সংগ্রাম, তিলতিল করে গড়ে উঠা স্বপ্ন, ভবিষ্যতের আশা এইসব বলতে বলতে অনিবার্য সেই হুংকারে ফেটে পড়েছেন। কোথায় আল্লামা শফী? আয় আইজকা!! তোর একদিন কি আমার একদিন।

আল্লামা শফি তেতুলদেরকে তেতুল বলে বিরাট অপরাধ করসেন। এখন পুরা বাংলাদেশের শাহবাগি জানোয়ারের দল এক কোরাস গলায় নিয়া লুঙ্গি পেটিকোট লেগিংস পেন্টি জাইঙ্গা সব খুইলা নামসে।

যাউকগা। আমার ব্যাক্তিগত মতামত হইলো, আমি খুশী শাহবাগিদের এই উল্লম্ফন দেখে। এতোদিন তাদের অজুহাত ছিলো একটাই। ইসলামপন্থীরা স্বাধীনতার শত্রু। কত্ত মধুর সেই স্বাধীনতা! হাহাহাহা। স্বাধীনতার জুস খেয়ে আর ভুয়া ট্রাইবুনালের নাটক দেখে পাবলিকের কাছে সেই অজুহাতের মার্কেট শেষ। এখন মানুষ স্বাধীনতার চেতনার মাথার উপর মুতে।

তাই শাহবাগিরা নতুন রশি আকড়ে ধরসে। ইসলাম মেয়েদের বিরুদ্ধে। এইটা দেখে আমি খুশি কারণ এই স্পেসিফিক রশিটা আকড়ায়া ধরা ইতিহাসের অনিবার্য ধারাবাহিকতা। ঠিক এভাবে পৃথিবীর সবগুলা মুসলিম দেশে সেকুলার শাহবাগি জানোয়ারগুলা এই কার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করসে। বাংলাদেশে জোরেশোরে নতুন কইরা শুরু হইলো, এই যা পার্থক্য। একদিন এইদেশে এলকোহল খাওয়া নিয়েও শাহবাগিরা ইসলামকে আক্রমণ করবে, চ্যালেঞ্জ দিয়া বললাম।

আর নারী অধিকারের কার্ড খেলায় সেকুলার জানোয়ারদেরকে ইসলামপন্থীরা উল্টা লাথি দিতে পারবে সেইদিন, যেইদিন তারা বুদ্ধিমান হবে। নারী পুরুষে অলংঘনীয় একটা পার্থক্য আছে। আমি একটা পোলা হয়া সমঅধিকার ও নারীর সম্মান যদি প্রতিদিন একলিটার শরবত বানায়াও পান করি, তবু আমি নারীদেরকে নারীর মতো বুঝতে পারবো না। এই পার্থক্যটাকে সম্মান করা উচিত, স্বীকার করাই আপাতত বুদ্ধিমানের কাজ।

আল্লামা শফির দল যেদিন যোগ্য, বুদ্ধিমান, পড়ালেখা জানা, সৃজনশীল ও স্বাধীন চিন্তা করা মেয়েদের মুখ দিয়ে ইসলামপন্থীদের উত্তর উপস্থাপন করাইতে পারবেন, সেইদিন হয়তো কিছু আশা করা যাইবে। তার আগে পর্যন্ত এই কুত্তে কা আওলাদ শাহবাগিদের হুংকার শুনে বিনোদন নিয়ে যাই। দেশের নতুন ‘প্রজন্ম’ গুলার প্রচুর পোলাপান এই শাহবাগি ডিসকোর্সে প্রভাবিত হবে, কিন্তু আমার কি করার আছে? জাফর ইকবাল নবীর কথায় লক্ষ লক্ষ প্রভাবিত হইসে। আমি কি কিছু করতে পারসি? এইটা আল্লাহরই নিয়ম। যোগ্যতা যার আছে, তার হাতেই ছাগলের দড়ি থাকবে।

আল্লাহ মেহেরবান। ইয়া এলাহী ……

দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ

দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সনদ ছাড়া সরকারী চাকরীতে নিয়োগ না দেবার আহবান জানালেন দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধারা। আজকের জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তারা এ আহবান জানান। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সম্মেলনে প্রতিনিধিরা প্রশ্ন উত্থাপন করেন, শাহবাগ যদি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হয় আর ইমরান চাদর যদি দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু হয় তাহলে থাবা বাবা এবং আপোষে জেল খাটা চার নাস্তিক ব্লগার কেন বীরশ্রেষ্ঠ হবে না। তারা সম্মেলনের পক্ষ থেকে জানান, সকল শাহবাগি অবদানকারীকে যার যার অবদান অনুযায়ী বীরউত্তম ও বীরপ্রতীক খেতাব দিতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু বলেন, সকল দাবী বিবেচনা করা হবে। তিনি নতুন প্রজন্মকে দ্রুত দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহের আহবান জানান। এই সনদ না থাকলে স্বয়ং আইনষ্টাইন আসলেও কোন সরকারী চাকরী পাওয়া যাবেনা বলে তিনি অবহিত করেন। প্রজননচত্বর ডটকমে রেজিষ্ট্রেশন করে এ দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়া যাবে। এ জন্য চটিলেখক পিয়াল মামার কাছে কাঠালপাতা টেষ্ট দিয়ে রেজাল্ট নেগেটিভ হতে হবে এবং যথাযথ উৎকোচ দিতে হবে। ধন্যবাদ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সাভার নিহতদের পুঁজি করে নগদ লাভের শাহবাগি মচ্ছব ও কামড়াকামড়ি

শাহবাগ ছিলো একটা জায়গার নাম, বাংলামোটর থেকে টিএসসির মাঝখানের মোড়। এখন শাহবাগ হয়ে দাড়িয়েছে শয়তানি চেতনার নাম। আওয়ামীলীগের ঘাড়ে ভর করা বাম প্রগতিশীল চেতনা। দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের গণপ্রজননচত্বর।

একসময় দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন যুক্তিসংগত প্রশ্ন করাকেই অপরাধ মনে করতো। ত্রিশ লাখ না তিন লাখ এ প্রশ্ন করলে সম্ভব হলে মেরেই ফেলতো। শাহবাগ দেখার পর বাস্তবতা সম্পর্কে দেশের মানুষের কিছুটা উপলদ্ধি হয়েছে। মানুষ বুঝতে পেরেছে মুক্তিযুদ্ধ পুরোটাই পবিত্র ছিলো না, সাদা কালোর মাঝখানে অনেক ধুসর এলাকা ছিলো।

দেশে যখন গরীব কিশোর যুবকরা পাকবাহিনীর হাতে মারা যাচ্ছিলো, তখন আওয়ামী লীগ নেতারা কলকাতার পার্ক ষ্ট্রীটে উদ্বাস্তু বাংলাদেশী যুবতীদের ভোগ করে মদের গ্লাস নিয়ে ফুর্তি করতেন। বিয়াল্লিশ বছর পরে এসে বাংলাদেশ আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখলো। সারা দেশে পুলিশ যখন নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের পাখির মতো গুলি করে মারলো তখন শাহবাগে ইমরান সরকারের নেতৃত্বে আওয়ামী দালালের দল মদ গাঁজা আর নারীমাংস নিয়ে উৎসবে মাতাল হয়ে চুর হয়ে থাকতো।।

সারাদিন শাহবাগে আমোদ ফুর্তি করার পর ইমরান অমি পিয়াল মারুফ রসুল আরিফ জেবতিক মাহমুদ মুন্সী লাকি সীমা লাবণী গং সরকারী গানম্যান ও সিকিউরিটির চাদরে আবৃত থেকে পাজেরো চড়ে পাঁচতারকা হোটেলে গিয়ে মদ মাংসের উল্লাসে বিভোর হয়ে যেতো। মতিঝিলে যখন রাতের অন্ধকারে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়, শাহবাগীরা তখন বিদ্রুপ আনন্দে ফেটে পড়ে। সিসিটিভিতে শাহবাগিদের আসল চেহারা দেখে ফেলায় পুলিশকে পর্যন্ত খুন করেছে তারা। কিন্তু লাভ হয়নি। সময়ের সাথে সাথে এখন সারা দেশের মানুষের সামনে শাহবাগিদের আসল চেহারা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে।

শাহবাগিরা সবসময় প্রচার করতে চেয়েছে এটা দলনিরপেক্ষ আন্দোলন। প্রথম দিকে এ ধারণা ছড়িয়ে দিতে তারা সফলও হয়েছিলো। অসংখ্য সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের আশায় বুক বেঁধে শাহবাগে গিয়েছিলো। কিন্তু অল্পদিনেই তারা বুঝতে পেরেছে, তারা আওয়ামী লীগের হাতে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতারণার শিকার হয়েছে।

শাহবাগি নেতারা সবাই হয় চিহ্নিত ধর্মবিদ্বেষী উগ্র নাস্তিক, অথবা কট্টর আওয়ামী লীগার। এদের সবার সম্মিলিত স্বার্থ একটাই, তা হলো আওয়ামী লীগের কায়েমী ক্ষমতা নিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে তারা হুজুগের বেলুন ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানুষের আবেগকে পুঁজি করে এরা বাংলাদেশ থেকে ইসলাম দূর করে সেকুলারিজম প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্র করেছে। নিজেদের সামলে রাখতে না পেরে এরা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী করার মতো স্পর্ধা করেছে, হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে না বুঝতে দিয়ে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছে।

কিন্তু শাহবাগিদের মিথ্যা চেতনার এ বেলুন ফেটে যেতে বেশিদিন সময় লাগেনি। টাকা পয়সা ও ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ বিবাদ করে শাহবাগিরা নিজেরা নিজেদেরকে কামড়িয়েছে। এখনো সে কামড়াকামড়ি অব্যাহত আছে। শাহবাগের বিরাণী ও গাঞ্জা বিপ্লবের আড়ালে অঢেল টাকার যোগান ও কামরিপু পূরণের ফুর্তির আভাস পেয়ে গত কয়বাসে দেশে এসেছে লন্ডন থেকে নিঝুম মজুমদার, সুশান্ত দাসগুপ্ত এমনকি আমেরিকা থেকে বিগ প্লেয়ার সজীব ওয়াজেদ জয় পর্যন্ত। এরা টাকার ভাগ নিয়ে কামড়াকামড়ি করেছে। তারপর অনলাইনে একজন আরেকজনের চেহারার মুখোশ খুলে দিয়েছে।

সবার প্রথম বোমা ফাটায় ডা. আইজুদ্দিন নিকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শরীফ আযাদ। গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম চালানোর জন্য ফান্ড সংগ্রহের আড়ালে ইমরান সরকার যেভাবে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও ডাকাতি করেছে তার দলিল প্রমাণ সে অনলাইনে ফাঁস করে দেয়। ডা. আইজুদ্দিন দেখিয়ে দেয় ইংল্যান্ডে নিঝুম মজুমদার কিভাবে সাভার ট্রাজেডির জন্য সহায়তা সংগ্রহ করার নাম করে টাকা আত্মসাতের খেলায় মেতেছিলো। আমেরিকায় থাকা প্রিতম আহমেদ নামের এক ব্লগারও টাকা মেরে দেয়ার এ খেলায় পুরোদমে নেমে পড়ে।

কট্টর আওয়ামী লীগার ও শেখ হাসিনার ভক্ত আইজুদ্দিন হয়তো দূরে থেকে নগদ নারায়ণের ভাগ পাচ্ছিলো না। সরাসরি ইমরান সরকার, প্রিতম ও নিঝুম প্রমুখ শাহবাগি পালের গোদাদের কাপড়চোপড় খুলে দেয় সে।

Image

আওয়ামী ও বাম ব্লগারদের এ অভ্যাস অনেক পুরনো। এরা নিয়মিত সামহোয়ারইন ব্লগ ব্যাবহার করে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কালেকশানের খেলায় নামে। একশ টাকা উঠলে তা থেকে দশ বিশ টাকা লোক দেখিয়ে ভিকটিমকে দিয়ে বাকী টাকা নিজেদের ভোগে লাগিয়ে আসছে এরা গত চার পাঁচ বছর যাবত। নিয়মিত। মাহমুদ মুন্সী ওরফে স্বপ্নকথক ইব্রাহিম খলীল ওরফে সবাক পাখি এসব করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে। এসব করে এদের লোভ সীমাহীন হয়ে যায়। তাই শাহবাগ মঞ্চ ও সাভার ভবন ধ্বস কেন্দ্র করে কোটি টাকা আত্মসাতের খেলায় নেমে পড়ে এরা।

আইজু একটা ছবি দিয়ে দেখিয়ে দেয় শাহবাগিরা পাবলিকের কাছ থেকে টাকা তুলেছে। এরকম টাকা তোলা হয়েছে সারা দেশে। কেউ না দিলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী হয়ে গিয়েছে। পত্রিকায় এসেছে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে ইমরান চাদর বাহিনী। টাকা না দিলে তাদেরকে জামায়াতী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত করার হুমকি দেয়া হয়েছে। ঐ সময়ের কথা স্মরণ করলেই বুঝবেন তারা কিভাবে রামরাজত্ব করেছিলো। সরকারের চেয়েও শক্তিশালী ছায়া সরকার হয়ে দাড়িয়েছিলো শাহবাগি শুকর বাহিনী।

Image

এসময় ডা. আইজুদ্দিন কিছুদিন আগের গোপন মেইল ও মেসেজ প্রকাশ করে দিয়ে প্রমাণ করে দেয় ইমরান সরকার হলো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের রোপণ করা দলীয় দালাল। নির্দলীয় কোন মানুষ এই চাদরবাবা না। আইজুর দেয়া তথ্যে ফাঁস হয়ে যায়, শাহবাগের গণপ্রজনন চত্বর পুরোটাই সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগের সাজানো নাটক।

Image

ডা. আইজুদ্দিন যখন এসব ফাঁস করে দেয় তখন শাহবাগিরা মরিয়া হয়ে আইজুদ্দিন নিকের আড়ালে থাকা দুই মধ্যবয়সী বিকৃত রুচির শয়তান শরিফ আজাদ ও মেসকাতের পরিচয়, ছবি, বউ এর ছবি, ঠিকানা ফোন নাম্বার ইত্যাদিও ফাঁস করে দেয়। যথার্থ শুকরছানার মতো তারা তাদের জন্মদাতা এটিমের গুরু আইজুর পাছায় কামড় বসিয়ে দেয়।

Image

আমেরিকায় আইজু ওরফে শরিফ সাহেবের লুচ্চামি ও পুলিশের কাছে ধরা খাওয়ার প্রমাণও হাজির হয়ে যায়।

Image

এর ভেতরে সুশান্ত ও নিঝুমের কাঁদা ছোড়াছুড়ি এখনো চলছে। ডা. আইজুর পোষ্টগুলো সব ব্লগ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বেশিরভাগ শাহবাগি নিজেদের ফেসবুক কেলেংকারি বয়ান মুছে দিয়েছে, নিজেদের আইডি ডিএকটিভেট করে রেখেছে। কিন্তু এসব করে চোর শাহবাগিরা নিজেদের চরিত্র বদলাতে পারেনি, লুকাতেও পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের নাম দিয়ে এই তস্কর ও চোর-বাটপারের চক্র যে ব্যাবসা ফেঁদে বসেছে পুরো দেশের সামনে তা আজ নাঙ্গা হয়ে গিয়েছে।

Image

শাহবাগি কমরেডদের পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝা যায় লুচ্চা অমি পিয়াল সম্পর্কে লন্ডনী চাঁই নিঝুম মজুমদারের কিছু মন্তব্যে।

Image

টাকা পয়সার ভাগাভাগি নিয়ে এদের কামড়াকামড়ি এখন চলমান। নিজেদের গ্রুপিং এর ফলে গোপন তথ্য বের করে দিচেছ এরা। দেখা যাচ্ছে লীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে ঢাবির ভেন্যু ব্যাবহার করে পঞ্চাশ হাজার টাকা ভাড়া টা পর্যন্ত এরা দেয়নি। কত বড় ছ্যাচ্ছর এই শাহবাগি শুকরের দল, কত বড় ছোটলোক, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঢাবি ব্যাবহার করেছে, এখন ন্যুনতম পাওনা টাকাটাও দেয়ার কোন খবর নাই। এই হলো শাহবাগিদের আসল চেহারা। সত্যিকার বাটপারি মানসিকতা। জয় দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ।

Image

সূত্র:
১. আমারব্লগে ডা. আইজুর পোষ্ট। আওয়মী মালিক সুশান্ত সব মুছে দিয়েছে।
২. প্রজন্মব্লগে ডার্কজাষ্টিসের পোষ্ট। আওয়ামী মালিক ইমরান সরকার মুছে দিয়েছে।
৩. সামহোয়ারে মৌসুম দাশের পোষ্ট। আওয়ামী মালিক জানা মুছে দিয়েছে।
৪. আমারব্লগে মনির নিকের পোষ্ট।
৫. ফেসবুকে এদের নিজেদের কামড়াকামড়ির ষ্ট্যাটাস ও মন্তব্যসমুহ। এরা পরে নিজেরাই বিভিন্ন সময় মুছে দিয়েছে।তবু অনলাইনে চাইলেই সব মুছে ফেলা যায় না। আগ্রহীরা চাইলে নিচের লিংকগুলোতে ও গুগলক্যাশে এদের কামড়াকামড়ি দেখতে পারেন।

 

 

বাংলাদেশী রাজনীতির সাম্প্রদায়িকতাকরণ ও হিন্দুদের মানসিকতা

সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে অনেকে বড় বড় বুলি কপচায়।
বাংলাদেশে যে যত বড় রেসিষ্ট সাম্প্রদায়িক, সে নিজেকে তত বেশি প্রগতিশীল দাবী করে।
আওয়ামী লীগ পুলিশ প্রশাসন, বিচার ব্যাবস্থা আর জনপ্রশাসনকে গণহারে হিন্দুকরণ করেছে।
হিন্দুদের প্রতি কোন বিদ্বেষ নাই, কিন্তু যখন কেউ তার ধর্মের সুযোগে ফায়দা উঠাবে তা মেনে নেয়া যায় না।
ইন্টারনেটে গত কয়বছর ধরে ইসলামের বিরুদ্ধে যে ঘৃণ্য কার্যকলাপ হয়ে আসছে, তার পেছনে আছে কয়েকটা মাষ্টারমাইন্ড হিন্দু।
পশ্চিমবঙ্গ আর ইউরোপ থেকে এরা বাংলাদেশে ঘৃণা ছড়াচ্ছে।
মুসলিমরা এখন এর শিকার হচ্ছে।
চট্টগ্রামের জামালখানে গিয়েছিলাম শাহবাগি মঞ্চ দেখতে।
দলে দলে দিদি আর বউদিদের দেখে এক বন্ধুকে বলেছিলাম, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।
শাহবাগি পেজগুলো কয়েকদিন ফলো করেন, দেখবেন দত্ত রায় কুমার দাস চক্রবর্তীদের ছড়াছড়ি।
তাদের মৌসুম লেগে গেসে।
একাত্তর সাল থেকে এই সাম্প্রদায়িক হিন্দুগুলো অপেক্ষা করছিলো।
এদের দৌরাত্বে ভালো হিন্দুরা আজ সংখ্যালঘু, জায়নবাদী ইসরায়েলের দৌরাত্বে ঠিক যেভাবে ভালো ইহুদীরা সংখ্যালঘু।
এই হিন্দুদের আসল মানসিকতা হালকা কিছুটা দেখা যায় হিন্দু মেয়ের মুসলিম ছেলে বিয়ে করার ছবির মন্তব্যগুলোতে।
কুৎসিত যৌনতাবাদী হিন্দু, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও ঐ মেয়েটিকে প্রশ্ন করে, কাটা পেনিসের মজা কি বেশি?
গুড জব সাম্প্রদায়িক হিন্দু ভাইলোগ! বাংলাদেশ তো এখন তোমাদের রামরাজত্ব।
দাশগুপ্তরা মহানন্দে দিয়ে যাচ্ছে, কারণ পেঁয়াজখেকো যবনের দলের চেয়ে বড় মুনাফিক সেবাদাস পৃথিবীতে আর কোথাও পাওয়া যাবে না।